ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩ টন সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ, এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা লালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর উদ্বোধন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ‘তুরাপ’ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মালয়েশিয়া মেয়ের স্বামীর সঙ্গে শাশুড়ী ওমরায় যেতে পারবেন? রামপালে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ ৯৯৯-এ ফোন, ঘরের দরজা ভেঙে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

স্নাতক পাসের দুই বছর আগেই মিথ্যা যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরি

  • রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৬:৪৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬১৯ বার পড়া হয়েছে

স্নাতক পাস করেছেন ২০১৪ সালে; কিন্তু এরও দুই বছর আগে স্নাতক ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. সোহান মিয়া। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। সোহান মিয়া বর্তমানে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন উপাচার্য ড. মু. আব্দুল জলিল
মিয়ার আমলে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপাচার্য থাকাকালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাতে আসা নিয়োগ সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩০ মে বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষকসহ মোট ৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ছয়টি শূন্যপদে নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. সোহান মিয়াকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৯৮৪৩১ অনুযায়ী দেখা যায়, মো. সোহান মিয়া রংপুর সরকারি কলেজের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০১৪ সালে স্নাতক পাস করেন। তার স্নাতক সনদ ২০১৬ সালে মুদ্রণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় স্নাতক ডিগ্রিধারী পরিচয়ে চাকরিতে যোগ দেন। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে গিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দেখা মেলেনি। তার ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। অভিযোগ সংক্রান্ত প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলে তা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় সংরক্ষিত তার ব্যক্তিগত নথিতে যুক্ত করা হয়। আরও জানা যায়, সোহান মিয়া সংস্থাপন শাখা-১-এ কর্মচারী ফাইল সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপ-রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ শামীমা সুলতানার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-রেজিস্ট্রার শামীমা সুলতানা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই কর্মচারীর ফাইলে স্নাতক সনদ যুক্ত করা হয়েছে—এ তথ্য তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন?’ তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কোনো আত্মীয় নন। আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার দপ্তর ও সংস্থাপন শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন উর রশিদ বলেন, ‘এই নিয়োগ অনেক আগের। তবে অভিযোগ থাকলে তার ব্যক্তিগত নথি যাচাই করা হবে।’ উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে সিন্ডিকেটে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ টন সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ, এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

স্নাতক পাসের দুই বছর আগেই মিথ্যা যোগ্যতা দেখিয়ে চাকরি

আপডেট সময় ০৬:৪৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্নাতক পাস করেছেন ২০১৪ সালে; কিন্তু এরও দুই বছর আগে স্নাতক ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী মো. সোহান মিয়া। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। সোহান মিয়া বর্তমানে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় অভিযুক্ত তৎকালীন উপাচার্য ড. মু. আব্দুল জলিল
মিয়ার আমলে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তার উপাচার্য থাকাকালে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাতে আসা নিয়োগ সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩০ মে বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষকসহ মোট ৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে ছয়টি শূন্যপদে নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এ পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে এবং মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ে দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. সোহান মিয়াকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৯৮৪৩১ অনুযায়ী দেখা যায়, মো. সোহান মিয়া রংপুর সরকারি কলেজের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ২০১৪ সালে স্নাতক পাস করেন। তার স্নাতক সনদ ২০১৬ সালে মুদ্রণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায় স্নাতক ডিগ্রিধারী পরিচয়ে চাকরিতে যোগ দেন। এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে গিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দেখা মেলেনি। তার ব্যক্তিগত দুটি মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। অভিযোগ সংক্রান্ত প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, চাকরিতে যোগদানের পর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলে তা পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় সংরক্ষিত তার ব্যক্তিগত নথিতে যুক্ত করা হয়। আরও জানা যায়, সোহান মিয়া সংস্থাপন শাখা-১-এ কর্মচারী ফাইল সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপ-রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ শামীমা সুলতানার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-রেজিস্ট্রার শামীমা সুলতানা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই কর্মচারীর ফাইলে স্নাতক সনদ যুক্ত করা হয়েছে—এ তথ্য তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন?’ তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কোনো আত্মীয় নন। আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার দপ্তর ও সংস্থাপন শাখার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন উর রশিদ বলেন, ‘এই নিয়োগ অনেক আগের। তবে অভিযোগ থাকলে তার ব্যক্তিগত নথি যাচাই করা হবে।’ উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা নিয়োগ পেয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে সিন্ডিকেটে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’