বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুস্ঠিত হয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে পায়রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মরদেহটি জাবেদ ইমন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রের বলে সনাক্ত করেছে তার পরিবার। ইমন আমতলী এ কে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রবিবার (০৯ আগস্ট) পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের এ কে স্কুল পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
নিহত জাবেদ ইমন উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই বিকেলে ইমন আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে গেলে ওই বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার তাকে ডেকে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমরান তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। ওই দিন রাত ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ইমনের খোঁজ করলে তিনি ইমরান তালুকদারের সঙ্গে আছেন বলে জানতে পারেন।
পরিবারের দাবি, ওই রাতেই ইমরান তালুকদার ইমনের বাড়িতে গিয়ে তার মা ফাতেমা বেগমের কাছে ইমনের কাছে তিন হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন। পরদিন ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ছাত্রদল সদস্যসচিব সগির বিশ্বাস ইমনের বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ইমন বালিয়াতলীতে আছেন বলে জানান। ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদা অভিযোগ করেন, সগির তিন দিন বিভিন্নভাবে তাদের পরিবারকে হয়রানি করেছেন।
এ ঘটনায় ইমনের বাবা ২৮ জুলাই আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পায়রা নদীর তীর থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। মরদেহটি পচে যাওয়ায় তখন পরিবারের সদস্যরা সনাক্ত করতে পারেননি। ৩০ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিনই মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে বরগুনায় দাফন করা হয়।
এরপর ৩১ জুলাই আমতলী থানা পুলিশ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে নেয়। সেখানে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি মরদেহের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখানো হলে তিনি সেটি তার ছেলে জাবেদ ইমনের বলে সনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, স্কুলছাত্র ইমনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তালতলী নিদ্রা-সকিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাগর ভদ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমনের মরদেহ সনাক্ত হওয়ার পর সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ইমনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রবিবার বেলা ১১টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা সড়কের এ কে স্কুল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। এতে ইমনের সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাবেদ ইমন একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় পায়রা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
নিহতের বাবা আউয়াল প্যাদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই। ইমরান তালুকদার আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই সে নিখোঁজ। সগির বিশ্বাস নামে একজন আমার ছেলের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সে আমার ছেলের সঠিক সন্ধান দেয়নি। উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করেছে।’
তালতলী নিদ্রা-সকিনা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক সাগর ভদ্র বলেন, ‘স্কুলছাত্র ইমনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘স্কুলছাত্র ইমনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তালতলী নৌ-পুলিশের পরিদর্শককে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব -স্টাফ রিপোর্টার 




















