ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভান্ডারিয়ায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬০৪ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুমের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের লোহার ভিম স্থানীয় একটি মুরগির খামারে পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের মালামাল হিসেবে সংরক্ষিত এসব লোহার ভিম দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। এ ভিমগুলো সাধারণত বিভিন্ন নির্মাণ কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো।
গত সোমবার সকাল ১১ টার দিকে সচিব আল মাসুম ছোট-বড় প্রায় ১০টি লোহার ভিম টমটম চালক মনির হাওলারের টমটমের মাধ্যমে স্থানীয় সেনের হাট এলাকার টুটুল গাজীর মুরগির ফার্মে নিয়ে রাখে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় রিকশা চালক মাফুজ আকন অভিযোগ করেন, তার ছেলে আয়মানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুম তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেন। মাফুজ আকন বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা পেতে সমস্যার মুখে ফেলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নান্না জানান, পরিষদের লোহার ভিম কি ভাবে মুরগির খামারে গেল তা অবগত নই। সচিব আল মাসুম কীভাবে ভিমগুলো ব্যবহার করেছেন তা আমার জানা নেই। তবে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় মানুষের আস্থা ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করা উচিত, যাতে কেউ সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে। এ বিষয়ে ফার্মের মালিক টুটুল গাজি জানান, আমার ফার্মে আসা যাওয়ার জন্য সামনের খালে একটি পুল প্রয়োজন। সে জন্য ইউপি সচিব আল মাসুম এই ভিমগুলো এখানে পাঠিয়েছেন।
খামারে সরকারি ডিম রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব আল মাসুম বলেন, টুটুল গাজীর ফার্মের সামনের খালে একটি পুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সে কারণেই ভিমগুলো সেখানে রাখা হয়েছে। তবে এ নির্মাণকাজের কোনো লিখিত অনুমোদন বা ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন হয়নি। চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সচিব তাকে কোনো তথ্য দেননি বলেও দাবি করেন। ভিম কীভাবে এবং কেন টুটুল গাজীর ফার্মে গেল, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আভার জনান, নির্বাচনের পরে এবিষয়ে দতন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

ভান্ডারিয়ায় ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ১ নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুমের বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের লোহার ভিম স্থানীয় একটি মুরগির খামারে পাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের মালামাল হিসেবে সংরক্ষিত এসব লোহার ভিম দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। এ ভিমগুলো সাধারণত বিভিন্ন নির্মাণ কাজ বা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হতো।
গত সোমবার সকাল ১১ টার দিকে সচিব আল মাসুম ছোট-বড় প্রায় ১০টি লোহার ভিম টমটম চালক মনির হাওলারের টমটমের মাধ্যমে স্থানীয় সেনের হাট এলাকার টুটুল গাজীর মুরগির ফার্মে নিয়ে রাখে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি জানার পর সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় রিকশা চালক মাফুজ আকন অভিযোগ করেন, তার ছেলে আয়মানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আল মাসুম তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা ঘুষ নেন। মাফুজ আকন বলেন, এ ধরনের দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা পেতে সমস্যার মুখে ফেলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম নান্না জানান, পরিষদের লোহার ভিম কি ভাবে মুরগির খামারে গেল তা অবগত নই। সচিব আল মাসুম কীভাবে ভিমগুলো ব্যবহার করেছেন তা আমার জানা নেই। তবে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা উচিত। এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় মানুষের আস্থা ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করা উচিত, যাতে কেউ সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে। এ বিষয়ে ফার্মের মালিক টুটুল গাজি জানান, আমার ফার্মে আসা যাওয়ার জন্য সামনের খালে একটি পুল প্রয়োজন। সে জন্য ইউপি সচিব আল মাসুম এই ভিমগুলো এখানে পাঠিয়েছেন।
খামারে সরকারি ডিম রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব আল মাসুম বলেন, টুটুল গাজীর ফার্মের সামনের খালে একটি পুল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, সে কারণেই ভিমগুলো সেখানে রাখা হয়েছে। তবে এ নির্মাণকাজের কোনো লিখিত অনুমোদন বা ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে কোনো রেজুলেশন হয়নি। চেয়ারম্যানের মৌখিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান এনামুল করিম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সচিব তাকে কোনো তথ্য দেননি বলেও দাবি করেন। ভিম কীভাবে এবং কেন টুটুল গাজীর ফার্মে গেল, তা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আভার জনান, নির্বাচনের পরে এবিষয়ে দতন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।