ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রেমিককে কুপিয়ে জখম, ক্ষোভে প্রেমিকার চাচা-ফুফুর বাড়িতে আগুন আফতাব নগরে সাব রেজিস্ট্রার মাইকেলের ২৯ ফ্ল্যাট! ভৈরব থেকে নিখোঁজ কিশোর রামিম সন্ধান চায় পরিবার টংঙ্গী মুজিব নগর সাবরেজিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এর বিরুদ্ধে ঘুষ দুনীতির সমাচার ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : শিক্ষক কারাগারে বোরহানউদ্দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক গোপালগঞ্জে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৭ বিভাগে কালবৈশাখি ঝড়ের আভাস নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু
ভুয়া সনদে বিসিএস ক্যাডার:

উপসচিব ও এসপিসহ ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৯০ বার পড়া হয়েছে

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে। অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা অনিয়মের মাধ্যমে এই লোভনীয় চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বর্তমানে উপসচিব ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদায় কর্মরত রয়েছেন চারজন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তবে শেষ রক্ষা হচ্ছে না; ইতোমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

জালিয়াতির এক অভিনব নজির স্থাপন করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেন। ৩৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে নিজের চাচাকে কাগজপত্রে ‘বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সম্প্রতি এ মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ২৯তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো কোটা না থাকা সত্ত্বেও ফলাফলের ৬ মাস পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তারা নিয়োগ পান। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপসচিব নাহিদা বারিক, রকিবুর রহমান খান, তোফাজ্জেল হোসেন এবং পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম। তাদের সবার বিরুদ্ধেই দুদক মামলা দায়ের করেছে।

এছাড়া ৩৮তম ও ৪১তম বিসিএসেও জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ঢালাওভাবে বিসিএস ক্যাডারদের টার্গেট করছি না। তবে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, “যারা শুরুতেই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করেন, তাদের মূল লক্ষ্যই থাকে দুর্নীতি করা। রাষ্ট্রের উচিত শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং চাকরিজীবনে তারা যে বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন, তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়া।”

এদিকে, পিএসসির আলোচিত গাড়িচালক আবেদ আলীর সহায়তায় অনৈতিক উপায়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকুর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ

ভুয়া সনদে বিসিএস ক্যাডার:

উপসচিব ও এসপিসহ ১২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:২১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে। অন্তত এক ডজন কর্মকর্তা অনিয়মের মাধ্যমে এই লোভনীয় চাকরি বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বর্তমানে উপসচিব ও পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদায় কর্মরত রয়েছেন চারজন।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। তবে শেষ রক্ষা হচ্ছে না; ইতোমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

জালিয়াতির এক অভিনব নজির স্থাপন করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেন। ৩৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে নিজের চাচাকে কাগজপত্রে ‘বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সম্প্রতি এ মামলায় জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ২৯তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো কোটা না থাকা সত্ত্বেও ফলাফলের ৬ মাস পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তারা নিয়োগ পান। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উপসচিব নাহিদা বারিক, রকিবুর রহমান খান, তোফাজ্জেল হোসেন এবং পুলিশ সুপার খোরশেদ আলম। তাদের সবার বিরুদ্ধেই দুদক মামলা দায়ের করেছে।

এছাড়া ৩৮তম ও ৪১তম বিসিএসেও জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ঢালাওভাবে বিসিএস ক্যাডারদের টার্গেট করছি না। তবে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

অন্যদিকে, দুর্নীতিবিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. শাহজাহান সাজু বলেন, “যারা শুরুতেই জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করেন, তাদের মূল লক্ষ্যই থাকে দুর্নীতি করা। রাষ্ট্রের উচিত শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং চাকরিজীবনে তারা যে বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন, তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়া।”

এদিকে, পিএসসির আলোচিত গাড়িচালক আবেদ আলীর সহায়তায় অনৈতিক উপায়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকুর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।