ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হতে শুরু করেছেন। আপিল কার্যক্রমের প্রথম দিন, সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) মোট ৪২ জন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ইসিতে আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক আবেদন পড়লেও সিলেট অঞ্চল থেকে এদিন কেউ আপিল করেননি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ১০টি অঞ্চলভিত্তিক বুথে সকাল ১০টা থেকে এই আপিল গ্রহণ শুরু হয়। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে যাচাই-বাছাই শেষে মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল, বিপরীতে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জনে।
অঞ্চলভিত্তিক আপিলের চিত্র:
প্রথম দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা অঞ্চলে সর্বাধিক ১৫টি আপিল জমা পড়েছে। এছাড়া ফরিদপুর অঞ্চলে ৭টি, রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলে ৫টি করে, রংপুর ও খুলনা অঞ্চলে ৩টি করে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২টি আপিল দায়ের হয়েছে। বরিশাল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে মাত্র ১টি করে আবেদন জমা পড়েছে। তবে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়, সেখানে একজন বৈধ প্রার্থীর মনোনয়ন চ্যালেঞ্জ করে উল্টো আপিল করেছেন এক সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি।
স্বতন্ত্রদের বাধার কারণ:
মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় বড় অংশজুড়েই রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। বাতিল হওয়া ৭২৩টির মধ্যে প্রায় ৩৫০টিই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের, যা মোট বাতিলের প্রায় অর্ধেক। মূলত নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তথ্যে গরমিল বা ত্রুটি থাকার কারণেই তাদের বেশিরভাগ ছিটকে পড়েছেন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিল গ্রহণ চলবে। এরপর ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি শেষে আপিল নিষ্পত্তি করবে ইসি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























