ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের কণ্ঠে জলবায়ু বার্তা: রংপুরে ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট’ ফ্ল্যাশমব

জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় সমস্যা ও তরুণদের দাবি বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব ফ্ল্যাশমব। ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট: আওয়ার ক্লাইমেট, আওয়ার ফিউচার’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই আয়োজন হয়।

দেশজুড়ে তরুণদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন। রংপুরে ফ্ল্যাশমবটি আয়োজন করে তরুণ সংগঠন ‘টঙের গান’।
আয়োজকদের মতে, ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP-30–এ বাংলাদেশের তরুণদের স্থানীয় দাবি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ফ্ল্যাশমবে অংশ নেওয়া তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় সংকট ও সমাধানের প্রস্তাবনা নিজেদের সৃজনশীল পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

টঙের গান–এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান আবির বলেন,
বাংলাদেশের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জলবায়ু সংকটের শিকার মানুষের কথাগুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছায় না। এই ফ্ল্যাশমবের মাধ্যমে আমরা সেই গল্পগুলো জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছি, যাতে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকরা তরুণদের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। তিনি আরও বলেন রংপুরের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

দেশব্যাপী পরিচালিত ‘Voices of Climate’ ক্যাম্পেইনটি বর্তমানে দেশের আট বিভাগের ১৬টি যুবনেতৃত্বাধীন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ১১২টিরও বেশি শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আচরণগত পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তরুণদের দাবি ও প্রস্তাব সমন্বিত একটি বিশেষ ‘Climate Capsule’ তৈরি করা হচ্ছে, যা COP-30–এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ক্যাম্পেইনটিতে সহযোগিতা করছে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘Gildan’ এবং জ্ঞানভিত্তিক অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণদের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের কণ্ঠে জলবায়ু বার্তা: রংপুরে ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট’ ফ্ল্যাশমব

আপডেট সময় ১১:৩৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের স্থানীয় সমস্যা ও তরুণদের দাবি বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে রংপুরে অনুষ্ঠিত হলো এক অভিনব ফ্ল্যাশমব। ‘ভয়েসেস অব ক্লাইমেট: আওয়ার ক্লাইমেট, আওয়ার ফিউচার’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই আয়োজন হয়।

দেশজুড়ে তরুণদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন। রংপুরে ফ্ল্যাশমবটি আয়োজন করে তরুণ সংগঠন ‘টঙের গান’।
আয়োজকদের মতে, ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন COP-30–এ বাংলাদেশের তরুণদের স্থানীয় দাবি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ফ্ল্যাশমবে অংশ নেওয়া তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, স্থানীয় সংকট ও সমাধানের প্রস্তাবনা নিজেদের সৃজনশীল পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

টঙের গান–এর সভাপতি মাহমুদুল হাসান আবির বলেন,
বাংলাদেশের উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জলবায়ু সংকটের শিকার মানুষের কথাগুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছায় না। এই ফ্ল্যাশমবের মাধ্যমে আমরা সেই গল্পগুলো জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছি, যাতে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকরা তরুণদের কণ্ঠস্বর শুনতে পান। তিনি আরও বলেন রংপুরের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

দেশব্যাপী পরিচালিত ‘Voices of Climate’ ক্যাম্পেইনটি বর্তমানে দেশের আট বিভাগের ১৬টি যুবনেতৃত্বাধীন সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ১১২টিরও বেশি শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আচরণগত পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তরুণদের দাবি ও প্রস্তাব সমন্বিত একটি বিশেষ ‘Climate Capsule’ তৈরি করা হচ্ছে, যা COP-30–এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ক্যাম্পেইনটিতে সহযোগিতা করছে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘Gildan’ এবং জ্ঞানভিত্তিক অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে ‘অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণদের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।