সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার দেশভাগ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মোদির মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু “চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযান: ওয়ারড্রব থেকে হেরোইন-ইয়াবা-গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি আটক অনিয়মের বেড়াজালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী-সচিবের নির্দেশেও ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু সংলগ্ন রক্ষা বাঁধ। নদীর তীব্র স্রোতে সম্প্রতি বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদীর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মহিপুর এলাকার রক্ষা বাঁধে নতুন করে ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও চলতি মৌসুমের প্রবল স্রোতের সামনে তা টিকতে পারেনি। ইতোমধ্যে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদেরকে নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক আমাদের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। ভাঙন আরও বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
শিক্ষার্থী আলমগীর মিয়া জানান, সাম্প্রতিক ভাঙনের দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “নদীর কিনারা দ্রুত সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়কটি ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।”
কৃষক মোকাররম আলী বলেন, “প্রতিবছর জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু

আপডেট সময় ০২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে আবারও হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু সংলগ্ন রক্ষা বাঁধ। নদীর তীব্র স্রোতে সম্প্রতি বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে তিস্তা নদীর প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় মহিপুর এলাকার রক্ষা বাঁধে নতুন করে ক্ষয় শুরু হয়েছে। গত বছর ভাঙন ঠেকাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও চলতি মৌসুমের প্রবল স্রোতের সামনে তা টিকতে পারেনি। ইতোমধ্যে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদেরকে নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক আমাদের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। ভাঙন আরও বাড়লে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
শিক্ষার্থী আলমগীর মিয়া জানান, সাম্প্রতিক ভাঙনের দৃশ্য দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “নদীর কিনারা দ্রুত সরে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সড়কটি ঝুঁকিতে পড়ে যাবে।”
কৃষক মোকাররম আলী বলেন, “প্রতিবছর জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, অস্থায়ী ব্যবস্থার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুরু থেকেই দুর্বল ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।