সংবাদ শিরোনাম ::
নওগাঁয় বাবার সঙ্গে স্ত্রীর পরকিয়া, অভিমানে ছেলের আত্মহত্যা মুরাদনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ‘ছাত্রদলের’ বিক্ষোভ মিছিল ঝুঁকিপূর্ণ বেইলী  ব্রীজ ধসে পড়ায়  ঢাকা-পাথরঘাটা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ কুমিল্লা মুরাদনগরে নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে মিছিল, ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা যাত্রী ছাউনির এখন সাবেক চেয়ারম্যানের বৈঠকখানা পরিবহণ মালিক সমিতির সাথে মতবিনিময় সভা  রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হওয়ায় জিয়া পরিষদের আহ্বায়কসহ ৩ জনকে বদলী এক্সপ্রেসওয়ের ‘ক্ষমতার ত্রিভুজ’ ম্যাক্স–মাহফুজ–কাজী সমীকরণে ঘনীভূত বিতর্ক! দুই মামলায় দীপু মনির জামিন দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

শেখ নুরুল ইসলাম স্বপদে বহাল, ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলার একাধিক প্রকল্পে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নামমাত্র কাজ কিংবা কোনো কাজই সম্পন্ন না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এই দুর্নীতির সঙ্গে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তার যোগসাজশে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অর্থ লোপাটে সরাসরি জড়িত ছিল।

নথিপত্রে দেখা যায়, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২৮টি ভুয়া বা কল্পিত স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি।

এর পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (CAFDARID)-এর আওতায় ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থের বড় একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজগুলো ভাগিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোনো তদারকি ছাড়াই এবং কাজের পরিমাপ বই (এমবি) প্রস্তুত না করেই ভুয়া বিল তৈরি ও অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালীন শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এসব অনিয়মে সরাসরি অনুমোদন ও তদারকির ভূমিকা পালন করেন। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই তিনি কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আত্মসাৎ করা বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ তার কাছে পৌঁছাত। এর বিনিময়ে তিনি অধস্তন কর্মকর্তাদের এই দুর্নীতিতে উৎসাহ ও সুরক্ষা প্রদান করতেন।

এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে লুটপাট হওয়াকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য চরম অবমাননাকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এলজিইডির ভাবমূর্তিকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এখন সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এই ‘দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটে’র বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাবার সঙ্গে স্ত্রীর পরকিয়া, অভিমানে ছেলের আত্মহত্যা

শেখ নুরুল ইসলাম স্বপদে বহাল, ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলার একাধিক প্রকল্পে।

অভিযোগ অনুযায়ী, নামমাত্র কাজ কিংবা কোনো কাজই সম্পন্ন না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এই দুর্নীতির সঙ্গে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এলজিইডি বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, তার প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুর ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনর্বাসন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, IBRP, CAFDARID, PDRIDP এবং BDIRWSP প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। তার যোগসাজশে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা বিভাগের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অর্থ লোপাটে সরাসরি জড়িত ছিল।

নথিপত্রে দেখা যায়, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১২৮টি ভুয়া বা কল্পিত স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বেশি।

এর পাশাপাশি, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (CAFDARID)-এর আওতায় ৬৯টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি বিল উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থের বড় একটি অংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজন কিংবা বেনামি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজগুলো ভাগিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোনো তদারকি ছাড়াই এবং কাজের পরিমাপ বই (এমবি) প্রস্তুত না করেই ভুয়া বিল তৈরি ও অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালীন শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এসব অনিয়মে সরাসরি অনুমোদন ও তদারকির ভূমিকা পালন করেন। প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই না করেই তিনি কোটি কোটি টাকার বিল ছাড়ের অনুমোদন দেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, আত্মসাৎ করা বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ তার কাছে পৌঁছাত। এর বিনিময়ে তিনি অধস্তন কর্মকর্তাদের এই দুর্নীতিতে উৎসাহ ও সুরক্ষা প্রদান করতেন।

এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পিরোজপুর শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ ও ২০১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের করের টাকা এভাবে লুটপাট হওয়াকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য চরম অবমাননাকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ এলজিইডির ভাবমূর্তিকেও বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এখন সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এই ‘দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটে’র বিরুদ্ধে আদৌ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।