ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউক্রেনজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯ আত্রাইয়ে ১৩ প্রাণের শোকে স্তব্ধ পরিবারগুলো এখনো কান্না থামছে না স্বজনদের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সম্প্রসারণের আগে কৃষিজমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন পীরগঞ্জে ১০ দাখিল মাদ্রাসা ও ২ উচ্চ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ২৮ লাখ টাকার চোরাই মোবাইলসহ আটক ৩ বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ফরিদপুর গণপূর্তের ক্যাশিয়ার জাহাঙ্গীরের ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় বদলির প্রজ্ঞাপন অমান্য করে পদ আঁকড়ে হারুনুর রশিদ এনআইসিভিডিতে আ.লীগপন্থী চিকিৎসকসহ ২ জনের পদায়নে উঠছে নানা প্রশ্ন

পীরগঞ্জে ১০ দাখিল মাদ্রাসা ও ২ উচ্চ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

রংপুরের পীরগঞ্জে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে এসব ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার যেসব দাখিল মাদ্রাসায় এবারের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, সেগুলো হলো— ছাতুয়া দাখিল মাদ্রাসা, অনন্তরামপুর দাখিল মাদ্রাসা, কুমরসহি দাখিল মাদ্রাসা, পত্নীচড়া দাখিল মাদ্রাসা, মদনখালী দাখিল মাদ্রাসা, বড় আলমপুর আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, ছোট উজিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, গন্ধর্বপুর দাখিল মাদ্রাসা, খেদমতপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও জুনিদপুর দাখিল মাদ্রাসা।
এ ছাড়া শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে উপজেলার কুমরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই বছর আগে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টির ১৮ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। বাকি শিক্ষকদের এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে ফলাফল ভালো করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ বা নোটিশ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনজুড়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৯

পীরগঞ্জে ১০ দাখিল মাদ্রাসা ও ২ উচ্চ বিদ্যালয়ে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০১:৪১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০টি দাখিল মাদ্রাসা ও দুটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে এসব ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার যেসব দাখিল মাদ্রাসায় এবারের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, সেগুলো হলো— ছাতুয়া দাখিল মাদ্রাসা, অনন্তরামপুর দাখিল মাদ্রাসা, কুমরসহি দাখিল মাদ্রাসা, পত্নীচড়া দাখিল মাদ্রাসা, মদনখালী দাখিল মাদ্রাসা, বড় আলমপুর আবুল হোসেন দাখিল মাদ্রাসা, ছোট উজিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, গন্ধর্বপুর দাখিল মাদ্রাসা, খেদমতপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও জুনিদপুর দাখিল মাদ্রাসা।
এ ছাড়া শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে উপজেলার কুমরপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়।
ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি প্রায় দুই বছর আগে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টির ১৮ জন পরীক্ষার্থী থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৫ জন। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। বাকি শিক্ষকদের এখনো এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে ফলাফল ভালো করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ বা নোটিশ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা প্রয়োজন।