ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক ইউসুফের অঢেল সম্পদের পাহাড় ইউএইচএফ টেন্ডারে ‘মটোরোলা ফাঁদ’ বিপাকে ডিপিডিসি ময়মনসিংহের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইলের বিরুদ্ধে ‘ঘর বাণিজ্যের’ অভিযোগ ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারেও থামেনি সাজ্জাদ বাহিনী, চিন্তায় পুলিশ ব্রাহ্মণপাড়া পুকুরের পানিতে ডুবে ১৮ মাসের শিশুর করুণ মৃত্যু সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি : মির্জা ফখরুল তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার, ওসিসহ আহত ৫ পুলিশ সদস্য কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৫০

মার্কিন শুল্কে বিপাকে ভারত, খুঁজছে বিকল্প বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপে নতুন বাজার খুঁজছেন ভারতের টেক্সটাইল খাতের রপ্তানিকারকরা। ইউরোপে নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি বিদ্যমান মার্কিন ক্রেতাদের ছাড়ও দিচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার ভারতের টেক্সটাইল শিল্পখাতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শুল্ক ভারতের যেকোনও বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে পোশাক ও গয়না থেকে শুরু করে চিংড়ি পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়ে।

দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত মুম্বাইয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক রপ্তানিকারক বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বহুমুখী রপ্তানির ওপর জোর দিচ্ছে। ইইউর সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্যচুক্তি হলে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে কাজ করছে উভয়পক্ষ।

বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে দুই পক্ষের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার। দুই পক্ষের এই বাণিজ্য গত এক দশকে প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর রাসায়নিক মানদণ্ড, পণ্যের লেবেলিং ও নৈতিক উৎস নিশ্চিতকরণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।

ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক মালিকদের সংগঠন ক্লোদিং ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা রাহুল মেহতা বলেছেন, রপ্তানিকারকরা এসব মানদণ্ড পূরণের লক্ষ্যে উৎপাদন স্থাপনার আধুনিকায়ন করছেন।

তিনি বলেন, রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতেও আগ্রহী। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। এই খাতে ভারতের মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

মুম্বাইভিত্তিক ক্রিয়েটিভ গ্রুপের চেয়ারম্যান বিজয় কুমার আগারওয়াল বলেন, কিছু রপ্তানিকারক ইতোমধ্যে মার্কিন ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানের মোট রপ্তানির ৮৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায় বলে জানিয়েছেন বিজয় কুমার।

তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক কার্যকর থাকে, তাহলে তার কোম্পানির ১৫ হাজার কর্মীর মাঝে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার জনকে ছাঁটাই করতে হবে। এছাড়া ছয় মাস পর উৎপাদন কারখানা ওমান কিংবা প্রতিবেশী বাংলাদেশে স্থানান্তরের কথা বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

মার্কিন শুল্কে বিপাকে ভারত, খুঁজছে বিকল্প বাজার

আপডেট সময় ০৬:২২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপে নতুন বাজার খুঁজছেন ভারতের টেক্সটাইল খাতের রপ্তানিকারকরা। ইউরোপে নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি বিদ্যমান মার্কিন ক্রেতাদের ছাড়ও দিচ্ছেন তারা। মঙ্গলবার ভারতের টেক্সটাইল শিল্পখাতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শুল্ক ভারতের যেকোনও বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে পোশাক ও গয়না থেকে শুরু করে চিংড়ি পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়ে।

দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত মুম্বাইয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক রপ্তানিকারক বলেছেন, তার প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বহুমুখী রপ্তানির ওপর জোর দিচ্ছে। ইইউর সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্যচুক্তি হলে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি।

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাঝে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে কাজ করছে উভয়পক্ষ।

বর্তমানে ভারতের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়ন। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে দুই পক্ষের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার। দুই পক্ষের এই বাণিজ্য গত এক দশকে প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর রাসায়নিক মানদণ্ড, পণ্যের লেবেলিং ও নৈতিক উৎস নিশ্চিতকরণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।

ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক মালিকদের সংগঠন ক্লোদিং ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা রাহুল মেহতা বলেছেন, রপ্তানিকারকরা এসব মানদণ্ড পূরণের লক্ষ্যে উৎপাদন স্থাপনার আধুনিকায়ন করছেন।

তিনি বলেন, রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতেও আগ্রহী। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। এই খাতে ভারতের মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

মুম্বাইভিত্তিক ক্রিয়েটিভ গ্রুপের চেয়ারম্যান বিজয় কুমার আগারওয়াল বলেন, কিছু রপ্তানিকারক ইতোমধ্যে মার্কিন ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানের মোট রপ্তানির ৮৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায় বলে জানিয়েছেন বিজয় কুমার।

তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক কার্যকর থাকে, তাহলে তার কোম্পানির ১৫ হাজার কর্মীর মাঝে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার জনকে ছাঁটাই করতে হবে। এছাড়া ছয় মাস পর উৎপাদন কারখানা ওমান কিংবা প্রতিবেশী বাংলাদেশে স্থানান্তরের কথা বিবেচনা করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।