ঢাকা ০৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতিরপুলে দোকানে আগুন, ৪ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে শাড়িতে রেট্রো লুকে মারিয়া শান্তর বাজিমাত মুলতবি সংসদ শুরু, মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল দুবাইয়ে কুয়েতের তেল ট্যাংকারে হামলা রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা ফুলবাড়ীতে সর্দি, জ্বর ও ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি  নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুল আলম সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা নির্বাচন কমিশন ও শ্রম অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অমান্য করায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ৮ সদস্যকে বহিষ্কার নওগাঁয় গ্যারেজে থাকা বাসের  ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কালিয়াকৈরে জব্দ ৯ ঘোড়া নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় জব্দ করা ৯টি ঘোড়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান। ঘোড়াগুলো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া গোপনে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি; বরং দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মার্চ। খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে পুলিশ ট্রাকভর্তি ৯টি ঘোড়া এবং পাঁচজনকে আটক করে। পরে প্রাণীগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়। শুরুতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হলেও, পরবর্তীতে ঘোড়াগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
জানা যায়, থানা হেফাজতে প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন ধরে রাখা হয় ঘোড়াগুলো। এ সময় পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় আকারের প্রাণী হওয়ায় ঘোড়াগুলোর জন্য আলাদা জায়গা, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, যা থানা পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভূমিকা সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান হিসেবে ডা. মিজানুর রহমানের ওপর ঘোড়াগুলোর স্বাস্থ্য ও দেখভালের দায়িত্ব বর্তায়। তবে এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পরিবর্তে, ঘোড়াগুলো গোপনে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এতগুলো ঘোড়ার প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। সে হিসেবে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘অস্বচ্ছ’ বলে উল্লেখ করছেন। তাদের প্রশ্ন, যদি বিক্রি না-ই করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘোড়াগুলো কোথায় এবং কার কাছে রয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য কেন দেওয়া হচ্ছে না?
অভিযোগের তীর সরাসরি ডা. মিজানুর রহমানের দিকে থাকলেও তিনি তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘোড়াগুলোর মধ্যে কয়েকটি অসুস্থ ছিল। থানা হেফাজতে দীর্ঘদিন রাখার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি যথাযথ খাবার ও পরিবেশের অভাব দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যাতে প্রাণীগুলো বাঁচানো যায়।”
তিনি আরও বলেন, “বিক্রির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমরা ঘোড়াগুলো কাউকে বিক্রি করিনি। বরং একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে অস্থায়ীভাবে দেখভালের জন্য দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো ফেরত এনে নিয়ম মেনে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।”
তবে তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, যদি সত্যিই বিক্রি না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুরুতেই স্বচ্ছভাবে জানানো যেত। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ছে।
এদিকে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিলও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে সেগুলো রাখা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরে নিলাম করা হবে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জব্দকৃত প্রাণী বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা ও আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার কথা, তা এখানে কতটা অনুসরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা নিয়মবহির্ভূত কি না—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জব্দকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দায়িত্ব শুধু প্রাণীগুলোর চিকিৎসা নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের অসংগতি থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত। তাদের মতে, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা হলে তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা দরকার, যাতে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
এ ঘটনায় প্রশাসন কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ, একদিকে কর্মকর্তাদের অস্বীকার, অন্যদিকে স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ফলে বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘোড়াগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য সত্য হলে বোঝা যায়, প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করছে এবং সমাধানের পথ খুঁজছে।
তবে এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডা. মিজানুর রহমানের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কতটা যৌক্তিক ছিল এবং তা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই।
সব মিলিয়ে, কালিয়াকৈরের এই ঘটনা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। ডা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য ও স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কীভাবে এই বিতর্কের অবসান ঘটায় এবং প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরে। ততক্ষণ পর্যন্ত কালিয়াকৈরের এই ‘৯ ঘোড়া’ ইস্যু স্থানীয় জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতিরপুলে দোকানে আগুন, ৪ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

কালিয়াকৈরে জব্দ ৯ ঘোড়া নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান

আপডেট সময় ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় জব্দ করা ৯টি ঘোড়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান। ঘোড়াগুলো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া গোপনে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি; বরং দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মার্চ। খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ঘোড়া জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে পুলিশ ট্রাকভর্তি ৯টি ঘোড়া এবং পাঁচজনকে আটক করে। পরে প্রাণীগুলো থানা হেফাজতে রাখা হয়। শুরুতে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হলেও, পরবর্তীতে ঘোড়াগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
জানা যায়, থানা হেফাজতে প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন ধরে রাখা হয় ঘোড়াগুলো। এ সময় পর্যাপ্ত খাবার, চিকিৎসা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, বড় আকারের প্রাণী হওয়ায় ঘোড়াগুলোর জন্য আলাদা জায়গা, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, যা থানা পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভূমিকা সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান হিসেবে ডা. মিজানুর রহমানের ওপর ঘোড়াগুলোর স্বাস্থ্য ও দেখভালের দায়িত্ব বর্তায়। তবে এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রকাশ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির পরিবর্তে, ঘোড়াগুলো গোপনে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এতগুলো ঘোড়ার প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা হতে পারে। সে হিসেবে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘অস্বচ্ছ’ বলে উল্লেখ করছেন। তাদের প্রশ্ন, যদি বিক্রি না-ই করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘোড়াগুলো কোথায় এবং কার কাছে রয়েছে—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য কেন দেওয়া হচ্ছে না?
অভিযোগের তীর সরাসরি ডা. মিজানুর রহমানের দিকে থাকলেও তিনি তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘোড়াগুলোর মধ্যে কয়েকটি অসুস্থ ছিল। থানা হেফাজতে দীর্ঘদিন রাখার কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি যথাযথ খাবার ও পরিবেশের অভাব দেখা দিয়েছিল। এ অবস্থায় দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যাতে প্রাণীগুলো বাঁচানো যায়।”
তিনি আরও বলেন, “বিক্রির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমরা ঘোড়াগুলো কাউকে বিক্রি করিনি। বরং একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে অস্থায়ীভাবে দেখভালের জন্য দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো ফেরত এনে নিয়ম মেনে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।”
তবে তার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, যদি সত্যিই বিক্রি না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি শুরুতেই স্বচ্ছভাবে জানানো যেত। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ায় সন্দেহ আরও বাড়ছে।
এদিকে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিলও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি। উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অফিসের তত্ত্বাবধানে সেগুলো রাখা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরে নিলাম করা হবে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জব্দকৃত প্রাণী বা সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা ও আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখার কথা, তা এখানে কতটা অনুসরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে, কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা নিয়মবহির্ভূত কি না—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জব্দকৃত প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দায়িত্ব শুধু প্রাণীগুলোর চিকিৎসা নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও। এ ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের অসংগতি থাকে, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত। তাদের মতে, যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, অভিযোগ মিথ্যা হলে তা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা দরকার, যাতে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
এ ঘটনায় প্রশাসন কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ, একদিকে কর্মকর্তাদের অস্বীকার, অন্যদিকে স্থানীয়দের জোরালো অভিযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ফলে বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি না হলে প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘোড়াগুলো ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য সত্য হলে বোঝা যায়, প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করছে এবং সমাধানের পথ খুঁজছে।
তবে এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ডা. মিজানুর রহমানের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কতটা যৌক্তিক ছিল এবং তা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই।
সব মিলিয়ে, কালিয়াকৈরের এই ঘটনা এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়; বরং এটি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। ডা. মিজানুর রহমানের বক্তব্য ও স্থানীয়দের অভিযোগের মধ্যে যে ফারাক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কীভাবে এই বিতর্কের অবসান ঘটায় এবং প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরে। ততক্ষণ পর্যন্ত কালিয়াকৈরের এই ‘৯ ঘোড়া’ ইস্যু স্থানীয় জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবে।