বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা আজ আর নেই। কিন্তু তাঁর পদচিহ্ন এখনো ভেসে আছে এই দেশের মাটির গন্ধে, বাতাসে, মানুষের স্বপ্নে। কঠিন সংগ্রামের পথ মাড়িয়ে তিনি যে স্বাধীনতার সূর্য উদয় করেছিলেন, সেই আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। রক্ত, ঘাম আর অদম্য সাহস দিয়ে তিনি দেশমাতৃকাকে মুক্ত করেছিলেন—এ যেন ইতিহাসের বুক চিরে লেখা এক অমলিন অধ্যায়।
মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ছিলেন নির্ভীক এক যোদ্ধা। বুকের ভেতর ছিল দেশপ্রেমের আগুন, হাতে ছিল স্বাধীনতার অস্ত্র। যুদ্ধ শেষে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গণি উসমানির হাতে অস্ত্র জমা দেওয়ার সেই দৃশ্য যেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত। অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু দেশ রক্ষার যে অঙ্গীকার, তা কখনো জমা দেননি। সেই অঙ্গীকার তিনি রেখে গেছেন আমাদের হৃদয়ে।
আজ বাবা পরপারে। তবু তাঁর রেখে যাওয়া হাতিয়ার এখনো আমাদের হাতে—সেটি হলো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তি, এবং দেশের অধিকারের সংগ্রামে অবিচল থাকার শপথ। স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই শেষ হলেও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম এখনো চলমান। বাবার স্মৃতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশ মানে শুধু মানচিত্র নয়, দেশ মানে দায়িত্ব, ত্যাগ আর ভালোবাসা।
বাবা নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে। তাঁর সংগ্রামের গল্প আমাদের নতুন করে জাগিয়ে তোলে। আমরা যেন তাঁর উত্তরসূরি হয়ে এই দেশকে আগলে রাখি—এটাই হবে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা।
মুস্তাফা মুহিত 


















