ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা রাজউক ইমারত পরিদর্শক মোঃ আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পাদক-প্রকাশক পরিষদের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে আয়ান, খায়রুল ও মতিউর কালবৈশাখীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত বালিয়াডাঙ্গী মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বার্ষিক বনভোজন  -২০২৬ অনুষ্ঠিত অভিযোগে ভারী সাবেক এসপি নির্যাতন, অর্থ আদায় ও দুর্নীতির চিত্র সামনে ফরম্যাট বদলাতেই ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন, সমস্যা দেখেন না লিটন মাতৃগর্ভে ভাগ্যের ভালো-মন্দ নির্ধারণ হয় যেভাবে ময়মনসিংহে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড় সাফ ও বিদেশি কোটার ২ জন করে বিদেশি নেওয়ার প্রস্তাব

রামগঞ্জে জিয়া শপিং কমপ্লেক্স সংস্কার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত জিয়া শপিং কমপ্লেক্সে সংস্কারের নামে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে মূল নকশা ভেঙে অডিটোরিয়াম উচ্ছেদ, পার্কিং দখল ও চতুর্থ তলার ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণে ভবনটিতে দুর্ঘটনা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দোকান ৩০-৪০ লাখে বরাদ্দ দিলেও সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গাছ নিধন ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ধ্বংস করে কমপ্লেক্সটির নাম পরিবর্তনের এ চক্রান্তে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে মার্কেটটির নাম পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে অনিয়ম বন্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক চিঠি দিলেও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও এলাকাবাসীর। জানা গেছে, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ অনিয়মের বিষয়ে পাঁচবার মার্কেটটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, মার্কেটটি প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পর ২০২২ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত মো. শাহজাহান, তার অনুগত অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা মিলে জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করেন। নিয়ম না মেনে তারা ‘রামগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স’ নামকরণ করেন। মার্কেটের তৃতীয় তলার অডিটোরিয়াম ভেঙে নতুন করে ৮৬টি দোকান নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া মূল ভবনের নিরাপত্তা গেট, পার্কিং, সিঁড়ি ঘর, লিফট রুম ও ওয়াশরুম বন্ধ করে দোকান নির্মাণ করা হয়।

পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজস্ব ব্যক্তির নামে দোকানগুলো বরাদ্দ দেন তারা। প্রতিটি দোকানের বরাদ্দ মূল্য ৩০-৪০ লাখ টাকা হলেও সরকারি কোষাগারে মাত্র ২-৩ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

মার্কেটের ব্যবসা পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেন হেলাল বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশার বাইরে চতুর্থ তলার কাজ চলছে। অসাধু কর্মকর্তারা মার্কেট সংস্কারের নামে বহু গাছ কেটে নিয়েছেন। তারা দোকান বরাদ্দের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।’ একই দাবি করেন ওই কমিটির সদস্য মাসুদ আলম।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসক ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, নিয়ম থাকলেও জেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ অথবা বর্ধিতকরণের জন্য পৌরসভার অনুমতি নেওয়া হয়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, ‘জিয়া শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটের কোনো নাম পরিবর্তন হয়নি। অনিয়ম সম্পর্কে আমার জানা নেই।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ লাইসেন্সে ৬৬৪ কোটির ঘুষ কেলেঙ্কারি: বদলি নাটক, আড়ালে মূলহোতা আতা মোল্লা

রামগঞ্জে জিয়া শপিং কমপ্লেক্স সংস্কার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

আপডেট সময় ০২:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত জিয়া শপিং কমপ্লেক্সে সংস্কারের নামে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজনৈতিক প্রভাবে মূল নকশা ভেঙে অডিটোরিয়াম উচ্ছেদ, পার্কিং দখল ও চতুর্থ তলার ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণে ভবনটিতে দুর্ঘটনা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দোকান ৩০-৪০ লাখে বরাদ্দ দিলেও সরকারি কোষাগারে নামমাত্র টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গাছ নিধন ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ধ্বংস করে কমপ্লেক্সটির নাম পরিবর্তনের এ চক্রান্তে চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে মার্কেটটির নাম পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

এদিকে অনিয়ম বন্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক চিঠি দিলেও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল ও এলাকাবাসীর। জানা গেছে, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন তারা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রামগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ অনিয়মের বিষয়ে পাঁচবার মার্কেটটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, মার্কেটটি প্রতিষ্ঠার ১৯ বছর পর ২০২২ সালে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রয়াত মো. শাহজাহান, তার অনুগত অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা মিলে জিয়া শপিং কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করেন। নিয়ম না মেনে তারা ‘রামগঞ্জ শপিং কমপ্লেক্স’ নামকরণ করেন। মার্কেটের তৃতীয় তলার অডিটোরিয়াম ভেঙে নতুন করে ৮৬টি দোকান নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া মূল ভবনের নিরাপত্তা গেট, পার্কিং, সিঁড়ি ঘর, লিফট রুম ও ওয়াশরুম বন্ধ করে দোকান নির্মাণ করা হয়।

পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজস্ব ব্যক্তির নামে দোকানগুলো বরাদ্দ দেন তারা। প্রতিটি দোকানের বরাদ্দ মূল্য ৩০-৪০ লাখ টাকা হলেও সরকারি কোষাগারে মাত্র ২-৩ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

মার্কেটের ব্যবসা পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাকির হোসেন হেলাল বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নকশার বাইরে চতুর্থ তলার কাজ চলছে। অসাধু কর্মকর্তারা মার্কেট সংস্কারের নামে বহু গাছ কেটে নিয়েছেন। তারা দোকান বরাদ্দের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।’ একই দাবি করেন ওই কমিটির সদস্য মাসুদ আলম।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসক ফারাশিদ বিন এনাম বলেন, নিয়ম থাকলেও জেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ অথবা বর্ধিতকরণের জন্য পৌরসভার অনুমতি নেওয়া হয়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুন নাহার বলেন, ‘জিয়া শপিং কমপ্লেক্স মার্কেটের কোনো নাম পরিবর্তন হয়নি। অনিয়ম সম্পর্কে আমার জানা নেই।’