ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেরোবিতে গবেষণা প্রকল্পের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১ম সেমিনার অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত কমলনগরে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৫ শিশু জনস্বাস্থ্যের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, এনএসআই রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য ঢাকা ওয়াসায় সালাম বেপারীর দোসররা বহাল তবিয়তে: তদন্তের আওতায় আনার দাবি কাউন্টারের নাম মুছে অভিনব প্রতারণা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে চ্যালেঞ্জ শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে সুখবর দিলো মালয়ে‌শিয়া ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধানের ১৯ হাজারের বেশি গোপন ছবি-ভিডিও হ্যাক ভোলায় চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস খাদে উল্টে পড়ে বহু যাত্রী আহত অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তি : তিন আসামির আমৃত্যু, ২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

হাসনাতের বক্তব্য পল্টন-প্রেস ক্লাবের জন্য ‘জুসি’: সংসদে আইনমন্ত্রী

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে রাজনৈতিক ময়দানের জন্য ‘জুসি’ বা রসালো আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য সবকিছুই পড়েছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলের প্রথম লাইনটিই সম্ভবত এড়িয়ে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তির জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার এই বক্তব্যগুলো পল্টন ময়দান, প্রেস ক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও ‘জুসি’। তবে, সংসদে বিল পাসের ক্ষেত্রে আইন গভীরভাবে পাঠ করা জরুরি। আমার মনে হয় উনি সব পড়েছেন, শুধু মূল বিলটা পড়েননি।’

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, বিলের প্রথম লাইনেই বলা আছে— ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। এই সময়ে মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম যাতে স্থবির না হয়ে পড়ে, সেই কারণেই আমরা সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনটি পুনঃপ্রচলন (রিস্টোর) করেছি। কেউ যেন বলতে না পারে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নেই।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশটির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই অধ্যাদেশটি একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এর ১৬ নম্বর ধারাটি পড়লে দেখা যাবে, এটি ভিকটিমের জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। এমন অস্পষ্ট আইন জনস্বার্থবিরোধী।’

২০২৫ সালের অধ্যাদেশটির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “এই অধ্যাদেশটি একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এর ১৬ নম্বর ধারাটি পড়লে দেখা যাবে, এটি ভিকটিমের জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। এমন অস্পষ্ট আইন জনস্বার্থবিরোধী।”

বর্তমান সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের বয়স মাত্র ৪২ দিন। এই অল্প সময়ে একজন মানুষও ক্রসফায়ার বা গুমের শিকার হয়নি। আমরা চাই না দেশে আর কোনো গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি বজায় থাকুক।

এর আগে বিলের বিরোধিতা করে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের আইনটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি অতীতে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করার মাধ্যমে গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় শিকার জিয়া পরিবার ও বিএনপি। তাই বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবিতে গবেষণা প্রকল্পের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১ম সেমিনার অনুষ্ঠিত

হাসনাতের বক্তব্য পল্টন-প্রেস ক্লাবের জন্য ‘জুসি’: সংসদে আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে রাজনৈতিক ময়দানের জন্য ‘জুসি’ বা রসালো আখ্যা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য সবকিছুই পড়েছেন, কিন্তু প্রস্তাবিত বিলের প্রথম লাইনটিই সম্ভবত এড়িয়ে গেছেন।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তির জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সভাপতিত্ব করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার এই বক্তব্যগুলো পল্টন ময়দান, প্রেস ক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও ‘জুসি’। তবে, সংসদে বিল পাসের ক্ষেত্রে আইন গভীরভাবে পাঠ করা জরুরি। আমার মনে হয় উনি সব পড়েছেন, শুধু মূল বিলটা পড়েননি।’

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, বিলের প্রথম লাইনেই বলা আছে— ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। এই সময়ে মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম যাতে স্থবির না হয়ে পড়ে, সেই কারণেই আমরা সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনটি পুনঃপ্রচলন (রিস্টোর) করেছি। কেউ যেন বলতে না পারে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশন নেই।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশটির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই অধ্যাদেশটি একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এর ১৬ নম্বর ধারাটি পড়লে দেখা যাবে, এটি ভিকটিমের জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। এমন অস্পষ্ট আইন জনস্বার্থবিরোধী।’

২০২৫ সালের অধ্যাদেশটির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “এই অধ্যাদেশটি একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এর ১৬ নম্বর ধারাটি পড়লে দেখা যাবে, এটি ভিকটিমের জন্য আরেকটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। এতে জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা নেই। এমন অস্পষ্ট আইন জনস্বার্থবিরোধী।”

বর্তমান সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের বয়স মাত্র ৪২ দিন। এই অল্প সময়ে একজন মানুষও ক্রসফায়ার বা গুমের শিকার হয়নি। আমরা চাই না দেশে আর কোনো গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি বজায় থাকুক।

এর আগে বিলের বিরোধিতা করে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৯ সালের আইনটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা একটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি অতীতে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করার মাধ্যমে গুম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে ফেলা হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় শিকার জিয়া পরিবার ও বিএনপি। তাই বর্তমান সরকার মানবাধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।