ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি দর্শক ফেরাতে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন পিসিবি প্রধান রাজশাহীর মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, মানববন্ধনে ক্ষোভ হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার গুঞ্জন ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী বদলি: এলাকায় স্বস্তি, তদন্তের দাবি পটুয়াখালীতে সংস্কার কাজে অনিয়ম, ঝুঁকিতে গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে নানা ধরনের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ রেলওয়ের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে টেন্ডার কারসাজি, অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগটি করেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং, যারা নিজেদেরকে বঞ্চিত এবং প্রক্রিয়াগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (রেল ভবন) সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন শেষ না করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেছেন। শুধু তাই নয়, একই ধরনের কাজের জন্য প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ করার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্য অনুযায়ী, রেল ভবনের ৯ম ও ১০ম তলায় ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম স্থাপনের জন্য প্রথম দফায় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ইজিপি পোর্টালের মাধ্যমে দুটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। ওই টেন্ডারগুলোর আইডি ছিল ১১৪২৮৯১ এবং ১১৪৪৪৬২। সে সময় প্রতিটি টেন্ডারের পে-অর্ডার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন (এপিপি) ছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের কাজের জন্য পুনরায় নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি আহ্বান করা এই নতুন টেন্ডারগুলোর আইডি ছিল ১১৯২৮৫৩ এবং ১১৯৪৫১১। এ পর্যায়ে এসে পে-অর্ডারের পরিমাণ বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪ লাখ ২৫ হাজার এবং ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায় – যেখানে একটি টেন্ডারের এপিপি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং অন্যটির ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, একই প্রকৃতির কাজের ক্ষেত্রে এত বড় পরিসরে ব্যয় বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায় এবং অন্য প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বে আহ্বান করা টেন্ডারগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না করেই নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় নীতিমালার পরিপন্থী। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না করা এবং অংশগ্রহণকারীদের টেন্ডার সিকিউরিটি ফেরত না দেওয়া একটি গুরুতর প্রশাসনিক ব্যত্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছে, নতুন টেন্ডারে যোগ্যতার মানদণ্ড এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান সহজেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ কার্যত নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি কোনোভাবেই এককভাবে বা আকস্মিকভাবে ঘটতে পারে না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ফল।

এদিকে অভিযোগে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এ ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতা সীমিত করে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই প্রভাব ফেলে।

রেলওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যখন সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার বলা হচ্ছে, তখন এ ধরনের অভিযোগ আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। তারা মনে করে, এতে করে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কারণ, সাধারণত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে আগ্রহী থাকেন।

এদিকে রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অতীতেও টেন্ডার কারসাজি এবং অতিমূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি

রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:২৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি, অপচয় এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে নানা ধরনের অনিয়ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প, ক্রয় কার্যক্রম এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। সর্বশেষ রেলওয়ের একটি টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে এমন অভিযোগ সামনে এসেছে, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকেই আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

রেলওয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে টেন্ডার কারসাজি, অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগটি করেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং, যারা নিজেদেরকে বঞ্চিত এবং প্রক্রিয়াগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করেছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (রেল ভবন) সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এবং পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন শেষ না করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করেছেন। শুধু তাই নয়, একই ধরনের কাজের জন্য প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ করার ইঙ্গিত দেয়।

তথ্য অনুযায়ী, রেল ভবনের ৯ম ও ১০ম তলায় ডিজিটাল কনফারেন্স সিস্টেম স্থাপনের জন্য প্রথম দফায় ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট ইজিপি পোর্টালের মাধ্যমে দুটি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। ওই টেন্ডারগুলোর আইডি ছিল ১১৪২৮৯১ এবং ১১৪৪৪৬২। সে সময় প্রতিটি টেন্ডারের পে-অর্ডার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন (এপিপি) ছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের কাজের জন্য পুনরায় নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি আহ্বান করা এই নতুন টেন্ডারগুলোর আইডি ছিল ১১৯২৮৫৩ এবং ১১৯৪৫১১। এ পর্যায়ে এসে পে-অর্ডারের পরিমাণ বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪ লাখ ২৫ হাজার এবং ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায় – যেখানে একটি টেন্ডারের এপিপি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং অন্যটির ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, একই প্রকৃতির কাজের ক্ষেত্রে এত বড় পরিসরে ব্যয় বৃদ্ধি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে, যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায় এবং অন্য প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পূর্বে আহ্বান করা টেন্ডারগুলোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না করেই নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় নীতিমালার পরিপন্থী। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না করা এবং অংশগ্রহণকারীদের টেন্ডার সিকিউরিটি ফেরত না দেওয়া একটি গুরুতর প্রশাসনিক ব্যত্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং তাদের অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছে, নতুন টেন্ডারে যোগ্যতার মানদণ্ড এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান সহজেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ কার্যত নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়েছে বলে তারা মনে করছে।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি কোনোভাবেই এককভাবে বা আকস্মিকভাবে ঘটতে পারে না, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগের ফল।

এদিকে অভিযোগে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এ ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো এবং প্রতিযোগিতা সীমিত করে দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই প্রভাব ফেলে।

রেলওয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যখন সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার বলা হচ্ছে, তখন এ ধরনের অভিযোগ আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্যা কার্মস ইঞ্জিনিয়ারিং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে বর্তমান টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং পূর্ববর্তী টেন্ডারের মূল্যায়ন পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। তারা মনে করে, এতে করে প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যাবে।

অভিযোগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী সৈয়দ মো. শাহিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কারণ, সাধারণত এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে আগ্রহী থাকেন।

এদিকে রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অতীতেও টেন্ডার কারসাজি এবং অতিমূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে রয়েছে।