লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু নন্দিনী রায়ের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে গেছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান এবং আসামির দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এই শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ছুটে এসেছি। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে, সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন। পরিবারটিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।’
হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেওয়ার জন্য। চার্জশিট জমা হলে বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে।
আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকার বাসিন্দা নলনী মোহন বর্মনের মেয়ে এবং প্রথম শ্রেণির ছাত্রী নন্দিনী রায় গত ১৫ জুন বিকেলে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পার্শ্ববর্তী একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয়রা সন্দেহজনকভাবে বিধান চন্দ্র নামে এক ব্যক্তিকে কোদাল হাতে ওই খেত থেকে বের হতে দেখেন। পরে তারা সেখানে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিহত নন্দিনীর বাড়িতে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী
মামলার তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রঞ্জিত কুমারকে আটক করে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা আসামিদের তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা আসামির বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং পুলিশের কাছ থেকে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় প্রায় দেড় হাজার মানুষের একটি বিক্ষুব্ধ দল লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে জেলা পুলিশের অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ প্রশাসনের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুরের শিকার হয়।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্তদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন। লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের অভিযোগে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মোঃ মিজানুর রহমান জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট 




















