জাতীয় গৃহায়নে পুনর্বাসন প্লটের আমমোক্তার দলিলি গ্রহণে কর্মকর্তাদের সই জাল করার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু কর্মচারী ও দালাল চক্রের সদস্যদের যোগসাজশে মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার রোড-১৯/২ এর ৯/১ নং পুনর্বাসন প্লটটির দলিল গ্রহণে এ জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।
জাতীয় গৃহায়নের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সদস্য এস এম সোহরাব হোসেন, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের স্বাক্ষর জাল করে আমমোক্তার দলিলি গ্রহণ দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে গতকাল বুধবার শাহবাগ থানা পুলিশ দালাল চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন মো. সজিব ও মো. ইমরান।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আছেন জাতীয় গৃহায়নের হিসাব সহকারী মো. রিয়াজুল, হিসাব সহকারী জাহিদুল ইসলাম, হিসাব সহকারী রফিকসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী। একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ‘জাতীয় গৃহায়নের ফাইল এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে নেবেন অফিস সহকারী বা কর্মচারীরা। কিন্তু এই অফিসে দালাল চক্রের সদস্যরা অফিস সহকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেরাই ফাইল নিজ হাতে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান।’ তিনি বলেন, ‘স্বাক্ষর জালিয়াতি এবারই প্রথম নয়, এর আগে বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। সেসব ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আশকারা পেয়ে আবার জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।’
দুই দালালকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘তবে গৃহায়নের যেসব কর্মচারী জড়িত, তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অভিযোগ লেখা হচ্ছে, তদন্ত করে তাদের ধরা হবে।’
আমমোক্তার দলিলি গ্রহণের চিঠিতে উল্লিখিত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মিরপুর সেকশন-১৩, ব্লক-সি, লেন-৬ এর ২৪/৩ নং পুনর্বাসন প্লটটি ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর ১১৮৯২/কসে নং স্মারক মূলে ছায়েদা খাতুন, স্বামী-তাইজুল ইসলামের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মিরপুর সেকশন-১৩, ব্লক-সি, লেন-৬ এর ২৪/৩ নং পুনর্বাসন প্লটটির পরিবর্তে রূপনগর আবাসিক এলাকার রোড-১৯/২ এর ৯/১ নং পুনর্বাসন প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর বরাদ্দ গ্রহীতা আলোচ্য পুনর্বাসন প্লটটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রেজিস্ট্রিকৃত দলিল নং-১১৫/২০২৬, তারিখ-০৬-০১-২০২৬ মূলে মো. শাহীনুর রহমান, পিতা মো. জাহাঙ্গীর আলম মজনু, মাতা-সুমী আক্তার লিলিকে আমমোক্তার নিযুক্ত করেন। ইস্যু রেজিস্টার যাচাই করে ইস্যু সহকারী মতামত প্রদান করেছেন। বর্তমানে বরাদ্দ গ্রহীতা ওই আমমোক্তারনামা দলিলটি গ্রহণের অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন। আমমোক্তার দাতা ও গ্রহীতা এ দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। এ অবস্থায় প্লটটি মো. শাহীনুর রহমানের অনুকূলে আমমোক্তারনামা দলিল গ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
জানতে চাইলে হিসাব সহকারী মো. রফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘আমার কাছে ফাইল আইছে, আমি বুঝে নিয়েছি। চালানের টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।’ আমমোক্তার দলিল গ্রহণে স্বাক্ষর জালা করার জন্য কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন, এমন অভিযোগ আছে। এর জবাব তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা। আমি কিছুই জানি না।’
ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফকির মুহাম্মদ মুনাওয়ার হোসেন বলেন, ‘স্বাক্ষর জাল হয়েছে কি না আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নই।’
এ বিষয়ে কথা বলতে জাতীয় গৃহায়ন (অর্থ ও প্রশাসন) আলমগীর হুসাইনের কক্ষে একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। জাতীয় গৃহায়ণের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমকেও একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তিনিও কোনো সাড়া দেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























