সংবাদ শিরোনাম ::
আমির খানের তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটের সম্পদের পরিমাণ কত? উদ্যোক্তা ও সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ, গোপালগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত ইসিতে এনআইডির জরুরি সেবা বন্ধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ রাজশাহীতে অফিসেই সংসার পেতেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম মুগদায় ‘কিটুবাজার ডটকম’এর আড়ালে ভেজাল ওষুধের কারখানার সন্ধান গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের স্বপ্ন লুটে ৩০০ কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ার অভিযোগ দেশ ছাড়ছেন দুদকের চার্জশিটভুক্ত আসামি মামুন বড়লেখার সাবাজপুর চা বাগানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম সেরা ১০০ জনপ্রিয় লেখক এর মধ্যে ১ম হলেন তৌফিক সুলতান

দেশের তরুণ লেখক-বুদ্ধিজীবীদের সবচেয়ে গতিশীল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত “Popular Authors Top 100” বা “সেরা ১০০ জনপ্রিয় লেখক”-এর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন তরুণ লেখক তৌফিক সুলতান। ৬২৭ জন সদস্যের ভিড়ে এই প্রথম স্থান অর্জন তার লেখনীর গভীরতা, পাঠকপ্রিয়তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের একটি অনন্য স্বীকৃতি।
সংগঠনের পরিচয় ও র‌্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্ব
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম একটি জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের তরুণ লেখক, চিন্তাবিদ ও মতামতপ্রকাশকারী নাগরিকদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা। বিভিন্ন পাবলিক, ইসলামী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গঠিত এই ফোরামটি নিয়মিতভাবে সদস্যদের লেখা মূল্যায়ন করে মাসিক ও বার্ষিক সেরা লেখকের তালিকা প্রকাশ করে থাকে।
ফোরাম সূত্রে জানা যায়, এই তালিকা প্রণয়নের পেছনে পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ, লেখার ওপর মন্তব্য, শেয়ারের সংখ্যা এবং লেখার তথ্যগত মান বিবেচনা করা হয়েছে। তৌফিক সুলতানের লেখাটি এই সকল মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে তাকে শীর্ষে স্থান করে দিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় ও পরবর্তী স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মোঃ তায়ীম খান, আখতার হোসেন আজাদ, মোছাঃ ইসমা খাতুন, শুভ কর্মকার এবং মোঃ রবিউস সানি জোহার মতো প্রতিভাবান তরুণ লেখকবৃন্দ।
তৌফিক সুলতান: শুধু একজন কলামিস্ট নন, বহুমাত্রিক লেখক
তালিকা অনুযায়ী, তৌফিক সুলতান সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাথে সম্পৃক্ত। তবে তার পরিচয় শুধু একজন কলামিস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মোঃ তৌফিক সুলতান (আল তৌফিকী) ১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি একাধারে একজন কবি, লেখক এবং শিক্ষক। পেশাগত জীবনে তিনি ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক & সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে তার একাধিক কবিতা ও প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত কাব্যগ্রন্থ “হৃদয় থেকে রচিত” পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। তার এই বহুমাত্রিক প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায় তার কলামগুলোতে, যা তথ্যের গভীরতা ও উপস্থাপনার সাবলীলতায় অনন্য।
বিজয়ী কলাম “জুমার দিন সাপ্তাহিক ঈদ, মুমিনের শ্রেষ্ঠ দিবস”
তৌফিক সুলতানের যে কলামটি তাকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, সেটির শিরোনাম “জুমার দিন সাপ্তাহিক ঈদ, মুমিনের শ্রেষ্ঠ দিবস”। এই কলামটি একটি আধ্যাত্মিক ও তথ্যবহুল রচনা, যেখানে লেখক পবিত্র জুমার দিনের অসামান্য গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে যুক্তি ও তথ্যের নিরিখে তুলে ধরেছেন। নিচে কলামটির মূল বিষয়বস্তু ও তার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
জুমার দিনের মাহাত্ম্য: কোরআন ও হাদিসের আলোকে
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-জুমুআহ (সূরা নং ৬২) এদিনের নামেই অবতীর্ণ হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে। এই সূরার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম) ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।” এই আয়াতটি জুমার নামাজকে মুমিনের জীবনে কতটা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, তার স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।
এছাড়া একাধিক সহিহ হাদিসে এদিনের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন: “সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে”। এই হাদিসটি দিনটির ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
‘সাপ্তাহিক ঈদ’ ও ‘গরিবের হজ’: আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
লেখক তার কলামে জুমার দিনকে ‘মুমিনের সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এটি একটি বিশুদ্ধ হাদিসের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, যেখানে রাসুল (সা.) বলেন: “মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮)। আরেক হাদিসে তিনি বলেন: “মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন”। এই উপমা জুমার দিনের আনন্দ ও ইবাদতের বিশেষ মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে।
তাছাড়া, এই দিনটিকে ‘গরিবের হজ’ বলা হয়। যারা আর্থিক বা শারীরিক সক্ষমতার অভাবে পবিত্র হজ পালন করতে পারেন না, তাদের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা হজের সওয়াব লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। এটি ইসলামের সাম্যের সৌন্দর্যকেও তুলে ধরে যে, ইবাদতের পুরস্কার শুধু আর্থিক সঙ্গতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
বিশেষ আমল ও সুন্নত: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা
তৌফিক সুলতানের কলামটি শুধু তথ্য পরিবেশনেই থেমে থাকেনি; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। তিনি জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন: জুমার নামাজের পূর্বে ফরজ গোসল করা, মেসওয়াক করা এবং উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত।
২. দ্রুত মসজিদে গমন: আগেভাগে মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছাকাছি বসার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে একে একটি উট কুরবানি করার সমতুল্য সওয়াবের কাজ বলা হয়েছে।
৩. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত: জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং সে দাজ্জালের ফিতনা থেকেও নিরাপদ থাকে।
৪. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তের সন্ধান: কলামটিতে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, ইমাম যখন খুতবার জন্য মিম্বরে বসেন তখন থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই কলামটি সেরা হলো: একটি বিশ্লেষণ
পাঠকমহলে এই লেখাটি এতটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি চিরন্তন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়। জুমার গুরুত্ব সবার জানা থাকলেও এর পেছনের কোরআন-হাদিসের সুনির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার অনেকেরই অজানা। দ্বিতীয়ত, লেখকের তথ্যনির্ভর ও গবেষণাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি কলামটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। তৃতীয়ত, লেখক একজন শিক্ষক হওয়ায় তার উপস্থাপনার সাবলীলতা ও গোছানো কাঠামো পাঠককে সহজেই বিষয়বস্তুর গভীরে নিয়ে যেতে পেরেছে।
তৌফিক সুলতানের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, সৃজনশীলতা ও তথ্যের সুষম সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তরুণ লেখকরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের এই উদ্যোগ তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি পাঠকমহলে তথ্যনির্ভর চিন্তার প্রসার ঘটাবে বলেই আশা করা যায়।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমির খানের তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটের সম্পদের পরিমাণ কত?

বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম সেরা ১০০ জনপ্রিয় লেখক এর মধ্যে ১ম হলেন তৌফিক সুলতান

আপডেট সময় ১১:৪৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশের তরুণ লেখক-বুদ্ধিজীবীদের সবচেয়ে গতিশীল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত “Popular Authors Top 100” বা “সেরা ১০০ জনপ্রিয় লেখক”-এর মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন তরুণ লেখক তৌফিক সুলতান। ৬২৭ জন সদস্যের ভিড়ে এই প্রথম স্থান অর্জন তার লেখনীর গভীরতা, পাঠকপ্রিয়তা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের একটি অনন্য স্বীকৃতি।
সংগঠনের পরিচয় ও র‌্যাঙ্কিংয়ের গুরুত্ব
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম একটি জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করছে, যার মূল লক্ষ্য দেশের তরুণ লেখক, চিন্তাবিদ ও মতামতপ্রকাশকারী নাগরিকদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা। বিভিন্ন পাবলিক, ইসলামী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গঠিত এই ফোরামটি নিয়মিতভাবে সদস্যদের লেখা মূল্যায়ন করে মাসিক ও বার্ষিক সেরা লেখকের তালিকা প্রকাশ করে থাকে।
ফোরাম সূত্রে জানা যায়, এই তালিকা প্রণয়নের পেছনে পাঠকের সক্রিয় অংশগ্রহণ, লেখার ওপর মন্তব্য, শেয়ারের সংখ্যা এবং লেখার তথ্যগত মান বিবেচনা করা হয়েছে। তৌফিক সুলতানের লেখাটি এই সকল মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করে তাকে শীর্ষে স্থান করে দিয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় ও পরবর্তী স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে মোঃ তায়ীম খান, আখতার হোসেন আজাদ, মোছাঃ ইসমা খাতুন, শুভ কর্মকার এবং মোঃ রবিউস সানি জোহার মতো প্রতিভাবান তরুণ লেখকবৃন্দ।
তৌফিক সুলতান: শুধু একজন কলামিস্ট নন, বহুমাত্রিক লেখক
তালিকা অনুযায়ী, তৌফিক সুলতান সমন্বিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাথে সম্পৃক্ত। তবে তার পরিচয় শুধু একজন কলামিস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মোঃ তৌফিক সুলতান (আল তৌফিকী) ১৯৯৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি একাধারে একজন কবি, লেখক এবং শিক্ষক। পেশাগত জীবনে তিনি ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমির ব্যবস্থাপনা পরিচালক & সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে তার একাধিক কবিতা ও প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে। তার রচিত কাব্যগ্রন্থ “হৃদয় থেকে রচিত” পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। তার এই বহুমাত্রিক প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট দেখা যায় তার কলামগুলোতে, যা তথ্যের গভীরতা ও উপস্থাপনার সাবলীলতায় অনন্য।
বিজয়ী কলাম “জুমার দিন সাপ্তাহিক ঈদ, মুমিনের শ্রেষ্ঠ দিবস”
তৌফিক সুলতানের যে কলামটি তাকে এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, সেটির শিরোনাম “জুমার দিন সাপ্তাহিক ঈদ, মুমিনের শ্রেষ্ঠ দিবস”। এই কলামটি একটি আধ্যাত্মিক ও তথ্যবহুল রচনা, যেখানে লেখক পবিত্র জুমার দিনের অসামান্য গুরুত্ব ও তাৎপর্যকে যুক্তি ও তথ্যের নিরিখে তুলে ধরেছেন। নিচে কলামটির মূল বিষয়বস্তু ও তার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
জুমার দিনের মাহাত্ম্য: কোরআন ও হাদিসের আলোকে
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-জুমুআহ (সূরা নং ৬২) এদিনের নামেই অবতীর্ণ হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে। এই সূরার ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন: “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম) ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।” এই আয়াতটি জুমার নামাজকে মুমিনের জীবনে কতটা অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, তার স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়।
এছাড়া একাধিক সহিহ হাদিসে এদিনের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন: “সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হল জুমার দিন। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে”। এই হাদিসটি দিনটির ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে ফুটিয়ে তোলে।
‘সাপ্তাহিক ঈদ’ ও ‘গরিবের হজ’: আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
লেখক তার কলামে জুমার দিনকে ‘মুমিনের সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এটি একটি বিশুদ্ধ হাদিসের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, যেখানে রাসুল (সা.) বলেন: “মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮)। আরেক হাদিসে তিনি বলেন: “মহান আল্লাহর কাছে জুমার দিনটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনের মতো শ্রেষ্ঠ দিন”। এই উপমা জুমার দিনের আনন্দ ও ইবাদতের বিশেষ মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে।
তাছাড়া, এই দিনটিকে ‘গরিবের হজ’ বলা হয়। যারা আর্থিক বা শারীরিক সক্ষমতার অভাবে পবিত্র হজ পালন করতে পারেন না, তাদের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা হজের সওয়াব লাভের একটি সুবর্ণ সুযোগ। এটি ইসলামের সাম্যের সৌন্দর্যকেও তুলে ধরে যে, ইবাদতের পুরস্কার শুধু আর্থিক সঙ্গতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
বিশেষ আমল ও সুন্নত: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা
তৌফিক সুলতানের কলামটি শুধু তথ্য পরিবেশনেই থেমে থাকেনি; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। তিনি জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন: জুমার নামাজের পূর্বে ফরজ গোসল করা, মেসওয়াক করা এবং উত্তম পোশাক পরিধান করা সুন্নত।
২. দ্রুত মসজিদে গমন: আগেভাগে মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছাকাছি বসার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে একে একটি উট কুরবানি করার সমতুল্য সওয়াবের কাজ বলা হয়েছে।
৩. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত: জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত আলো বিচ্ছুরিত হয় এবং সে দাজ্জালের ফিতনা থেকেও নিরাপদ থাকে।
৪. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্তের সন্ধান: কলামটিতে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, ইমাম যখন খুতবার জন্য মিম্বরে বসেন তখন থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন এই কলামটি সেরা হলো: একটি বিশ্লেষণ
পাঠকমহলে এই লেখাটি এতটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি একটি চিরন্তন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়। জুমার গুরুত্ব সবার জানা থাকলেও এর পেছনের কোরআন-হাদিসের সুনির্দিষ্ট তথ্যভাণ্ডার অনেকেরই অজানা। দ্বিতীয়ত, লেখকের তথ্যনির্ভর ও গবেষণাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি কলামটিকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে। তৃতীয়ত, লেখক একজন শিক্ষক হওয়ায় তার উপস্থাপনার সাবলীলতা ও গোছানো কাঠামো পাঠককে সহজেই বিষয়বস্তুর গভীরে নিয়ে যেতে পেরেছে।
তৌফিক সুলতানের এই অর্জন প্রমাণ করে যে, সৃজনশীলতা ও তথ্যের সুষম সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তরুণ লেখকরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের এই উদ্যোগ তরুণ লেখকদের অনুপ্রাণিত করার পাশাপাশি পাঠকমহলে তথ্যনির্ভর চিন্তার প্রসার ঘটাবে বলেই আশা করা যায়।