দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী শাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে ১৬ এপ্রিল উপজেলার ৫৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগপত্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলফিকার আলী শাহ ২০২৩ সালের ২০ মার্চ বীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া, ফাইল আটকে রাখা এবং অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকেরা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন তিনি।
শিক্ষকদের দাবি, ২০২২ সালে উপজেলার ১০টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিটি এমপিও ফাইল প্রেরণের জন্য তিনি বারবার মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। টাকা না দিলে ফাইল ফেরত দেওয়া বা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
বীরগঞ্জ জনতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আসমাউল হুসনা অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া বীরগঞ্জ উপজেলার ১০টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে তাঁর বিদ্যালয়টিও ছিল। বিদ্যালয়টির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষকদের দুই ধাপে বিল ধরানোর ফাইল পাঠানো হয়। প্রথম ধাপে চার শিক্ষকের বিল ধরানো হয়। পরে তাঁর ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিল ধরানোর ফাইল পাঠানোর জন্য তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার আলী শাহকে ২ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হন। এ ছাড়াও খরচ হিসেবে আরও কয়েক হাজার টাকা দেন।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণভিটা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, তাঁর বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে প্রশিক্ষণ চলাকালে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে শিক্ষক সমাজে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
প্রাণনগর আইডিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উনি (উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। সবকিছুতেই তাঁর টাকা চাই। মাস ছয়েক আগে পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে গাছ লাগানো বাবদ ৫ হাজার টাকা করে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেটির চেক গ্রহণ করতে গেলে সকল প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে বাধ্যতামূলক ৬০০ টাকা করে নগদে দিয়ে চেক নিতে হয়।’
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, বীরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আহসান হাবীব বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শিক্ষকেরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী শাহ। তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব কটি অভিযোগ মিথ্যা। যাঁদের কাজ করে দিতে পারেননি, তাঁরা সংঘবদ্ধ হয়ে অন্যদের জোরজবরদস্তি ও মারধর করে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এমপি স্যারের কাছে শিক্ষকেরা একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না। এমপি স্যারও আমাকে বিস্তারিত কিছু জানাননি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















