ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বরগুনার আমতলীতে বস্তাবন্দি মরদেহ সনাক্ত, স্কুলছাত্র হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ​ব্রাহ্মণপাড়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ইউজিসির ৪ সদস্য ও সচিব এর সাথে পবিপ্রবির ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ম্যানেজ করে আবারও মাঠে মিঠু সিন্ডিকেট! কাজী জেসিনের নিয়োগে আইনি জটিলতা, সংশোধন করবে সরকার মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪
প্রেম মানে না ধর্ম, নবমুসলিম কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্বামী কারাগারে

ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন

ধর্মীয় পরিচয় বদলে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার এক কিশোরী। সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন মোছা. লামহা আক্তার নিলা। ভালোবাসার মানুষ মো. হোসেন আলীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর বর্তমানে তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে অনাগত সন্তানের বাবা হোসেন আলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত এফিডেভিট ও বিবাহসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, কিশোরীর পূর্ব নাম ছিল দীপা রানী শীল। তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম শ্রী পরেশ চন্দ্র শীল এবং মাতার নাম শ্রীমতি দিপ্তী রানী শীল। নথিতে তার বয়স ১৮ বছর এবং বর্তমান ধর্ম ইসলাম (সুন্নী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফিডেভিটে ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকেই মুসলিম পরিবারের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও চলাফেরার কারণে ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি ও আচার-আচরণের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিজের ইচ্ছায় তিনি পূর্বের ধর্মীয় পরিচয় পরিত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম লামহা আক্তার নিলা গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিবাহের এফিডেভিটে মো. হোসেন আলী, পিতা মো. মুসা মিয়া ও মাতা মোছা. সোহাগী বেগম, ঠিকানা চক ভগবানপুর, ঢোলডাঙ্গা, সাদুল্যাপুর, গাইবান্ধা—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে তার বয়স ২১ বছর এবং পেশা ব্যবসা বলে উল্লেখ রয়েছে তবে প্রকৃত তারা কিশোর কিশোরী।

ভালোবাসা থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত
বিবাহের এফিডেভিটে হোসেন আলী ও লামহা আক্তার নিলা উভয়েই দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরকে চিনতেন ও জানতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে ছাড়া থাকতে না পারার অবস্থায় পৌঁছান এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাস্তবতার মধ্যেও বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের দেওয়া ঘোষণায় উভয়েই নিজেদের সাবালক-সাবালিকা এবং আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বলে দাবি করেন করলেও তারা উভয়ে কিশোর কিশোরী এ-ই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়ের বাবার করা মামলায় দীর্ঘদিন পালাতক থাকার পর গ্রেফতার হন সাভার থেকে গ্রেফতারের পর জানা গেল কিশোরী প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেডিকেল করানো হয়েছে রিপোর্ট হাতে আসলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানাজায়, ছেলে-মেয়ে কিশোর কিশোরী গত জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং তারা ধর্ম অনুসারে বিয়ে করে একটি নাম জুডিশিয়াল এফিডেভিট করেন তবে বয়স কম থাকায় কাজীর নিকট রেজিস্ট্রি করতে পারেনি কিন্তু এই কিশোরীর আগত সন্তানের কি হবে? স্বামী কারাগারে থাকায় কিশোরীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
তবে পুরো ঘটনাটির আইনগত দিকও গুরুত্বপূর্ণ। বিবাহের সময় উভয়ের প্রকৃত বয়স, বিয়ের বৈধতা, ধর্মান্তরের স্বেচ্ছাসম্মতি, বিবাহের নিবন্ধন না থাকলেও কিশোরীর পেটে বাচ্চা তার জবানবন্দি এবং হোসেন আলীর কারাগারে যাওয়ার প্রকৃত কারণ—এসব বিষয় যাচাই না করে কোনো পক্ষকে দোষী বা নির্দোষ বলা সমীচীন নয়।
এছাড়া কিশোরীর গর্ভাবস্থা ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্বের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরীর বাবা শ্রী পরেশ চন্দ্র এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরীর বাবা শ্রী পরেশ চন্দ্র বলেন আমি কিছু চাই না আমি মেয়েকে ফেরত পেয়েছি।মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন মেয়ে ভালো আছে মেয়ে বলতে পারেনা সম্ভবত ৫-৬ মাসের গর্ভবতী। মেয়েকে ভারত পাঠা বো অন্য কোথাও পাঠানো এগুলো গুজব বলে পরেশ চন্দ্র জানান
তবে এ বিষয় ছেলের ভগ্নিপতি জানান, মেয়েটি কিছু নবমুসলিম আমার ছোট শালকের স্ত্রী সে ছয় থেকে সাত মাসের গর্ভবতী আমরা শুনেছি তার পেটের সন্তান নষ্ট করে তাকে দ্রুত ভারতে পাঠিয়ে দেবে তাই দেশের আইন প্রশাসন বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে সাদিল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন, ভিকটিম কিশোরীর বাবার দায়েরকৃত নারী শিশু অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রেম মানে না ধর্ম, নবমুসলিম কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্বামী কারাগারে

ভালোবাসার সম্পর্কের পর বিয়ে, অনাগত সন্তানের বাবা কারাগারে-পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ধর্মীয় পরিচয় বদলে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার এক কিশোরী। সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন মোছা. লামহা আক্তার নিলা। ভালোবাসার মানুষ মো. হোসেন আলীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর বর্তমানে তিনি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে অনাগত সন্তানের বাবা হোসেন আলী বর্তমানে কারাগারে থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত এফিডেভিট ও বিবাহসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, কিশোরীর পূর্ব নাম ছিল দীপা রানী শীল। তিনি সাদুল্যাপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম শ্রী পরেশ চন্দ্র শীল এবং মাতার নাম শ্রীমতি দিপ্তী রানী শীল। নথিতে তার বয়স ১৮ বছর এবং বর্তমান ধর্ম ইসলাম (সুন্নী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফিডেভিটে ওই কিশোরী উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকেই মুসলিম পরিবারের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও চলাফেরার কারণে ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি ও আচার-আচরণের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে নিজের ইচ্ছায় তিনি পূর্বের ধর্মীয় পরিচয় পরিত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নতুন নাম লামহা আক্তার নিলা গ্রহণ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, বিবাহের এফিডেভিটে মো. হোসেন আলী, পিতা মো. মুসা মিয়া ও মাতা মোছা. সোহাগী বেগম, ঠিকানা চক ভগবানপুর, ঢোলডাঙ্গা, সাদুল্যাপুর, গাইবান্ধা—এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে তার বয়স ২১ বছর এবং পেশা ব্যবসা বলে উল্লেখ রয়েছে তবে প্রকৃত তারা কিশোর কিশোরী।

ভালোবাসা থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত
বিবাহের এফিডেভিটে হোসেন আলী ও লামহা আক্তার নিলা উভয়েই দাবি করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরকে চিনতেন ও জানতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে ছাড়া থাকতে না পারার অবস্থায় পৌঁছান এবং পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাস্তবতার মধ্যেও বিবাহের সিদ্ধান্ত নেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের দেওয়া ঘোষণায় উভয়েই নিজেদের সাবালক-সাবালিকা এবং আইনগতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বলে দাবি করেন করলেও তারা উভয়ে কিশোর কিশোরী এ-ই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেয়ের বাবার করা মামলায় দীর্ঘদিন পালাতক থাকার পর গ্রেফতার হন সাভার থেকে গ্রেফতারের পর জানা গেল কিশোরী প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেডিকেল করানো হয়েছে রিপোর্ট হাতে আসলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানাজায়, ছেলে-মেয়ে কিশোর কিশোরী গত জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং তারা ধর্ম অনুসারে বিয়ে করে একটি নাম জুডিশিয়াল এফিডেভিট করেন তবে বয়স কম থাকায় কাজীর নিকট রেজিস্ট্রি করতে পারেনি কিন্তু এই কিশোরীর আগত সন্তানের কি হবে? স্বামী কারাগারে থাকায় কিশোরীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইনগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
তবে পুরো ঘটনাটির আইনগত দিকও গুরুত্বপূর্ণ। বিবাহের সময় উভয়ের প্রকৃত বয়স, বিয়ের বৈধতা, ধর্মান্তরের স্বেচ্ছাসম্মতি, বিবাহের নিবন্ধন না থাকলেও কিশোরীর পেটে বাচ্চা তার জবানবন্দি এবং হোসেন আলীর কারাগারে যাওয়ার প্রকৃত কারণ—এসব বিষয় যাচাই না করে কোনো পক্ষকে দোষী বা নির্দোষ বলা সমীচীন নয়।
এছাড়া কিশোরীর গর্ভাবস্থা ও অনাগত সন্তানের পিতৃত্বের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরীর বাবা শ্রী পরেশ চন্দ্র এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরীর বাবা শ্রী পরেশ চন্দ্র বলেন আমি কিছু চাই না আমি মেয়েকে ফেরত পেয়েছি।মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন মেয়ে ভালো আছে মেয়ে বলতে পারেনা সম্ভবত ৫-৬ মাসের গর্ভবতী। মেয়েকে ভারত পাঠা বো অন্য কোথাও পাঠানো এগুলো গুজব বলে পরেশ চন্দ্র জানান
তবে এ বিষয় ছেলের ভগ্নিপতি জানান, মেয়েটি কিছু নবমুসলিম আমার ছোট শালকের স্ত্রী সে ছয় থেকে সাত মাসের গর্ভবতী আমরা শুনেছি তার পেটের সন্তান নষ্ট করে তাকে দ্রুত ভারতে পাঠিয়ে দেবে তাই দেশের আইন প্রশাসন বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে সাদিল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুঠোফোনে নিশ্চিত করেন, ভিকটিম কিশোরীর বাবার দায়েরকৃত নারী শিশু অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।