সংবাদ শিরোনাম ::
হামের টিকায় গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের মানহানী মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় থানার সামনে দুপক্ষের সংঘর্ষ, আটক ৩ জয়পুরহাটে উদ্ধার হলো বিশাল আকৃতির গাঁজা গাছ কসবায় মোবাইল কোর্টের অভিযান: ৫ ফার্মেসিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী টাঙ্গাইলে যমজ দুই ভাইয়ের সঙ্গে দুই বোন লতা-পাতার বিয়ে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে সরকার মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও হাজতে পাঠানো হবে: আইনমন্ত্রী

জবির আশপাশের এলাকা থেকে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধ দোকানপাট, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) আয়োজনে সদরঘাট এলাকার বাহাদুর শাহ পার্কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আযম খান সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসম্বলিত ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে শিক্ষার্থীরা বিকশিত হতে পারবে না। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে রায়সাহেব বাজার থেকে এই এলাকায় কোনো বাস বা লেগুনা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরিত দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর প্রদান করবো।

সমাবেশে অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, রায়সাহেব বাজার থেকে আর কোনো বাস বা লেগুনা এই এলাকায় প্রবেশ করবে না। পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণ এখন থেকেই স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে হবে।

বাহাদুর শাহ সড়কের চত্বরকে ‘বিশ্বজিৎ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের নাম। আর এই চত্বরকে ঘিরেই পুরান ঢাকা ও জবির সকল ধরনের আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন ও দোকানপাটের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আমাদের শত্রু নন। তাদের অনেকের সন্তান বর্তমানে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা ভবিষ্যতে অধ্যয়ন করবে। সুতরাং একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরিতে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এসব অবৈধ দোকানপাট, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর ও নৈতিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, এই পরিবহনগুলো নিরাপত্তার জন্য চরম সংকট তৈরি করছে। গত এক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। আমাদের দাবি এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ থেকে রায়সাহেব বাজার থেকে কোনো গাড়ি চূড়ান্তভাবে এই এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি কোনো গাড়ি ঢোকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল, ঢাকা আইনজীবী সমিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকায় গাফিলতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

জবির আশপাশের এলাকা থেকে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবি

আপডেট সময় ০৬:৫২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধ দোকানপাট, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) আয়োজনে সদরঘাট এলাকার বাহাদুর শাহ পার্কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আযম খান সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, এটি বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসম্বলিত ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা না গেলে শিক্ষার্থীরা বিকশিত হতে পারবে না। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে রায়সাহেব বাজার থেকে এই এলাকায় কোনো বাস বা লেগুনা প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীদের স্বাক্ষরিত দাবিসম্বলিত একটি স্মারকলিপি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বরাবর প্রদান করবো।

সমাবেশে অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, রায়সাহেব বাজার থেকে আর কোনো বাস বা লেগুনা এই এলাকায় প্রবেশ করবে না। পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণ এখন থেকেই স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে হবে।

বাহাদুর শাহ সড়কের চত্বরকে ‘বিশ্বজিৎ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী এক ঐতিহাসিক মাইলফলকের নাম। আর এই চত্বরকে ঘিরেই পুরান ঢাকা ও জবির সকল ধরনের আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন ও দোকানপাটের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আমাদের শত্রু নন। তাদের অনেকের সন্তান বর্তমানে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বা ভবিষ্যতে অধ্যয়ন করবে। সুতরাং একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরিতে তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা এসব অবৈধ দোকানপাট, লেগুনা ও বাসস্ট্যান্ড অপসারণের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর ও নৈতিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, এই পরিবহনগুলো নিরাপত্তার জন্য চরম সংকট তৈরি করছে। গত এক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। আমাদের দাবি এবং সবার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ থেকে রায়সাহেব বাজার থেকে কোনো গাড়ি চূড়ান্তভাবে এই এলাকায় প্রবেশ করবে না। যদি কোনো গাড়ি ঢোকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না।

সমাবেশে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল, ঢাকা আইনজীবী সমিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরাও বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পাশ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।