সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

গাংনীতে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৯:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৭৬১ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসে নামজারী অনুমোদন নিতে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ। এক সপ্তাহেও পাচ্ছে না অনুমোদন বা নাগরিক সেবা।

নামজারি রিপোর্টের জন্য ২০০ টাকা, ও হোল্ডিং খুলতে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা,নামজারি করে দেওয়ার নামে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুর ১২ টার সময় অফিসে গেলে সাংবাদিক প্রবেশে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিয়ে যেতে হবে বললেন আতিকুর রহমান,অফিসের সব কাজ ফেলে রেখে তিনি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ধর্মচাকী গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে প্রবাস ফেরত সাইফুল ইসলাম জানান,আমি একটি হোল্ডিং খোলার জন্য দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরছি, এছাড়াও আমি বিবিধ ১৫১/১৩/১৫০ নামজারী বাতিল পৃর্বক সংশোধনের জন্য ১ বছর ধরে ভুমি অফিসে ঘুরে ঘুরে অবশেষে ২৩/০৭/২০২৫ ইংরেজি তারিখে সহকারী কমিশনার ভূমি সাদ্দাম হোসেন সমস্ত কাগজপত্র দেখে উভয় পক্ষের শুনানি মোতাবেক নামজারী বাতিলের নির্দেশ দেন।

আদেশ পাওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে আমাকে আজ কাল করে হয়রানি করে আসছ, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ভুক্তভোগী ধর্মচাকী গ্রামের অসহায় প্রতিবন্ধী শামসুল ইসলাম জানান, আমি তিন মাস ধরে এই অফিসে ঘুরছি আমার কাছ থেকে নামজারির জন্য আড়াই হাজার টাকা নিয়েছে এই অফিসের লোকজন, তিন মাস পরে এসে বলছে আপনার কাজ হয়নি বলে হয়রানি করছে।

আমি প্রতিবন্ধী,চলতে পারিনা তাও আমাকে ঘুরাইতেছে। তিনিও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন,

ভুমি অফিসে সেবা নিতে আসা চৌগাছা গ্রামের একজন দলিল লেখক নজরুল ইসলাম জানান, আমি জমির খাজনা দেওয়ার জন্য অনলাইন করেছি, শুধু অনুমোদন নিতে এক সপ্তাহ লাগবে, বললেন আতিকুর রহমান। সাত দিন পরে অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেন।এভাবেই চলছে ভূমি সেবা।,

ভুক্তভোগীরা জানান,আসলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণেই দুর্নীতি বেশি হচ্ছে। জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণকে হয়রানি করছে। এই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তারা।

উপজেলা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক এনায়েত আলী জানান,আমি হোল্ডিং খোলার জন্য এর আগে দুই দিন অফিসে এসেছি হয়নি, আজকেও এসেছি আতিকুর রহমান বলছে, পরে আসেন সিরিয়াল মোতাবেক হবে এই বলে আমাকে বের করে দিয়েছে দেখা যাক কি হয়, আজ না হলে আবারো আশা লাগবে, এভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এর আগে হোল্ডিং খুলতে ২০০ টাকা, নামজারীর রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা করে নিতো। আজকে কত নিবে জানিনা।

নামজারী অনুমোদন, খাজনার রশিদের জন্য অনুমোদন, নিতে হয়রানি করা হচ্ছে সাংবাকিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, আপনাদের অফিসে ঢোকার পারমিশন কে দিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিয়ে তারপর অফিসে আসবেন,তখন কথা বলবো।

হোল্ডিং খোলা হচ্ছে না হয়রানি করা হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করেন।

বার বার অনিয়মের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি বরং সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি পরে কথা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

গাংনীতে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৩৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার সাহারবাটি ইউনিয়ন ভুমি অফিসে নামজারী অনুমোদন নিতে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ। এক সপ্তাহেও পাচ্ছে না অনুমোদন বা নাগরিক সেবা।

নামজারি রিপোর্টের জন্য ২০০ টাকা, ও হোল্ডিং খুলতে নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা,নামজারি করে দেওয়ার নামে নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুর ১২ টার সময় অফিসে গেলে সাংবাদিক প্রবেশে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিয়ে যেতে হবে বললেন আতিকুর রহমান,অফিসের সব কাজ ফেলে রেখে তিনি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ধর্মচাকী গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে প্রবাস ফেরত সাইফুল ইসলাম জানান,আমি একটি হোল্ডিং খোলার জন্য দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরছি, এছাড়াও আমি বিবিধ ১৫১/১৩/১৫০ নামজারী বাতিল পৃর্বক সংশোধনের জন্য ১ বছর ধরে ভুমি অফিসে ঘুরে ঘুরে অবশেষে ২৩/০৭/২০২৫ ইংরেজি তারিখে সহকারী কমিশনার ভূমি সাদ্দাম হোসেন সমস্ত কাগজপত্র দেখে উভয় পক্ষের শুনানি মোতাবেক নামজারী বাতিলের নির্দেশ দেন।

আদেশ পাওয়ার দুই মাস অতিবাহিত হলেও সহকারী ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে আমাকে আজ কাল করে হয়রানি করে আসছ, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ভুক্তভোগী ধর্মচাকী গ্রামের অসহায় প্রতিবন্ধী শামসুল ইসলাম জানান, আমি তিন মাস ধরে এই অফিসে ঘুরছি আমার কাছ থেকে নামজারির জন্য আড়াই হাজার টাকা নিয়েছে এই অফিসের লোকজন, তিন মাস পরে এসে বলছে আপনার কাজ হয়নি বলে হয়রানি করছে।

আমি প্রতিবন্ধী,চলতে পারিনা তাও আমাকে ঘুরাইতেছে। তিনিও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন,

ভুমি অফিসে সেবা নিতে আসা চৌগাছা গ্রামের একজন দলিল লেখক নজরুল ইসলাম জানান, আমি জমির খাজনা দেওয়ার জন্য অনলাইন করেছি, শুধু অনুমোদন নিতে এক সপ্তাহ লাগবে, বললেন আতিকুর রহমান। সাত দিন পরে অফিসে যাওয়ার পরামর্শ দেন।এভাবেই চলছে ভূমি সেবা।,

ভুক্তভোগীরা জানান,আসলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ কারণেই দুর্নীতি বেশি হচ্ছে। জনগণের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণকে হয়রানি করছে। এই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেন তারা।

উপজেলা জোড়পুকুরিয়া গ্রামের কৃষক এনায়েত আলী জানান,আমি হোল্ডিং খোলার জন্য এর আগে দুই দিন অফিসে এসেছি হয়নি, আজকেও এসেছি আতিকুর রহমান বলছে, পরে আসেন সিরিয়াল মোতাবেক হবে এই বলে আমাকে বের করে দিয়েছে দেখা যাক কি হয়, আজ না হলে আবারো আশা লাগবে, এভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। এর আগে হোল্ডিং খুলতে ২০০ টাকা, নামজারীর রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ৩০০ টাকা করে নিতো। আজকে কত নিবে জানিনা।

নামজারী অনুমোদন, খাজনার রশিদের জন্য অনুমোদন, নিতে হয়রানি করা হচ্ছে সাংবাকিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, আপনাদের অফিসে ঢোকার পারমিশন কে দিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিয়ে তারপর অফিসে আসবেন,তখন কথা বলবো।

হোল্ডিং খোলা হচ্ছে না হয়রানি করা হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করেন।

বার বার অনিয়মের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি বরং সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।

এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি পরে কথা হবে।