ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মৌলভীবাজারে টমটম ভাড়া আবার ৫ টাকা নির্ধারণ, স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে মন্তব্য, আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ সংরক্ষিত নারী আসন সিলেট থেকে বিএনপির এমপি হতে চান যেসব নারী নেত্রী চারুকলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় নববর্ষে ঐক্যের আহ্বান, দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বন্ধ মিল দ্রুত চালু করতে উদ্যোগ নিচ্ছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১২ হাজারে শূন্য কয়টি জানেন না ছাত্রলীগ নেতা, আসামিপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর! পীরগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, চাচাতো দেবরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা বোরহানউদ্দিনে দুধ দিয়ে গোসল করে অনলাইন জুয়া খেলা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এক যুবক জুয়া খেলার টাকা না পেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে যুবকের আত্মহত্যা

চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কথিত চুরির অপবাদে এক কিশোরকে (১৪) অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কিশোরকে নির্মমভাবে পেটানোর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইয়াসিন ও শাকিল ওই কিশোরকে ঘর থেকে ডেকে বাড়ির পাশে নিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। চৈত্রের তপ্ত রোদের মধ্যে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনকারীদের মধ্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যও ছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম মো. হোসাইন (১৪)। সে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের চর চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোছেন শেখের ছেলে।

চার মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুর দিকে কিশোরটিকে একটি মেহগনি গাছের গোড়ায় বসিয়ে বেশ কয়েকবার পায়ের পাতায় বেদম প্রহার করা হচ্ছে। ওই সময় কয়েকজন শিশু, নারী ও বৃদ্ধ উপস্থিত ছিলেন। তারা পেটাতে নিষেধ করলে প্রথমজন সেখান থেকে চলে যায়। পরে একই লাঠি নিয়ে আরেকজন ঘটনাস্থলে আসে। সে একই কায়দায় ওই কিশোরকে পেটায়। তিনি চলে যাওয়ার পর গাছের সঙ্গে ওই কিশোরের দুই হাত পেছন থেকে বেঁধে দাঁড় করিয়ে সারা শরীরে পেটানো হয়। ক্রমাগত পেটানোর কারণে ওই কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়লে ‘অভিনয় করেছে বলে’ আরও বেশি করে নির্যাতন করা হয় তার ওপর।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, তাদের মধ্যে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্লা (৫৯) নেতৃত্ব দেন। তাকে সহায়তা করে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাবের হোসেনের ছেলে ইয়াছিন হোসেন (২২) ও আকরাম শেখের ছেলে শাকিল শেখ (১৯)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোর হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করে, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসে সে। এ সময় কারখানাটিতে একটি ড্রিল মেশিন চুরি যায়। সেই চুরির ঘটনায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন জানায়, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিন আমাকে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে আমাকে পিটানো হয়।

পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মো. হোসাইনকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। সে সেখানে চিকিৎসা নেয়।

ভুক্তভোগী কিশোরের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। সে বাড়িতে আসার পর ইয়াছিন হোসেন, শাকিল শেখসহ তিনজন আমার ছেলেকে মারধর করেছে।

এ ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ মোল্লাকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তৎক্ষণাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে দুই দফা তাকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

গ্রাম পুলিশ মো. রাহাত ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতিত কিশোর ও এক নির্যাতনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের পথিমধ্যে ছাড়িয়ে নেন।

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ ঘটনা নিয়ে অনেক ভ্যাজাল হচ্ছে। অনেক ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ওই কিশোরের মা বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও আমাদের হতে এসেছে। ভিডিও পর্যালোচনা করে রোববার দিবাগত রাতেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইয়াছিন শেখ (২২), মো. শাকিল শেখ (১৯) ও বিল্লাল কাজীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে আজ (সোমবার) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারে টমটম ভাড়া আবার ৫ টাকা নির্ধারণ, স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে

চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

আপডেট সময় ০৭:১৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কথিত চুরির অপবাদে এক কিশোরকে (১৪) অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

কিশোরকে নির্মমভাবে পেটানোর এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইয়াসিন ও শাকিল ওই কিশোরকে ঘর থেকে ডেকে বাড়ির পাশে নিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। চৈত্রের তপ্ত রোদের মধ্যে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনকারীদের মধ্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যও ছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম মো. হোসাইন (১৪)। সে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের চর চান্দড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মোছেন শেখের ছেলে।

চার মিনিট ৫১ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শুরুর দিকে কিশোরটিকে একটি মেহগনি গাছের গোড়ায় বসিয়ে বেশ কয়েকবার পায়ের পাতায় বেদম প্রহার করা হচ্ছে। ওই সময় কয়েকজন শিশু, নারী ও বৃদ্ধ উপস্থিত ছিলেন। তারা পেটাতে নিষেধ করলে প্রথমজন সেখান থেকে চলে যায়। পরে একই লাঠি নিয়ে আরেকজন ঘটনাস্থলে আসে। সে একই কায়দায় ওই কিশোরকে পেটায়। তিনি চলে যাওয়ার পর গাছের সঙ্গে ওই কিশোরের দুই হাত পেছন থেকে বেঁধে দাঁড় করিয়ে সারা শরীরে পেটানো হয়। ক্রমাগত পেটানোর কারণে ওই কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়লে ‘অভিনয় করেছে বলে’ আরও বেশি করে নির্যাতন করা হয় তার ওপর।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরকে যারা নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে এবং ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, তাদের মধ্যে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ফিরোজ মোল্লা (৫৯) নেতৃত্ব দেন। তাকে সহায়তা করে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাবের হোসেনের ছেলে ইয়াছিন হোসেন (২২) ও আকরাম শেখের ছেলে শাকিল শেখ (১৯)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোর হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচার কারখানায় কাজ করে, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসে সে। এ সময় কারখানাটিতে একটি ড্রিল মেশিন চুরি যায়। সেই চুরির ঘটনায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

ভুক্তভোগী কিশোর হোসাইন জানায়, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিন আমাকে ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে আমাকে পিটানো হয়।

পরে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা মো. হোসাইনকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। সে সেখানে চিকিৎসা নেয়।

ভুক্তভোগী কিশোরের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। সে বাড়িতে আসার পর ইয়াছিন হোসেন, শাকিল শেখসহ তিনজন আমার ছেলেকে মারধর করেছে।

এ ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে জানতে ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ মোল্লাকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তৎক্ষণাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে দুই দফা তাকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

গ্রাম পুলিশ মো. রাহাত ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতিত কিশোর ও এক নির্যাতনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের পথিমধ্যে ছাড়িয়ে নেন।

জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ ঘটনা নিয়ে অনেক ভ্যাজাল হচ্ছে। অনেক ঝামেলার মধ্যে আছি। পরে আপনার সঙ্গে কথা বলব।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ওই কিশোরের মা বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও আমাদের হতে এসেছে। ভিডিও পর্যালোচনা করে রোববার দিবাগত রাতেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. ইয়াছিন শেখ (২২), মো. শাকিল শেখ (১৯) ও বিল্লাল কাজীকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে আজ (সোমবার) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।