ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা বাংলাদেশের চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যাশা এলজিআরডি মন্ত্রীর অবৈধ মালামালসহ আ.লীগের দুই কর্মী আটক প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হাতীবান্ধায় ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ কুমিল্লায় আন্তঃজেলা নারী চোর চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, ১৩ মোবাইল উদ্ধার দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি, তবু স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রধান নাছির বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ হলো গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া: পবিপ্রবি উপাচার্য

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, ভুয়া জোত পারমিট ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন প্রায় তিন বছর আগে ইউএসএফ ডিভিশনের কুতুকছড়ি রেঞ্জ ও ইউএসএফ সদর রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে যোগদান করেন। একইভাবে ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পানছড়ি রেঞ্জ ও রামগড় চেক স্টেশন থেকে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫৪ হাজার ৫১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গোদা, চাম্পাফুল, গর্জন ও চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ ভুয়া জোত পারমিটের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন কুতুকছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বিপুল পরিমাণ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করেন। একই সঙ্গে একজনের নামে বরাদ্দকৃত জোত অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত দুই বছরে কয়েক লাখ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া ইউএসএফ সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার গাড়ি কাঠ পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই ডি-ফরম ব্যবহার করে একাধিকবার কাঠ পরিবহন করা হয়েছে।
এদিকে, আনোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাবে বেতনের বাইরে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বছরের নির্ধারিত দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আরও এক বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জ থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি গাড়ি বিভিন্ন সময়ে রামগড় চেক স্টেশনে আটক হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের আর্থিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আনোয়ার হোসেন সরাসরি জড়িত রয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, রেঞ্জের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আমি সরকারকে বিপুল রাজস্ব দিয়েছি। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কাঠ পাচারকারীরা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার চাকরির আর মাত্র দুই মাস বাকি। আমি একজন হার্টের রোগী। আপনাদের কাছে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
অন্যদিকে, ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিস্তারিত আসছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি কোনো হুমকি-ধমকিতে ভয় পায় না: মীর শাহে আলম

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, ভুয়া জোত পারমিট ব্যবহার এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন প্রায় তিন বছর আগে ইউএসএফ ডিভিশনের কুতুকছড়ি রেঞ্জ ও ইউএসএফ সদর রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে যোগদান করেন। একইভাবে ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন পানছড়ি রেঞ্জ ও রামগড় চেক স্টেশন থেকে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫৪ হাজার ৫১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গোদা, চাম্পাফুল, গর্জন ও চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ ভুয়া জোত পারমিটের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন কুতুকছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও বিপুল পরিমাণ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করেন। একই সঙ্গে একজনের নামে বরাদ্দকৃত জোত অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত দুই বছরে কয়েক লাখ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া ইউএসএফ সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার গাড়ি কাঠ পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একই ডি-ফরম ব্যবহার করে একাধিকবার কাঠ পরিবহন করা হয়েছে।
এদিকে, আনোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাবে বেতনের বাইরে বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দুই বছরের নির্ধারিত দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আরও এক বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় দুই লাখ টাকার বিনিময়ে এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জ থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি গাড়ি বিভিন্ন সময়ে রামগড় চেক স্টেশনে আটক হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের আর্থিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আনোয়ার হোসেন সরাসরি জড়িত রয়েছেন। অভিযোগকারীরা বলছেন, রেঞ্জের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও তিনি নিজেই পালন করেন।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কাঠ বিক্রির মাধ্যমে আমি সরকারকে বিপুল রাজস্ব দিয়েছি। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কাঠ পাচারকারীরা আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার চাকরির আর মাত্র দুই মাস বাকি। আমি একজন হার্টের রোগী। আপনাদের কাছে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
অন্যদিকে, ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিস্তারিত আসছে।