জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির দেওয়া দুটি বিশেষ তরমুজ নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তার মন্তব্যকে ‘যৌনতাবাদী’ ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি। এ নিয়ে আলবানিজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে দুটি বিশেষ ধরনের তরমুজ উপহার দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পরে ‘বুশ ডিপ’ নামের একটি অনুষ্ঠানে সেই উপহার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান আলবানিজ।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও কৌতুকশিল্পী নিকি অসবোর্ন তরমুজ দুটির প্রসঙ্গ তুলে কৌতুক করেন। এরপর আলবানিজ বলেন, ‘তিনি দুটি এনেছিলেন, আর সেগুলো সুন্দর।’ এ সময় তার মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়।
জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিনগো ইয়ামাগামি বলেন, আলবানিজের মন্তব্য ছিল ‘যৌনতাবাদী কৌতুক’। তার মতে, ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া উপহার নিয়ে এমন মন্তব্য দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে।
ইয়ামাগামি আরও বলেন, জাপানে এসব বিশেষ তরমুজ অত্যন্ত মূল্যবান ও সম্মানের উপহার হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি তরমুজের দাম ৩০ হাজার ইয়েনেরও বেশি হতে পারে। তিনি আলবানিজকে উদ্দেশ করে বলেন, জাপানের মিষ্টি ও রসালো তরমুজ উপভোগ করার সময় সেগুলোকে নারীর শরীরের সঙ্গে তুলনা না করে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
এর পর অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল আলবানিজের কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন।
তবে আলবানিজ নিজের মন্তব্য নিয়ে ক্ষমা চাননি। এক বিরোধী সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটির বক্তব্য তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সম্পর্ক বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঘনিষ্ঠ এবং তার সরকার দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আলবানিজের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তার সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীও। অর্থমন্ত্রী ক্যাটি গ্যালাঘার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিরোধী ও কিছু গণমাধ্যম যেভাবে ব্যাখ্যা করছে, তা তার উদ্দেশ্য ছিল না। সমাজসেবা মন্ত্রী তানিয়া প্লিবেরসেকও মন্তব্যটির ভিন্ন ব্যাখ্যাকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন।
এর আগে একই অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কাইলি মিনোগকে নিয়ে মন্তব্য করেও সমালোচনায় পড়েছিলেন আলবানিজ। উপস্থাপক তাকে কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও বিনোদনশিল্পী রোন্ডা বার্চমোরকে নিয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন করেন। জবাবে আলবানিজ কাইলি মিনোগকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি তিনজনকেই নিয়ে মন্তব্য করেন। পরে ওই মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তিনি।
এবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তরমুজ নিয়ে মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















