ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিআরটিসির জোয়ার সাহারা ডিপোর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ‘কর্তনের’ অভিযোগ এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পিআইও এনামুল হকের দীর্ঘ ‘রাজত্ব’ দুদকের জালে শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুয়েল শিকদার ১৫ বছর আউটসোর্সিং টেন্ডারে দেলোয়ারের আধিপত্য দুদকের মামলার আসামি এহসানুল ইমাম, তবুও রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল বিআইডব্লিউটিএতে আক্তারের রাজত্ব, আওয়ামী সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় তীব্র শিক্ষক সংকটে দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শাকিরা-পিকের বাড়ি কিনছেন ইয়ামাল, দাম ১৫৭ কোটি

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে সংসার পেতেছেন অধ্যক্ষ

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের দোতলার একটি কক্ষের পর্দা সরালেই মনে হবে এটি যেন কোনো বসতবাড়ি। আসলে কক্ষটি সরকারি কলেজের প্রশাসনিক কাজের কক্ষ। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ ওই কক্ষকে নিজের বাসস্থানে পরিণত করেছেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে। অধ্যক্ষকের নাম প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাস হতে প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রাত্রীযাপন করে আসছেন। এতে পরীক্ষার সময় ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে দায়িত্বে থাকা বাকি শিক্ষকদের। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি সপ্তাহের বুধবার রাতে তার নিজ বাড়িতে চলে যান এবং আসেন রোববার সকালে। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি ছুটিতে থাকেন। এছাড়া তিনি একাদশ শ্রেণির দুটি কক্ষের দেয়াল ভেঙে বড় করছেন।

তবে, সব অভিযোগ মিথ্যা জানিয়ে তিনি বলেন, কলেজের স্বার্থেই আমি একটি রুমে অবস্থান করছি। কলেজটিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিছানা ও আসবাবপত্র রয়েছে। কক্ষে টানানো দড়িতে কাপড় ঝুলছে। টেবিলের ওপর প্লেট, জগ, ফ্যান। প্রথম দিকে কিছু দিন তিনি ওই খানে রান্না করেও খেতেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে এক কর্মচারীর বাড়ি হতে নিয়মিত খাবার আসায় রান্না করেন না। কলেজের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে দেখা যায় দেয়াল ভাঙা। শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক এ কে এম গোলাম ফারুক বলেন, কলেজ কক্ষের দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষ স্যার আমাকে হুমকি দিয়েছেন, আপনার অবসরের কাগজপত্র কিন্ত আমাকেই স্বাক্ষর করতে হবে। শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, দেয়ালগুলো ভেঙে যে রুমগুলো বড় করা হয়েছে, এতে একাডেমি কাউন্সিলের অনুমতি দরকার। কিন্তু সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। উপস্থিতির স্বাক্ষরে রেজুলেশন লিখে দেখানো হয়েছে। আসলে দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমাদের কোনো মিটিংও হয়নি।

প্রভাষক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, কলেজে রাত্রিযাপন করার কোনো আইন নেই। তাছাড়া সরকার প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়া দেয়। অধ্যক্ষ স্যার যে রুমে অবস্থান করছেন সেটি পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল রুম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি রুমে অবস্থান করায় পরীক্ষার সময় আমাদের নানান জটিলতায় পরতে হচ্ছে। কলেজের নৈশপ্রহরী লাল মিয়া বলেন, স্যার ওপরে একটা রুমে থাকেন। তিনি বুধবার রাতে বাড়িতে যান, আর রোববার সকালে যথাসময়ে এসে কলেজ করেন। আগে তো রুমেই রান্না করে খেতেন। এখন আমি আমার বাড়ি থেকে খাবার দিয়ে আসি। তবে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে বেশি কথা বলতে রাজি হয়নি। শুধু জানিয়েছেন, কলেজের স্বার্থে তিনি একটি কক্ষে অনেক কষ্ট করে থাকেন। বাকি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। ছুটির দরখাস্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু ডিজি স্যার প্রশ্ন করার অধিকার রাখেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিআরটিসির জোয়ার সাহারা ডিপোর ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ‘কর্তনের’ অভিযোগ

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষে সংসার পেতেছেন অধ্যক্ষ

আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

কলেজের প্রশাসনিক ভবনের দোতলার একটি কক্ষের পর্দা সরালেই মনে হবে এটি যেন কোনো বসতবাড়ি। আসলে কক্ষটি সরকারি কলেজের প্রশাসনিক কাজের কক্ষ। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনিক নীতিমালা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ ওই কক্ষকে নিজের বাসস্থানে পরিণত করেছেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী জানান, অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে। অধ্যক্ষকের নাম প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী। তিনি চলতি বছরের এপ্রিল মাস হতে প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে রাত্রীযাপন করে আসছেন। এতে পরীক্ষার সময় ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে দায়িত্বে থাকা বাকি শিক্ষকদের। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি সপ্তাহের বুধবার রাতে তার নিজ বাড়িতে চলে যান এবং আসেন রোববার সকালে। প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি ছুটিতে থাকেন। এছাড়া তিনি একাদশ শ্রেণির দুটি কক্ষের দেয়াল ভেঙে বড় করছেন।

তবে, সব অভিযোগ মিথ্যা জানিয়ে তিনি বলেন, কলেজের স্বার্থেই আমি একটি রুমে অবস্থান করছি। কলেজটিতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিছানা ও আসবাবপত্র রয়েছে। কক্ষে টানানো দড়িতে কাপড় ঝুলছে। টেবিলের ওপর প্লেট, জগ, ফ্যান। প্রথম দিকে কিছু দিন তিনি ওই খানে রান্না করেও খেতেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে এক কর্মচারীর বাড়ি হতে নিয়মিত খাবার আসায় রান্না করেন না। কলেজের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে দেখা যায় দেয়াল ভাঙা। শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রভাষক এ কে এম গোলাম ফারুক বলেন, কলেজ কক্ষের দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন লেখানো হয়েছে। অধ্যক্ষ স্যার আমাকে হুমকি দিয়েছেন, আপনার অবসরের কাগজপত্র কিন্ত আমাকেই স্বাক্ষর করতে হবে। শিক্ষক পরিষদের কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, দেয়ালগুলো ভেঙে যে রুমগুলো বড় করা হয়েছে, এতে একাডেমি কাউন্সিলের অনুমতি দরকার। কিন্তু সেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। উপস্থিতির স্বাক্ষরে রেজুলেশন লিখে দেখানো হয়েছে। আসলে দেয়াল ভাঙার বিষয়ে আমাদের কোনো মিটিংও হয়নি।

প্রভাষক এটিএম আতিকুর রহমান বলেন, কলেজে রাত্রিযাপন করার কোনো আইন নেই। তাছাড়া সরকার প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়া দেয়। অধ্যক্ষ স্যার যে রুমে অবস্থান করছেন সেটি পরীক্ষার সময় কন্ট্রোল রুম হিসাবে ব্যবহার করা হয়। তিনি রুমে অবস্থান করায় পরীক্ষার সময় আমাদের নানান জটিলতায় পরতে হচ্ছে। কলেজের নৈশপ্রহরী লাল মিয়া বলেন, স্যার ওপরে একটা রুমে থাকেন। তিনি বুধবার রাতে বাড়িতে যান, আর রোববার সকালে যথাসময়ে এসে কলেজ করেন। আগে তো রুমেই রান্না করে খেতেন। এখন আমি আমার বাড়ি থেকে খাবার দিয়ে আসি। তবে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. মজিবল হায়দার চৌধুরী এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে বেশি কথা বলতে রাজি হয়নি। শুধু জানিয়েছেন, কলেজের স্বার্থে তিনি একটি কক্ষে অনেক কষ্ট করে থাকেন। বাকি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। ছুটির দরখাস্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু ডিজি স্যার প্রশ্ন করার অধিকার রাখেন।