সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির যে গল্প আগে হয়তো শোনেননি

ফিফা বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া ইভেন্ট। আর চার মাস পর মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে আগামী আসর। এই চমৎকার টুর্নামেন্টকে ঘিরে যেমন গৌরব রয়েছে, তেমনি ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক আইকনিক ট্রফিটিকে নিয়েও রয়েছে অনেক মজার ও অজানা গল্প।

ট্রফিটি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো যা হয়তো আপনি আগে কখনো শোনেননি: আমরা এখন যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেখি সেটি আসলে মূল বা প্রথম ট্রফি নয়, বরং এটি দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৯৩০ সালে যখন বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন মূল ট্রফিটির নাম ছিল ‘জুলে রিমে ট্রফি’। এটি ছিল গ্রীক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’-র একটি ভাস্কর্য, যেখানে তাকে মাথার উপরে একটি অষ্টভুজাকৃতির কাপ ধরে থাকতে দেখা যেত।

১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পর এই ট্রফিটি চিরতরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফলে ১৯৭৪ বিশ্বকাপের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ট্রফি তৈরির প্রয়োজন পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটিকে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। ধারণা করা হয়, সেই সময় ট্রফিটির জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান ছিল ফিফার তৎকালীন ইতালীয় সহ-সভাপতি অটোরিনো বারাসির খাটের নিচে রাখা একটি জুতোর বাক্স! তিনি রোমের একটি ব্যাংকের ভল্ট থেকে এটি সরিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন।

জুলে রিমে ট্রফিটি দুইবার চুরি হয়েছিল! প্রথমবার ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে একটি প্রদর্শনীর সময় এটি চুরি হয়। এক সপ্তাহ পর পিকলস নামে এক পোষা কুকুর সাউথ লন্ডনের নরউড এলকার একটি গাছের নিচে ট্রফি খুঁজে পায়। দ্বিতীয়বার চুরি হয় ১৯৮৩ সালে, ব্রাজিলকে ট্রফিটি চিরতরে দেওয়ার ১৩ বছর পর। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অফিস থেকে চুরি হওয়া সেই ট্রফিটি আর কখনোই উদ্ধার করা যায়নি।

বিজয়ীরা এখন আর ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারে না
২০০৬ সালের আগে বিশ্বকাপ বিজয়ীরা পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আসল ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পেত। কিন্তু বর্তমানে বিজয়ীদের আসল ট্রফির পরিবর্তে একটি সোনার প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জ রেপ্লিকা দেওয়া হয়, যা ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ উইনার্স ট্রফি’ নামে পরিচিত।

আসল ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা ওয়ার্ল্ড ফুটবল মিউজিয়ামে অত্যন্ত নিরাপদে রাখা হয়। এটি কেবল ট্রফি ট্যুর, টুর্নামেন্টের ড্র ও মূল টুর্নামেন্টের সময় বের করা হয়।

ট্রফির নকশা
জুলে রিমে ট্রফি ব্রাজিলকে দিয়ে দেওয়ার পর ১৯৭৪ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন ট্রফির জন্য সাতটি দেশের ভাস্করদের কাছ থেকে ৫৩টি নকশা জমা পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজানিগার নকশাটি নির্বাচিত হয়।

এই ট্রফিতে দেখা যায় ভিত্তি থেকে কিছু রেখা সর্পিলভাবে উঠে এসে পুরো পৃথিবীকে ধারণ করছে। ট্রফিটির কমপ্যাক্ট বডি থেকে দুই জন অ্যাথলেটের অবয়ব ফুটে উঠেছে, যারা বিজয়ের গৌরবান্বিত মুহূর্ত উদযাপন করছে।

নতুন ট্রফির সময় ঘনিয়ে আসছে
১৯৭৪ সাল থেকে ব্যবহৃত বর্তমান ট্রফিটির নিচে বিজয়ী দেশগুলোর নাম ও সাল খোদাই করা থাকে। সবশেষ উঠেছে আর্জেন্টিনার নাম, সেখানে এখন মাত্র চারটি দেশের নাম লেখার জায়গা বাকি আছে।

মানে, ২০৩৮ সালের মধ্যে ট্রফির ভিত্তিটি নামে পূর্ণ হয়ে যাবে। ২০৪২ সালের বিশ্বকাপের জন্য ফিফাকে সম্ভবত নতুন কোনো ট্রফি তৈরি করতে হবে। যদিও সেটি এখন থেকে ১৬ বছর পরের কথা। তবুও এটি নিয়ে এখনই ভাবা যেতে পারে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির যে গল্প আগে হয়তো শোনেননি

আপডেট সময় ০১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ক্রীড়া ইভেন্ট। আর চার মাস পর মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে আগামী আসর। এই চমৎকার টুর্নামেন্টকে ঘিরে যেমন গৌরব রয়েছে, তেমনি ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক আইকনিক ট্রফিটিকে নিয়েও রয়েছে অনেক মজার ও অজানা গল্প।

ট্রফিটি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো যা হয়তো আপনি আগে কখনো শোনেননি: আমরা এখন যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি দেখি সেটি আসলে মূল বা প্রথম ট্রফি নয়, বরং এটি দ্বিতীয় সংস্করণ। ১৯৩০ সালে যখন বিশ্বকাপ শুরু হয়, তখন মূল ট্রফিটির নাম ছিল ‘জুলে রিমে ট্রফি’। এটি ছিল গ্রীক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’-র একটি ভাস্কর্য, যেখানে তাকে মাথার উপরে একটি অষ্টভুজাকৃতির কাপ ধরে থাকতে দেখা যেত।

১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পর এই ট্রফিটি চিরতরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফলে ১৯৭৪ বিশ্বকাপের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ট্রফি তৈরির প্রয়োজন পড়ে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটিকে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল। ধারণা করা হয়, সেই সময় ট্রফিটির জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান ছিল ফিফার তৎকালীন ইতালীয় সহ-সভাপতি অটোরিনো বারাসির খাটের নিচে রাখা একটি জুতোর বাক্স! তিনি রোমের একটি ব্যাংকের ভল্ট থেকে এটি সরিয়ে নিজের কাছে রেখেছিলেন।

জুলে রিমে ট্রফিটি দুইবার চুরি হয়েছিল! প্রথমবার ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে একটি প্রদর্শনীর সময় এটি চুরি হয়। এক সপ্তাহ পর পিকলস নামে এক পোষা কুকুর সাউথ লন্ডনের নরউড এলকার একটি গাছের নিচে ট্রফি খুঁজে পায়। দ্বিতীয়বার চুরি হয় ১৯৮৩ সালে, ব্রাজিলকে ট্রফিটি চিরতরে দেওয়ার ১৩ বছর পর। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের অফিস থেকে চুরি হওয়া সেই ট্রফিটি আর কখনোই উদ্ধার করা যায়নি।

বিজয়ীরা এখন আর ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারে না
২০০৬ সালের আগে বিশ্বকাপ বিজয়ীরা পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত আসল ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পেত। কিন্তু বর্তমানে বিজয়ীদের আসল ট্রফির পরিবর্তে একটি সোনার প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জ রেপ্লিকা দেওয়া হয়, যা ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ উইনার্স ট্রফি’ নামে পরিচিত।

আসল ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা ওয়ার্ল্ড ফুটবল মিউজিয়ামে অত্যন্ত নিরাপদে রাখা হয়। এটি কেবল ট্রফি ট্যুর, টুর্নামেন্টের ড্র ও মূল টুর্নামেন্টের সময় বের করা হয়।

ট্রফির নকশা
জুলে রিমে ট্রফি ব্রাজিলকে দিয়ে দেওয়ার পর ১৯৭৪ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন ট্রফির জন্য সাতটি দেশের ভাস্করদের কাছ থেকে ৫৩টি নকশা জমা পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজানিগার নকশাটি নির্বাচিত হয়।

এই ট্রফিতে দেখা যায় ভিত্তি থেকে কিছু রেখা সর্পিলভাবে উঠে এসে পুরো পৃথিবীকে ধারণ করছে। ট্রফিটির কমপ্যাক্ট বডি থেকে দুই জন অ্যাথলেটের অবয়ব ফুটে উঠেছে, যারা বিজয়ের গৌরবান্বিত মুহূর্ত উদযাপন করছে।

নতুন ট্রফির সময় ঘনিয়ে আসছে
১৯৭৪ সাল থেকে ব্যবহৃত বর্তমান ট্রফিটির নিচে বিজয়ী দেশগুলোর নাম ও সাল খোদাই করা থাকে। সবশেষ উঠেছে আর্জেন্টিনার নাম, সেখানে এখন মাত্র চারটি দেশের নাম লেখার জায়গা বাকি আছে।

মানে, ২০৩৮ সালের মধ্যে ট্রফির ভিত্তিটি নামে পূর্ণ হয়ে যাবে। ২০৪২ সালের বিশ্বকাপের জন্য ফিফাকে সম্ভবত নতুন কোনো ট্রফি তৈরি করতে হবে। যদিও সেটি এখন থেকে ১৬ বছর পরের কথা। তবুও এটি নিয়ে এখনই ভাবা যেতে পারে।