ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশে ফিরল ব্রাহ্মণপাড়ার শাহ আলমের মরদেহ, কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারি। বিনা টিকিটে রেলভ্রমণ : ৪৮ বছর পর পরিশোধ করলেন টাকা ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ইয়াবাসহ নারী ও পরোয়ানাভুক্ত ৩ জন গ্রেপ্তার পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় দোকানদারের মাথায় গুলি ঝিনাইগাতীতে ভোটগ্রহণ শুরু, বাড়ছে ভোটার উপস্থিতি ইসলামাবাদ বৈঠকের নেতৃত্বে থাকছেন কারা? আত্রাইয়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত বেরোবিতে গবেষণা প্রকল্পের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১ম সেমিনার অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলনগরে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ শিশু

খাগড়াছড়িতে বর্ণিল শোভাযাত্রায় বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তিকে বরণ

খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তিকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

শোভাযাত্রায় নানা বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাদের রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফুটে ওঠে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য বৈচিত্র্য। ঢোল-বাদ্য, নৃত্য আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুন কুমার ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল প্রমূখ।

উদ্বোধনের আগে টাউন হল প্রাঙ্গণে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গরয়া নৃত্যসহ মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে পরিবেশন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় সংস্কৃতির এমন পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সামাজিক অনুষ্ঠান আমাদের দোরগোড়ায় উপস্থিত। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন এবং সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

উৎসবকে ঘিরে খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তির এ আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে ফিরল ব্রাহ্মণপাড়ার শাহ আলমের মরদেহ, কফিন ঘিরে স্বজনদের আহাজারি।

খাগড়াছড়িতে বর্ণিল শোভাযাত্রায় বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তিকে বরণ

আপডেট সময় ০৩:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তিকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত এ শোভাযাত্রা শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

শোভাযাত্রায় নানা বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাদের রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফুটে ওঠে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য বৈচিত্র্য। ঢোল-বাদ্য, নৃত্য আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

সকালে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুন কুমার ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল প্রমূখ।

উদ্বোধনের আগে টাউন হল প্রাঙ্গণে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী গরয়া নৃত্যসহ মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে পরিবেশন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। স্থানীয় সংস্কৃতির এমন পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বড় সামাজিক অনুষ্ঠান আমাদের দোরগোড়ায় উপস্থিত। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়, এটি আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন এবং সবাইকে সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান।

উৎসবকে ঘিরে খাগড়াছড়ির সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। বৈসু ও চৈত্রসংক্রান্তির এ আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।