সংবাদ শিরোনাম ::
আওয়ামী দোসর নবীরুলকে ঘিরে সমবায় অধিদপ্তরে দুর্নীতি ঘুষ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ডিএনসিসির সিসিটিভি ও এআই নেটওয়ার্ক এখনও সাবেক প্রশাসক এজাজের নিয়ন্ত্রণে! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিলল একাধিক গোপন পথ হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন বিদেশি মাকড়সা কিংবা সাপ কেন আনা হচ্ছে বাংলাদেশে? এবার আনিস আলমগীর, সোমা ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিডি বরগুনায় হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন  চিকিৎসকদের সনদ বিতরন ও বিদায় সংবর্ধনা ব্রাজিল ম্যাচের আগে নরওয়ে শিবিরে বড় ধাক্কা সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ আগে ২৫-২৬ দেশ থেকে জ্বালানি কিনতো ভারত, এখন কেনে ৪০ দেশ থেকে: মোদি

জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি মার্চ ২০২৬ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের ধরতে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী দোসর নবীরুলকে ঘিরে সমবায় অধিদপ্তরে দুর্নীতি ঘুষ ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে

আপডেট সময় ০৪:০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি মার্চ ২০২৬ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।

সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতকারীদের ধরতে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।