সংবাদ শিরোনাম ::
সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে : অর্থমন্ত্রী বোরহানউদ্দিনে পিকআপ উল্টে চালক নিহত পাসপোর্ট অফিসে এক গ্রাম থেকে ১১২ জন নিয়োগের অভিযোগ দুর্নীতির অভিযোগে ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী বোরহানের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ জুলাইকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুক পোস্ট, বিইউবিটি কর্মকর্তা বরখাস্ত আমির খানের তৃতীয় স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটের সম্পদের পরিমাণ কত? উদ্যোক্তা ও সমিতির সদস্যদের মাঝে ঋণ বিতরণ, গোপালগঞ্জে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত ইসিতে এনআইডির জরুরি সেবা বন্ধ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএপিবি’র প্রধান নির্বাহীর সাক্ষাৎ রাজশাহীতে অফিসেই সংসার পেতেছেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম

চারুকলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে বৈশাখি শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রস্তুতির এই ব্যস্ততা কাছ থেকে দেখতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকেই চারুকলা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শোভাযাত্রার জন্য তৈরি প্রধান পাঁচটি মোটিফে তখনও রঙের কাজ চলছিল। আয়োজকরা জানান, রাতের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। চারুকলার বকুলতলায় বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে লোকসংগীত, নৃত্য ও শিল্পচর্চার নানা পরিবেশনা চলে।

প্রস্তুতি দেখতে পরিবার নিয়ে চারুকলায় আসেন মোহাম্মদ সামিউল আলিম। তিনি বলেন, প্রতি বছর শোভাযাত্রা দেখলেও এবার প্রস্তুতির সময় এসে শিল্পীদের কাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন ও আনন্দদায়ক।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন করেছে, যা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এ উপলক্ষ্যে বৈশাখি শোভাযাত্রা ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে। এরপর রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নববর্ষের দিন শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে। শোভাযাত্রা চলাকালে অন্য প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার জন্য অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ওই দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরে প্রবেশ ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদে তৈরি মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

শোভাযাত্রা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের কয়েকটি গেট বন্ধ থাকবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ৫টার পর আর কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না, শুধু বের হওয়া যাবে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এবারের শোভাযাত্রায় থাকছে পাঁচটি মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। লোকজ ঐতিহ্যের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হবে। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এছাড়া ২০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সব নাগরিককে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে : অর্থমন্ত্রী

চারুকলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড়

আপডেট সময় ০৮:৪৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে বৈশাখি শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রস্তুতির এই ব্যস্ততা কাছ থেকে দেখতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকেই চারুকলা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শোভাযাত্রার জন্য তৈরি প্রধান পাঁচটি মোটিফে তখনও রঙের কাজ চলছিল। আয়োজকরা জানান, রাতের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। চারুকলার বকুলতলায় বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সেখানে লোকসংগীত, নৃত্য ও শিল্পচর্চার নানা পরিবেশনা চলে।

প্রস্তুতি দেখতে পরিবার নিয়ে চারুকলায় আসেন মোহাম্মদ সামিউল আলিম। তিনি বলেন, প্রতি বছর শোভাযাত্রা দেখলেও এবার প্রস্তুতির সময় এসে শিল্পীদের কাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন ও আনন্দদায়ক।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন করেছে, যা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে শুরু হয়ে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এ উপলক্ষ্যে বৈশাখি শোভাযাত্রা ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হবে। সকাল ৮টা থেকে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেবে। এরপর রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলায় এসে শেষ হবে।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নববর্ষের দিন শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে। শোভাযাত্রা চলাকালে অন্য প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার জন্য অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ওই দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরে প্রবেশ ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদে তৈরি মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

শোভাযাত্রা চলাকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের কয়েকটি গেট বন্ধ থাকবে। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। ৫টার পর আর কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না, শুধু বের হওয়া যাবে। এছাড়া ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

এবারের শোভাযাত্রায় থাকছে পাঁচটি মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। লোকজ ঐতিহ্যের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হবে। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এছাড়া ২০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।