ঢাকা ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

পঞ্চগড়ে টেন্ডার অধিক গাছ কাটায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় টেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ইউক্যালিপটাস ও মেহগনি গাছ বিক্রির জন্য আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪৮টি ইউক্যালিপটাস ও ৯টি মেহগনি মোট ৫৭টি গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ৫৭টি গাছের পরিবর্তে প্রায় ৭৩টিরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগকারী লুৎফর রহমান, ঝলঝলি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য।

তিনি লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত গাছ কেটে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালা ও টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাটি আটোয়ারী উপজেলার একমাত্র আলিম মাদ্রাসা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র দাখিল, উন্মুক্ত দরপত্র গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সংখ্যক গাছ কর্তনের বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া টেন্ডারের বাইরে অতিরিক্ত কোনো গাছ না কাটার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত টেন্ডারটি উক্ত মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক পেয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

তবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সংখ্যক গাছই কাটা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

পঞ্চগড়ে টেন্ডার অধিক গাছ কাটায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় টেন্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ইউক্যালিপটাস ও মেহগনি গাছ বিক্রির জন্য আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪৮টি ইউক্যালিপটাস ও ৯টি মেহগনি মোট ৫৭টি গাছ বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ৫৭টি গাছের পরিবর্তে প্রায় ৭৩টিরও বেশি গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগকারী লুৎফর রহমান, ঝলঝলি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য।

তিনি লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত গাছ কেটে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালা ও টেন্ডারের শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের অনিয়ম অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, লক্ষ্মীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসাটি আটোয়ারী উপজেলার একমাত্র আলিম মাদ্রাসা হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
গাছ বিক্রয় বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরপত্র দাখিল, উন্মুক্ত দরপত্র গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সংখ্যক গাছ কর্তনের বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া টেন্ডারের বাইরে অতিরিক্ত কোনো গাছ না কাটার বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উক্ত টেন্ডারটি উক্ত মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক পেয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

তবে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সংখ্যক গাছই কাটা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বাড়তে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা এখন সময়ের দাবি।