সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান জানান দিতে হবে

সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক (ডিপ্লোমেটিক) অবস্থান জানান দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ইদানিং সীমান্ত হত্যা আবার হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। সরকারকে সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারত সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে সীমান্তে কেন হত্যা বাড়ছে, সরকারকে সেই জবাবদিহি চাইতে হবে।
রোববার (১০ মে) বিকালে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি : সারোয়ার তুষার
বিস্তারের রাজনীতিতে ব্যস্ত এনসিপি, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ‘ধীরগতি’
আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও সীমান্ত হত্যার সময় তারা কথা বলে না; কোনো পদক্ষেপ নেয় না। তখন আমাদের মনে হয়, আসলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এটি তাদের কেবল মুখের বুলি। কাজের ক্ষেত্রে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই না।
এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানে ‘বুলডোজার নীতি’ দেখছি। সেখানকার মুসলমানদের ওপর এক ধরনের নৃশংস আক্রমণ ও হামলা চালানো হচ্ছে, যা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে আমরা ভারতের বিভিন্ন অংশের জনগণকে পাশে পেয়েছি; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই বিবৃতি ও বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। যখন এনআরসি আইন করা হয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলন হয়েছিল, তখন আমরা তাদের সমর্থন জানিয়েছি। জনগণের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, তা অব্যাহত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গে যারা হামলার শিকার হচ্ছেন, যারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার (কমিউনাল ভায়োলেন্স) শিকার হচ্ছেন এবং একটি উগ্রবাদী শক্তির দ্বারা নিষ্পেষিত হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমরা সম্প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাচ্ছি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সরকার এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা বা সময়সীমা দেয়নি। নির্বাচনটি কীভাবে ও কোন সময়ে হবে, তার কোনো টাইমলাইন আমাদের দেওয়া হয়নি। সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কবে হবে, তাও জানানো হয়নি। তারা বলছেন ‘অতি দ্রুত’, কিন্তু এই ‘অতি দ্রুত’ পাঁচ বছরও হতে পারে, আবার তিন মাসও হতে পারে। আমরা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি। আমরা দেখছি, যারা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা পদে থেকেই ভোট চাচ্ছেন। প্রশাসনের কাজ নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের দেয়াল ভরে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি তো গণতন্ত্রের কথা বলে বিগত ১৮ বছর রাজনীতি করেছে। কিন্তু তারেক রহমান ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করছেন। আমরা আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার দাবি জানিয়েছি। প্রশাসক হিসেবে যারা নিয়োজিত আছেন, তারা সেই পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি অংশগ্রহণ করেন, তবে নির্বাচনটি বিতর্কিত ও একপাক্ষিক হবে এবং কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না।
এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব, তা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। আমরা মনে করছি, খুব দ্রুত একে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সময়ে কার দোষ বেশি বা কার কম, সেটি বড় কথা নয়, বরং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। হাম বৃদ্ধির পেছনে কাদের গাফিলতি বা অনিয়ম জড়িত আছে, তা-ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় আমরা বারবার শুনেছি যে, নির্বাচিত সরকার এলে সব সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমান সরকার আসার পরও বারবার শুনছি যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো আছে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। জনগণের নিরাপত্তায় এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি আমরা সারা দেশেই দেখতে পাচ্ছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান জানান দিতে হবে

আপডেট সময় ০৫:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক (ডিপ্লোমেটিক) অবস্থান জানান দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ইদানিং সীমান্ত হত্যা আবার হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। সরকারকে সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারত সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে সীমান্তে কেন হত্যা বাড়ছে, সরকারকে সেই জবাবদিহি চাইতে হবে।
রোববার (১০ মে) বিকালে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি : সারোয়ার তুষার
বিস্তারের রাজনীতিতে ব্যস্ত এনসিপি, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে ‘ধীরগতি’
আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও সীমান্ত হত্যার সময় তারা কথা বলে না; কোনো পদক্ষেপ নেয় না। তখন আমাদের মনে হয়, আসলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এটি তাদের কেবল মুখের বুলি। কাজের ক্ষেত্রে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই না।
এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানে ‘বুলডোজার নীতি’ দেখছি। সেখানকার মুসলমানদের ওপর এক ধরনের নৃশংস আক্রমণ ও হামলা চালানো হচ্ছে, যা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে আমরা ভারতের বিভিন্ন অংশের জনগণকে পাশে পেয়েছি; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই বিবৃতি ও বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। যখন এনআরসি আইন করা হয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলন হয়েছিল, তখন আমরা তাদের সমর্থন জানিয়েছি। জনগণের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, তা অব্যাহত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গে যারা হামলার শিকার হচ্ছেন, যারা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার (কমিউনাল ভায়োলেন্স) শিকার হচ্ছেন এবং একটি উগ্রবাদী শক্তির দ্বারা নিষ্পেষিত হচ্ছেন, তাদের প্রতি আমরা সম্প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাচ্ছি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সরকার এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা বা সময়সীমা দেয়নি। নির্বাচনটি কীভাবে ও কোন সময়ে হবে, তার কোনো টাইমলাইন আমাদের দেওয়া হয়নি। সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কবে হবে, তাও জানানো হয়নি। তারা বলছেন ‘অতি দ্রুত’, কিন্তু এই ‘অতি দ্রুত’ পাঁচ বছরও হতে পারে, আবার তিন মাসও হতে পারে। আমরা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি। আমরা দেখছি, যারা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা পদে থেকেই ভোট চাচ্ছেন। প্রশাসনের কাজ নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের দেয়াল ভরে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি তো গণতন্ত্রের কথা বলে বিগত ১৮ বছর রাজনীতি করেছে। কিন্তু তারেক রহমান ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্রের গলা টিপে হত্যা করছেন। আমরা আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার দাবি জানিয়েছি। প্রশাসক হিসেবে যারা নিয়োজিত আছেন, তারা সেই পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি অংশগ্রহণ করেন, তবে নির্বাচনটি বিতর্কিত ও একপাক্ষিক হবে এবং কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না।
এনসিপি মুখপাত্র আরও বলেন, দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব, তা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। আমরা মনে করছি, খুব দ্রুত একে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সময়ে কার দোষ বেশি বা কার কম, সেটি বড় কথা নয়, বরং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। হাম বৃদ্ধির পেছনে কাদের গাফিলতি বা অনিয়ম জড়িত আছে, তা-ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় আমরা বারবার শুনেছি যে, নির্বাচিত সরকার এলে সব সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমান সরকার আসার পরও বারবার শুনছি যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো আছে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। জনগণের নিরাপত্তায় এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি আমরা সারা দেশেই দেখতে পাচ্ছি।