ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বয়সকে হার মানিয়ে ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন আলী আকবর যে পথে আপা হেঁটেছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটছেন: ডা. শফিকুর রহমান সবশেষ মামলায় জামিন পেলেন সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক খাদ্য অধিদপ্তর ঠিকাদার সমিতির নতুন সভাপতি সাগর, সম্পাদক মাসুদ, সাংগঠনিক কোয়েল মহেশখালীতে এসএসসি ফলাফলে পাশের হারে আইল্যান্ড হাই স্কুল ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিতে বেতাগীতে চারা বিতরণ করলেন জেলা প্রশাসক  নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ জিপিএ ৫ পেয়েছে মুরাদনগরে পারিবারিক কলহে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, পলাতক স্বামী খারিজের কারণ জানতে চাওয়ায় আইনজীবীকে হেনস্তা শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌনে ৪ কোটি টাকার সোনা ফেলে পালালেন চালক
নামজারি যাচাইয়ে ৬ হাজার টাকা ঘুস

খারিজের কারণ জানতে চাওয়ায় আইনজীবীকে হেনস্তা

দুটি নামজারি নথি যাচাই করতে ৬ হাজার টাকা ঘুস নেওয়ার পরও ওই নথিগুলো খারিজ কেন হয়েছে তা জানতে চাওয়ায় নুরুল আবছার নামের এক আইনজীবীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নুরুল আবছার বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে জানাবেন বললে মোহসেনা তাকে বলেন, তোর যা মন চায়, তা করিস। আমার কিছু করতে পারবি না। আমি ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না।
এ বিষয়ে গত ৭ জুন আইনজীবী নুরুল আবছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নামজারি নথি যাচাই করতে প্রতি নথিতে ৩ হাজার টাকা, মিস রিভিউ মামলার প্রতিবেদন দিতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, এমআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, অংশ সংশোধনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা, স্বেচ্ছায় কর্তনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা এবং করণিক ভুল সংশোধনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জমির অংশ বেশি হলে ঘুসের অঙ্কও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। এসব ঘুসের টাকা উম্মেদার ছৈয়দ আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নুরুল আবছারের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক মাস আগে তিনি পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দুটি নামজারি খতিয়ানের জন্য আবেদন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারির আবেদন দুটি মোহসেনা আক্তারকে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব দাখিলের জন্য পাঠান। মোহসেনা ওই দুটি নামজারির প্রস্তাব দাখিলের জন্য অফিসের উম্মেদার ছৈয়দ আলমকে প্রতি নামজারির জন্য ৩ হাজার টাকা করে ঘুস দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করেন নুরুল আবছার। তিনি বলেন, চকরিয়ায় কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকায় মেয়ের মাধ্যমে উম্মেদার ছৈয়দ আলমকে ৬ হাজার টাকা ঘুস দেন।
ঘুসের টাকা নেওয়ার পর নামজারি খতিয়ান দুটির প্রস্তাব কখন দাখিল করা হবে জানতে চাইলে মোহসেনা তাকে ‘আজ-কাল’ বলে হয়রানি করতে থাকেন। হয়রানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত ৬ জুলাই তিনি মোহসেনার সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নামজারি মামলা দুটির প্রস্তাব দাখিল করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে মোহসেনা জানান, মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেছে। খারিজের কারণ জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে উলটো তাকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন, নামজারি খারিজ হোক বা না হোক, সেটা আমার ব্যাপার। তোকে কেন জবাব দেব?
নুরুল আবছার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, মোহসেনার এমন আচরণের বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে জানাবেন বললে তিনি বলেন, তোর যা মন চায়, তা করিস। আমার কিছু করতে পারবি না। আমি ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, মোহসেনার বাড়ি অফিসের পাশে হওয়ায় তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে তাকে বারবাকিয়া বাজারে মারধরের জন্য লোকজন প্রস্তুত করেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন।
নেজামত উল্লাহ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি একটি খতিয়ানের জন্য আবেদন করেছিলাম। খতিয়ানের নথি যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব দাখিল করতে মোহসেনা আক্তার আমার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করছেন। ঘুসের টাকা দাবির আগে তার উম্মেদারের হাতে ১০ হাজার টাকা ঘুস দিয়েছিলাম। এরপরও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে এসিল্যান্ড তাকে ডেকে আমার সামনে বকাঝকা করেছেন। এখনো আমার আরেকটি খতিয়ান এক মাস ধরে আটকে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে উম্মেদার ছৈয়দ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তার বলেন, এ অভিযোগের শুনানি হয়েছে। এটি মিথ্যা। এ ছাড়া আরও অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুস
নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আকতার নিলয় বলেন, মোহসেনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যাসহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
এ ব্যাপারে জানতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বয়সকে হার মানিয়ে ৫৪ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন আলী আকবর

নামজারি যাচাইয়ে ৬ হাজার টাকা ঘুস

খারিজের কারণ জানতে চাওয়ায় আইনজীবীকে হেনস্তা

আপডেট সময় ০৫:৪৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দুটি নামজারি নথি যাচাই করতে ৬ হাজার টাকা ঘুস নেওয়ার পরও ওই নথিগুলো খারিজ কেন হয়েছে তা জানতে চাওয়ায় নুরুল আবছার নামের এক আইনজীবীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নুরুল আবছার বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে জানাবেন বললে মোহসেনা তাকে বলেন, তোর যা মন চায়, তা করিস। আমার কিছু করতে পারবি না। আমি ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না।
এ বিষয়ে গত ৭ জুন আইনজীবী নুরুল আবছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নামজারি নথি যাচাই করতে প্রতি নথিতে ৩ হাজার টাকা, মিস রিভিউ মামলার প্রতিবেদন দিতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, এমআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, অংশ সংশোধনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা, স্বেচ্ছায় কর্তনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা এবং করণিক ভুল সংশোধনের প্রতিবেদনে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জমির অংশ বেশি হলে ঘুসের অঙ্কও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। এসব ঘুসের টাকা উম্মেদার ছৈয়দ আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী নুরুল আবছারের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক মাস আগে তিনি পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর দুটি নামজারি খতিয়ানের জন্য আবেদন করেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারির আবেদন দুটি মোহসেনা আক্তারকে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব দাখিলের জন্য পাঠান। মোহসেনা ওই দুটি নামজারির প্রস্তাব দাখিলের জন্য অফিসের উম্মেদার ছৈয়দ আলমকে প্রতি নামজারির জন্য ৩ হাজার টাকা করে ঘুস দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করেন নুরুল আবছার। তিনি বলেন, চকরিয়ায় কর্মস্থলে ব্যস্ত থাকায় মেয়ের মাধ্যমে উম্মেদার ছৈয়দ আলমকে ৬ হাজার টাকা ঘুস দেন।
ঘুসের টাকা নেওয়ার পর নামজারি খতিয়ান দুটির প্রস্তাব কখন দাখিল করা হবে জানতে চাইলে মোহসেনা তাকে ‘আজ-কাল’ বলে হয়রানি করতে থাকেন। হয়রানির মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত ৬ জুলাই তিনি মোহসেনার সঙ্গে পুনরায় সাক্ষাৎ করেন। এ সময় নামজারি মামলা দুটির প্রস্তাব দাখিল করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে মোহসেনা জানান, মামলাগুলো খারিজ হয়ে গেছে। খারিজের কারণ জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে উলটো তাকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করেন এবং বলেন, নামজারি খারিজ হোক বা না হোক, সেটা আমার ব্যাপার। তোকে কেন জবাব দেব?
নুরুল আবছার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, মোহসেনার এমন আচরণের বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে জানাবেন বললে তিনি বলেন, তোর যা মন চায়, তা করিস। আমার কিছু করতে পারবি না। আমি ইউএনও-এসিল্যান্ডের ধার ধারি না।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, মোহসেনার বাড়ি অফিসের পাশে হওয়ায় তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে তাকে বারবাকিয়া বাজারে মারধরের জন্য লোকজন প্রস্তুত করেছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন।
নেজামত উল্লাহ নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি একটি খতিয়ানের জন্য আবেদন করেছিলাম। খতিয়ানের নথি যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব দাখিল করতে মোহসেনা আক্তার আমার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করছেন। ঘুসের টাকা দাবির আগে তার উম্মেদারের হাতে ১০ হাজার টাকা ঘুস দিয়েছিলাম। এরপরও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলাম। পরে এসিল্যান্ড তাকে ডেকে আমার সামনে বকাঝকা করেছেন। এখনো আমার আরেকটি খতিয়ান এক মাস ধরে আটকে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে উম্মেদার ছৈয়দ আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহসেনা আক্তার বলেন, এ অভিযোগের শুনানি হয়েছে। এটি মিথ্যা। এ ছাড়া আরও অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ঘুস
নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আকতার নিলয় বলেন, মোহসেনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে তার ব্যাখ্যাসহ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন।
এ ব্যাপারে জানতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।