ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণপূর্তের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যের গুরুতর অভিযোগ নীলফামারীতে টিআরসি (পুলিশ কনস্টেবল) নিয়োগের প্রাথমিক বাছাই শুরু। রাজধানীর উত্তরায় মদের বারে নারী পুরুষসহ আটক ১৪০ জন।। ১৩ দিনেই পাল্টে গেল তদন্ত প্রতিবেদন, দোষী থেকে ‘নির্দোষ’ পিডি তবিবুর রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০ ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদকে দুশ্চিন্তায় ফেললেন এমবাপে পীরগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নেই অভিযান, আতঙ্কে গ্রামবাসী নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ
১৩৮ প্রকল্পে ধীরগতি

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে ১২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬১১ বার পড়া হয়েছে

চলতি অর্থবছরের চার মাস পেরিয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর আওতায় চলমান ১৩৮টি প্রকল্পে বিরাজ করছে ধীরগতি। অর্থাৎ সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নে একটা দুরবস্থা বিরাজ করছে। প্রকল্পগুলোর আওতায় মোট বরাদ্দ রয়েছে ২০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ গড় খরচ হয়েছে বরাদ্দের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। পৃথকভাবে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এডিপি বাস্তবায়নের হার এখনো ৩ শতাংশের নিচেই রয়ে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এডিপির বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘এত চেষ্টা করেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়ানো সম্ভব হলো না। এর জন্য সেই আগের কারণগুলো দায়ি। পাশাপাশি নতুন করে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাহলো- প্রকল্প পরিচালক (পিডি) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ পিডি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কেননা এখন আর আগের মতো দুর্নীতির সুযোগ নেই। আমরা সরকারি ক্রয় নীতিমালা এমনভাবে সংস্কার করেছি, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সব দরপত্রই ই-জিপিতে করতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ ওই একই দুর্নীতির সুযোগ কমে গেছে। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৫টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে সাত হাজার ৪৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) খরচ হয়েছে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১৩ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা; খরচ হয়েছে ০ দশমিক ৮১ শতাংশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ৩০টি প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ২৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ চার হাজার ৮০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা; ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। সুরক্ষা সেবা বিভাগের আট প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ২৬৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। আরও আছে জননিরাপত্তা বিভাগের ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ১৮৪ কোটি টাকা; খরচ হয়েছে ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ প্রকল্পে বরাদ্দ ৬৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ছয় প্রকল্পে বরাদ্দ ৭৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ১ শতাংশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ৭২৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা; ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তিন প্রকল্পে ১৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঁচ প্রকল্পে ১২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এক টাকাও খরচ হয়নি। আর সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এক টাকাও খরচ হয়নি।

পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়া হলেও ব্যয় করার খবর থাকে না। এটা চলতে দেওয়া যায় না। কেননা সরকারের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে দেশ উন্নত হবে না। কিন্তু আমরা চলছি বেখেয়ালভাবে। এরকম চলতে থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না।’

আইএমইডি জানায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে সার্বিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। এই টাকার মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮১০ কোটি, বৈদেশিক ঋণের ৭ হাজার ৮৮২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের এক হাজার ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায় ২৮টি বাধা চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। এগুলোর মধ্যে প্রকল্প তৈরির সময় ১১টি, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১২টি এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ৬টি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের অন্যতম বাধাগুলো হলো-ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখিত কর্মপরিকল্পনা বা ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্পের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা বা পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা। এছাড়া প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, নিয়মিত পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশ কামিটি) ও স্টিয়ারিং কমিটির সভা না করা, ঠিকাদারের দায়িত্ব অবহেলা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন এবং প্রকল্পের কাজে যুক্তদের জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্তের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যের গুরুতর অভিযোগ

১৩৮ প্রকল্পে ধীরগতি

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে ১২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

আপডেট সময় ০১:০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

চলতি অর্থবছরের চার মাস পেরিয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে পিছিয়ে আছে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর আওতায় চলমান ১৩৮টি প্রকল্পে বিরাজ করছে ধীরগতি। অর্থাৎ সার্বিক এডিপি বাস্তবায়নে একটা দুরবস্থা বিরাজ করছে। প্রকল্পগুলোর আওতায় মোট বরাদ্দ রয়েছে ২০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ গড় খরচ হয়েছে বরাদ্দের ১ দশমিক ৩২ শতাংশ। পৃথকভাবে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে এডিপি বাস্তবায়নের হার এখনো ৩ শতাংশের নিচেই রয়ে গেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এডিপির বাস্তবায়ন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘এত চেষ্টা করেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন গতি বাড়ানো সম্ভব হলো না। এর জন্য সেই আগের কারণগুলো দায়ি। পাশাপাশি নতুন করে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তাহলো- প্রকল্প পরিচালক (পিডি) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ পিডি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কেননা এখন আর আগের মতো দুর্নীতির সুযোগ নেই। আমরা সরকারি ক্রয় নীতিমালা এমনভাবে সংস্কার করেছি, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সব দরপত্রই ই-জিপিতে করতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঠিকাদারও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ ওই একই দুর্নীতির সুযোগ কমে গেছে। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ১৫টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে সাত হাজার ৪৮৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) খরচ হয়েছে ১ দশমিক ১৩ শতাংশ। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১৩ প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয় দুই হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা; খরচ হয়েছে ০ দশমিক ৮১ শতাংশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ৩০টি প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ২৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ চার হাজার ৮০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা; ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। সুরক্ষা সেবা বিভাগের আট প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ২৬৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। আরও আছে জননিরাপত্তা বিভাগের ১৪ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ১৮৪ কোটি টাকা; খরচ হয়েছে ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১০ প্রকল্পে বরাদ্দ ৬৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ছয় প্রকল্পে বরাদ্দ ৭৭৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা; খরচ হয়েছে ১ শতাংশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯ প্রকল্পে বরাদ্দ ৭২৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা; ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তিন প্রকল্পে ১৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঁচ প্রকল্পে ১২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এক টাকাও খরচ হয়নি। আর সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এক টাকাও খরচ হয়নি।

পরিকল্পনা সচিব এসএম শাকিল আকতার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বরাদ্দ নেওয়া হলেও ব্যয় করার খবর থাকে না। এটা চলতে দেওয়া যায় না। কেননা সরকারের আয়-ব্যয়ের মধ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে দেশ উন্নত হবে না। কিন্তু আমরা চলছি বেখেয়ালভাবে। এরকম চলতে থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না।’

আইএমইডি জানায়, চলতি অর্থবছরের চার মাসে সার্বিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো খরচ করতে পেরেছে ১৯ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। এই টাকার মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮১০ কোটি, বৈদেশিক ঋণের ৭ হাজার ৮৮২ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের এক হাজার ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে খরচ হয়েছিল ২১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায় ২৮টি বাধা চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। এগুলোর মধ্যে প্রকল্প তৈরির সময় ১১টি, প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১২টি এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ৬টি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এডিপি বাস্তবায়নের অন্যতম বাধাগুলো হলো-ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) উল্লেখিত কর্মপরিকল্পনা বা ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন না করা, প্রকল্পের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা বা পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা। এছাড়া প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব, নিয়মিত পিআইসি (প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশ কামিটি) ও স্টিয়ারিং কমিটির সভা না করা, ঠিকাদারের দায়িত্ব অবহেলা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন এবং প্রকল্পের কাজে যুক্তদের জন্য পুরস্কার বা শাস্তির ব্যবস্থা না থাকা।