ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজীর পর এবার বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী প্রতিভাবান ফুটবলার কিউবা মিচেল। চলতি মৌসুমেই ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ড থেকে বড় স্বপ্ন নিয়ে কিংসের ডেরায় ভিড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন বছরের তৃতীয় দিনেই, শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেন এই মিডফিল্ডার। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিউবা লিখেছেন, ‘‘আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি, যা এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। বারবার সমস্যাগুলো সামনে এলেও কোনো সমাধান হয়নি। এমতাবস্থায় খেলা চালিয়ে যাওয়া আমার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।’’
তিন মৌসুমের জন্য কিংসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন কিউবা। কিন্তু এক মৌসুমের অর্ধেক না যেতেই তিনি চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটলেন। এর আগে আর্থিক সংকটের কারণে ক্লাব ছেড়েছিলেন আরেক প্রবাসী তারকা তারিক কাজী। কিংসের ৫ আগস্ট পরবর্তী আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বিদেশি ফুটবলার ও কোচ পাওনা আদায়ে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছেন, যার ফলে ক্লাবটির ওপর খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে ফিফা।
বসুন্ধরা কিংস ২০১৮ সালে প্রিমিয়ার লিগে যাত্রা শুরুর পর ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের মতো বিশ্বকাপ খেলা তারকাদের এনে চমক দেখিয়েছিল। অতীতে বোনাস ও সুযোগ-সুবিধায় সেরা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশে মাত্র পাঁচ মাসের অবস্থানে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি কিউবা। হংকং ম্যাচে স্কোয়াডে না থাকলেও ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘‘এখানে সময়টা অল্প হলেও স্মরণীয় ছিল। আমি এখানকার সংস্কৃতি ও মানুষকে আপন করে নিয়েছিলাম।’’
সতীর্থদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘যারা বেতন না পেয়ে বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে নীরবে কষ্ট সহ্য করছেন, তারা যেন নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন। ন্যায্য পাওনা চাওয়ার কারণে কারও নিজেকে অসহায় ভাবা উচিত নয়।’’
এ বিষয়ে বসুন্ধরা কিংস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্রীড়া ডেস্ক 

























