ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগামী বছরেই বগুড়াতে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মন্ত্রীর পাশের চেয়ারে বসা নিয়ে হাতাহাতি, অতঃপর… ময়মনসিংহ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইলের নারী কেলেঙ্কারি চাঁদপুরে মাদরাসায় ভাঙচুর-লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন সাভারে সোয়া কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক মুরাদনগরে ‘ধর্মমন্ত্রীর’ উপস্থিতিতে বিএনপি নেতা হাফেজ মোহাম্মদ জানাজা ও দাফন সম্পন্ন কোচিংয়ে আসছেন লেভেল থ্রি কোর্স পাস করা রাজ্জাক ‘ক্রিকেটের বাইবেল’ উইজডেনের বর্ষসেরা স্টার্ক-দীপ্তি ফুলবাড়িতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত  ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য ‍উদঘাটনে আবার শুরু হচ্ছে বিচার

মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে সংলাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী চারটি উচ্চমাত্রার বিধ্বংসী বিশালাকৃতির যুদ্ধজাহাজ এবং বেশ কিছু রণতরী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানকে চাপে রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেওেশ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও বেশ কয়েকটি রণতরীর বহর আরব সাগরে পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এ বহরের অন্যান্য রণতরীগুলো আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আরও ৩টি বিশাল আকৃতির যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এই যুদ্ধজাহাজগুলো হলো— ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসেন জেআর, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস স্প্রুয়ান্স। এই তিনটি জাহাজই গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একই সঙ্গে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ।

এই তিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম দু’টি বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে এবং শেষেরটি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এই তিন যুদ্ধজাহাজে আছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫ হাজার ৭০০ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য।

এছাড়া পারস্য উপসাগর অঞ্চলেও টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে তিনটি উপকূলীয় সামরিক যুদ্ধজাহাজ— ইউএসএস সান্তা বারবারা, ইউএসএস ক্যানবেরা এবং ইউএসএস তুলসা। এই তিন যুদ্ধজাহাজ অবশ্য অপেক্ষাকৃত ছোটো।

বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ চার যুদ্ধজাহাজ ও বেশ কিছু রণতরীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও স্থলভাগের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমও মোতায়েন করা হয়েছে সম্প্রতি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। প্রথম রাউন্ডের আলোচনা ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, “আমি নিজেও এর কারণ বুঝতে পারছি না। তবে আমরা এতে ভয় পাচ্ছি না।”

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী বছরেই বগুড়াতে ফিরছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

মধ্যপ্রাচ্যের নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০১:২৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সংলাপের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী চারটি উচ্চমাত্রার বিধ্বংসী বিশালাকৃতির যুদ্ধজাহাজ এবং বেশ কিছু রণতরী নিয়মিত টহল দিচ্ছে।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানকে চাপে রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেওেশ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি আরব সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও বেশ কয়েকটি রণতরীর বহর আরব সাগরে পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও এ বহরের অন্যান্য রণতরীগুলো আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের পর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় আরও ৩টি বিশাল আকৃতির যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এই যুদ্ধজাহাজগুলো হলো— ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই. পিটারসেন জেআর, ইউএসএস মাইকেল মারফি এবং ইউএসএস স্প্রুয়ান্স। এই তিনটি জাহাজই গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং একই সঙ্গে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ।

এই তিন যুদ্ধজাহাজের মধ্যে প্রথম দু’টি বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে এবং শেষেরটি লোহিত সাগরে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। এই তিন যুদ্ধজাহাজে আছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫ হাজার ৭০০ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য।

এছাড়া পারস্য উপসাগর অঞ্চলেও টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে তিনটি উপকূলীয় সামরিক যুদ্ধজাহাজ— ইউএসএস সান্তা বারবারা, ইউএসএস ক্যানবেরা এবং ইউএসএস তুলসা। এই তিন যুদ্ধজাহাজ অবশ্য অপেক্ষাকৃত ছোটো।

বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ চার যুদ্ধজাহাজ ও বেশ কিছু রণতরীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা ও স্থলভাগের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যেসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে, সেসব অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সিস্টেম টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমও মোতায়েন করা হয়েছে সম্প্রতি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক চলছে। প্রথম রাউন্ডের আলোচনা ইতোমধ্যে শেষও হয়েছে। এমন অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, “আমি নিজেও এর কারণ বুঝতে পারছি না। তবে আমরা এতে ভয় পাচ্ছি না।”