ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: এস এম জিলানী শুধু চাকরি নয়, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাগরে লঘুচাপ, ঝড়ের শঙ্কায় বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আমানুল্লাহর টেন্ডার কেলেঙ্কারি আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন নীলফামারী সদরের ইটাখোলায় রাস্তার সংস্কার কাজ বিলম্ব করায় এলাকাবাসীর মানববন্ধন সাবেক রাষ্ট্রপতি আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কসবায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বাস, আহত অন্তত ২০ শতাধিক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে শুরু আইপিএসসি বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উৎসব

আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)-এ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুশাসনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়, পরিকল্পনা সেলের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে তার স্থলে বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রভাবশালী অবস্থানে আনার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসআরডিআইয়ের একটি অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাব পরিচালনার নামে অতীতে একটি ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়, যদিও ল্যাবটি কার্যকরভাবে চালু হয়নি। ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি প্রত্যাহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকায় সংযুক্ত রাখা হয়েছে এবং অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৪ আগস্টের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আনারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযোগকারীরা এসআরডিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পূর্বে চাকরিচ্যুত ৬৩ জন কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআরডিআই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে: এস এম জিলানী

আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগে এসআরডিআইতে বিতর্ক, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় ০৫:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই)-এ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের একাংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুশাসনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়, পরিকল্পনা সেলের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে তার স্থলে বিতর্কিত এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে রদবদলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রভাবশালী অবস্থানে আনার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসআরডিআইয়ের একটি অ্যাক্রেডিটেশন ল্যাব পরিচালনার নামে অতীতে একটি ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়, যদিও ল্যাবটি কার্যকরভাবে চালু হয়নি। ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে তাদের আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এক উপপরিচালকের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু কর্মকর্তার সরকারি গাড়ি প্রত্যাহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকায় সংযুক্ত রাখা হয়েছে এবং অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৪ আগস্টের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আনারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযোগকারীরা এসআরডিআইয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পূর্বে চাকরিচ্যুত ৬৩ জন কর্মচারীকে পুনর্বহালের দাবিও জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআরডিআই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।