ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে ফিরল ব্রাহ্মণপাড়ার শাহ আলমের মরদেহ, কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারি। বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ : ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন টাকা ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ইয়াবাসহ নারী ও পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন গ্রেপ্তার পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় দোকানদারের মাথায় গুলি ঝিনাইগাতীতে ভোটগ্রহণ শুরু, বাড়ছে ভোটার উপস্থিতি ইসলামাবাদ বৈঠকের নেতৃত্বে থাকছেন কারা? আত্রাইয়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত বেরোবিতে গবেষণা প্রকল্পের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১ম সেমিনার অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলনগরে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ শিশু

বালিয়াডাঙ্গীতে বিলুপ্তির পথে গ্রীষ্মের রঙিন ফসল তরমুজ চাষ

এক সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গ্রীষ্ম মানেই ছিল তরমুজ চাষের উৎসব। উপজেলার পাড়িয়া, ধনতলা, চাড়োল, বড় পলাশবাড়ী, দুওশুও, ভানোর, আমজান খোর ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের উঁচু জমিগুলোতে কয়েকশ একরজুড়ে তরমুজের ক্ষেত গড়ে উঠত। মাঠজুড়ে সবুজ লতায় ভরা তরমুজের লতাগাছ আর ঝুলে থাকা লাল রসালো তরমুজের দৃশ্য কৃষক ও গ্রামের মানুষের মুখে আনন্দের হাসি ফুটাত। শিশুদের খুশির চিৎকার, বিক্রেতাদের ব্যস্ততা, আর পরিবারের সবাই মিলে ভাগাভাগি করা – এসবই গ্রীষ্মকে প্রাণবন্ত করত।
তরমুজ কেবল স্বাদে মধুর নয়, বরং গ্রীষ্মে শরীরকে তাজা রাখার জন্য বিশেষ উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে, যা শরীর হাইড্রেটেড রাখে। এছাড়া লোহা, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ গরমের প্রভাব কমায়, ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি গ্রীষ্মের স্বাস্থ্যকর ফসল হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু আজ সেই দৃশ্য অতীত। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার অস্থিরতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং রোগবালাইয়ের কারণে তরমুজ চাষ ক্রমেই কমে এসেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন তরমুজের পরিবর্তে ভুট্টা, ধান ও অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসল চাষে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। পাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুল করিম বলেন, “আগে এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করলে ভালো ফল হতো। কিন্তু এই কয়েক বছরে আবহাওয়া অনিশ্চিত হওয়ায় বারবার ক্ষতি হয়েছে। এবার আমরা পুরোপুরি তরমুজ চাষ বন্ধ করেছি।”
ধনতলা, বড় পলাশবাড়ী ও ভানোর ইউনিয়নের কৃষকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, ঝুঁকি বেশি এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া মূল কারণে তরমুজ চাষ এখন আর লাভজনক নয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষকরা পেঁয়াজের বীজ, ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসল চাষে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। ফলে তরমুজ চাষ পুরো উপজেলাজুড়ে কার্যত হারিয়ে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সেচ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আবারও বালিয়াডাঙ্গীতে তরমুজ চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর পরিকল্পনা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ফিরল ব্রাহ্মণপাড়ার শাহ আলমের মরদেহ, কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারি।

বালিয়াডাঙ্গীতে বিলুপ্তির পথে গ্রীষ্মের রঙিন ফসল তরমুজ চাষ

আপডেট সময় ০৩:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
এক সময় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গ্রীষ্ম মানেই ছিল তরমুজ চাষের উৎসব। উপজেলার পাড়িয়া, ধনতলা, চাড়োল, বড় পলাশবাড়ী, দুওশুও, ভানোর, আমজান খোর ও বড়বাড়ী ইউনিয়নের উঁচু জমিগুলোতে কয়েকশ একরজুড়ে তরমুজের ক্ষেত গড়ে উঠত। মাঠজুড়ে সবুজ লতায় ভরা তরমুজের লতাগাছ আর ঝুলে থাকা লাল রসালো তরমুজের দৃশ্য কৃষক ও গ্রামের মানুষের মুখে আনন্দের হাসি ফুটাত। শিশুদের খুশির চিৎকার, বিক্রেতাদের ব্যস্ততা, আর পরিবারের সবাই মিলে ভাগাভাগি করা – এসবই গ্রীষ্মকে প্রাণবন্ত করত।
তরমুজ কেবল স্বাদে মধুর নয়, বরং গ্রীষ্মে শরীরকে তাজা রাখার জন্য বিশেষ উপকারী। এতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে, যা শরীর হাইড্রেটেড রাখে। এছাড়া লোহা, ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ গরমের প্রভাব কমায়, ক্লান্তি দূর করে এবং শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি গ্রীষ্মের স্বাস্থ্যকর ফসল হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু আজ সেই দৃশ্য অতীত। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে আবহাওয়ার অস্থিরতা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা এবং রোগবালাইয়ের কারণে তরমুজ চাষ ক্রমেই কমে এসেছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার কারণে কৃষকরা এখন তরমুজের পরিবর্তে ভুট্টা, ধান ও অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসল চাষে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। পাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুল করিম বলেন, “আগে এক হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করলে ভালো ফল হতো। কিন্তু এই কয়েক বছরে আবহাওয়া অনিশ্চিত হওয়ায় বারবার ক্ষতি হয়েছে। এবার আমরা পুরোপুরি তরমুজ চাষ বন্ধ করেছি।”
ধনতলা, বড় পলাশবাড়ী ও ভানোর ইউনিয়নের কৃষকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের মতে, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, ঝুঁকি বেশি এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া মূল কারণে তরমুজ চাষ এখন আর লাভজনক নয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষকরা পেঁয়াজের বীজ, ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য কম ঝুঁকিপূর্ণ ফসল চাষে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। ফলে তরমুজ চাষ পুরো উপজেলাজুড়ে কার্যত হারিয়ে গেছে।
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সেচ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আবারও বালিয়াডাঙ্গীতে তরমুজ চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ ও কার্যকর পরিকল্পনা।