ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত
পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০, পলাতক শহীদ

বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে শহীদের পতিতালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী। বহুতল ভবন, আধুনিক রেস্তোরাঁ, ফ্যাশন হাউস, কর্পোরেট অফিস আর ঝকঝকে শপিংমল—সব মিলিয়ে এলাকার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু সেই অভিজাত এলাকার ভেতরেই চলছে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা, যার আড়াল করা হয় “স্পা সেন্টার” বা “মেসেজ পার্লার” নামের আড়ম্বরপূর্ণ সাইনবোর্ডে।
গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে তাদের উপর হামলা চালায় স্পা সেন্টারের মালিক শহীদ ও তার কর্মচারীরা। পরে বনানী থানায় জানালে সেখানে বনানী থানার পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল হোতা শহীদ (৩৫) নামের ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, এই শহীদই হলো পুরো চক্রের পরিচালক, যিনি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণী ও নারীদের ঢাকায় এনে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতেন। বনানী থানার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বনানীর ২৭ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার ৬ষ্ঠ তলার ০৫-ডি ফ্ল্যাটে “মেসেজ পার্লার” নামের একটি স্পা সেন্টারে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দীনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ ইয়াদুল হকসহ একটি দল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে। অভিযান চালিয়ে তারা অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণী। পুলিশের দাবি, সেখানে প্রবেশের সময় একাধিক কক্ষ থেকে বিভিন্ন তরুণ-তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযানে পালিয়ে যায় অন্তত ৬-৭ জন। তাদের মধ্যে মূল হোতা শহীদও ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন-
(১) তোফা ই এলাহী ওরফে ইমরান (১৯), পাবনা সদর।
(২) সাদিক আল হুসাইন (৩৬), যশোর কোতয়ালী।
(৩) উখিংওয়াং মার্মা ওরফে লিলি খাতুন (২৫), বান্দরবান লামা।
(৪) তাসমিম আক্তার পলি (২০), কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী।
(৫) তাহমিনা আক্তার (২৩), ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর।
(৬) ইতি খানম (১৯), গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী।
(৭) রুমানা পারভীন (৩৬), দিনাজপুর সদর।
(৮) মায়া ইসলাম (২৫), দোহার, ঢাকা।
(৯) মোছাঃ তানিয়া আক্তার (১৯), নরসিংদী রায়পুরা।
(১০) মিম আক্তার (১৯), শেরপুর সদর।
পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে আসা। কাজের সুযোগ কিংবা ভালো আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ঢাকায় আনা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মালিক শহীদ দীর্ঘদিন ধরে স্পা সেন্টারের আড়ালে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। গ্রামের সহজ-সরল তরুণীদের চাকরির লোভ দেখিয়ে এনে প্রথমে রিসেপশনিস্ট বা ‘থেরাপিস্ট’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের জোরপূর্বক বা ভয় দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নামানো হয়।
কেউ অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। আবার অনেককে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও এ কাজে জড়ানো হয়।
বনানীর অভিজাত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ‘স্পা সেন্টার’-এর নামে পতিতালয় চালানোর অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বহুবার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আভাস পেলেও সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“বনানীর অনেক ফ্ল্যাটে রাতে অচেনা লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। সবাই জানে ভেতরে কী হচ্ছে, কিন্তু মুখ খোলে না। পুলিশের অভিযান হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী- কাউকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত করা অপরাধ।
এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১১/১২/১৩ ধারায় বনানী থানার মামলা নং-১২, তারিখ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দায়ের করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এই ধরনের স্পা সেন্টারগুলো কেবল নৈতিকতা নয়, সরাসরি মানব পাচারের সাথে জড়িত। এ কারণে কেবল গ্রেপ্তার নয়, পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক মনে করেন, “অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার ঘাটতি মেয়েদের এই ব্যবসায় ঠেলে দেয়। আবার শহরের ভোগবাদী জীবনযাত্রা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাহিদা তৈরি করছে। এই চাহিদা না থাকলে সরবরাহও থাকবে না।”
বনানী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাই। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। মূল আসামী শহীদকে ধরতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, বনানী, গুলশান, বনানীর আশপাশ এলাকায় অনেক ‘স্পা সেন্টার’-এর নামে একই ধরনের ব্যবসা চলছে। এর বিরুদ্ধে আরও অভিযান চালানো হবে।
ঢাকায় “স্পা সেন্টার” ব্যবসা নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক স্পা ও মেসেজ সেন্টার। এর মধ্যে কিছু বৈধভাবে চলছে, তবে বেশিরভাগই আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।
২০১৯ সালে পুলিশের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাজধানীতে ২২০টিরও বেশি স্পা সেন্টার রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এগুলো টিকে গেছে।
গ্রামের গরিব পরিবারের মেয়েরা যখন ঢাকায় আসে, তখন তাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প থাকে না। অল্প শিক্ষিত হওয়ায় তারা চাকরি পায় না। তখন ‘সহজে বেশি টাকা’ আয়ের লোভ দেখিয়ে দালালরা তাদের এই ব্যবসায় নিয়ে আসে।
একজন গ্রেপ্তারকৃত তরুণী জিজ্ঞাসাবাদে কেঁদে বলেছে, “আমি ভেবেছিলাম এখানে পার্লারে কাজ করব। কিন্তু আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। না মানলে মারধর করেছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এই ব্যবসার পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন। ফলে অনেক সময় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু

পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ১০, পলাতক শহীদ

বনানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে শহীদের পতিতালয়

আপডেট সময় ০৩:১৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানী। বহুতল ভবন, আধুনিক রেস্তোরাঁ, ফ্যাশন হাউস, কর্পোরেট অফিস আর ঝকঝকে শপিংমল—সব মিলিয়ে এলাকার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু সেই অভিজাত এলাকার ভেতরেই চলছে অবৈধ ও অনৈতিক ব্যবসা, যার আড়াল করা হয় “স্পা সেন্টার” বা “মেসেজ পার্লার” নামের আড়ম্বরপূর্ণ সাইনবোর্ডে।
গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকরা অনুসন্ধানে গেলে তাদের উপর হামলা চালায় স্পা সেন্টারের মালিক শহীদ ও তার কর্মচারীরা। পরে বনানী থানায় জানালে সেখানে বনানী থানার পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করে। তবে মূল হোতা শহীদ (৩৫) নামের ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ বলছে, এই শহীদই হলো পুরো চক্রের পরিচালক, যিনি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণী ও নারীদের ঢাকায় এনে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত করতেন। বনানী থানার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, বনানীর ২৭ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর বাসার ৬ষ্ঠ তলার ০৫-ডি ফ্ল্যাটে “মেসেজ পার্লার” নামের একটি স্পা সেন্টারে অবৈধ কার্যকলাপ চলছে। পরিদর্শক (অপারেশন) এ কে এম মঈন উদ্দীনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মোঃ ইয়াদুল হকসহ একটি দল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে। অভিযান চালিয়ে তারা অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণী। পুলিশের দাবি, সেখানে প্রবেশের সময় একাধিক কক্ষ থেকে বিভিন্ন তরুণ-তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযানে পালিয়ে যায় অন্তত ৬-৭ জন। তাদের মধ্যে মূল হোতা শহীদও ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন-
(১) তোফা ই এলাহী ওরফে ইমরান (১৯), পাবনা সদর।
(২) সাদিক আল হুসাইন (৩৬), যশোর কোতয়ালী।
(৩) উখিংওয়াং মার্মা ওরফে লিলি খাতুন (২৫), বান্দরবান লামা।
(৪) তাসমিম আক্তার পলি (২০), কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী।
(৫) তাহমিনা আক্তার (২৩), ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর।
(৬) ইতি খানম (১৯), গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী।
(৭) রুমানা পারভীন (৩৬), দিনাজপুর সদর।
(৮) মায়া ইসলাম (২৫), দোহার, ঢাকা।
(৯) মোছাঃ তানিয়া আক্তার (১৯), নরসিংদী রায়পুরা।
(১০) মিম আক্তার (১৯), শেরপুর সদর।
পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে অনেকেই গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে আসা। কাজের সুযোগ কিংবা ভালো আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ঢাকায় আনা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মালিক শহীদ দীর্ঘদিন ধরে স্পা সেন্টারের আড়ালে এই ব্যবসা চালাচ্ছেন। গ্রামের সহজ-সরল তরুণীদের চাকরির লোভ দেখিয়ে এনে প্রথমে রিসেপশনিস্ট বা ‘থেরাপিস্ট’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের জোরপূর্বক বা ভয় দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নামানো হয়।
কেউ অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। আবার অনেককে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও এ কাজে জড়ানো হয়।
বনানীর অভিজাত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ‘স্পা সেন্টার’-এর নামে পতিতালয় চালানোর অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বহুবার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আভাস পেলেও সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“বনানীর অনেক ফ্ল্যাটে রাতে অচেনা লোকজনের আনাগোনা দেখা যায়। সবাই জানে ভেতরে কী হচ্ছে, কিন্তু মুখ খোলে না। পুলিশের অভিযান হওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
বাংলাদেশে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী- কাউকে জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে পতিতাবৃত্তিতে যুক্ত করা অপরাধ।
এই অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ১১/১২/১৩ ধারায় বনানী থানার মামলা নং-১২, তারিখ : ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ দায়ের করা হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এই ধরনের স্পা সেন্টারগুলো কেবল নৈতিকতা নয়, সরাসরি মানব পাচারের সাথে জড়িত। এ কারণে কেবল গ্রেপ্তার নয়, পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপক মনে করেন, “অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষার ঘাটতি মেয়েদের এই ব্যবসায় ঠেলে দেয়। আবার শহরের ভোগবাদী জীবনযাত্রা এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের চাহিদা তৈরি করছে। এই চাহিদা না থাকলে সরবরাহও থাকবে না।”
বনানী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাই। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। মূল আসামী শহীদকে ধরতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, বনানী, গুলশান, বনানীর আশপাশ এলাকায় অনেক ‘স্পা সেন্টার’-এর নামে একই ধরনের ব্যবসা চলছে। এর বিরুদ্ধে আরও অভিযান চালানো হবে।
ঢাকায় “স্পা সেন্টার” ব্যবসা নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে শতাধিক স্পা ও মেসেজ সেন্টার। এর মধ্যে কিছু বৈধভাবে চলছে, তবে বেশিরভাগই আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত।
২০১৯ সালে পুলিশের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, রাজধানীতে ২২০টিরও বেশি স্পা সেন্টার রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এগুলো টিকে গেছে।
গ্রামের গরিব পরিবারের মেয়েরা যখন ঢাকায় আসে, তখন তাদের সামনে খুব বেশি বিকল্প থাকে না। অল্প শিক্ষিত হওয়ায় তারা চাকরি পায় না। তখন ‘সহজে বেশি টাকা’ আয়ের লোভ দেখিয়ে দালালরা তাদের এই ব্যবসায় নিয়ে আসে।
একজন গ্রেপ্তারকৃত তরুণী জিজ্ঞাসাবাদে কেঁদে বলেছে, “আমি ভেবেছিলাম এখানে পার্লারে কাজ করব। কিন্তু আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। না মানলে মারধর করেছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এই ব্যবসার পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন। ফলে অনেক সময় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে।