ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পূর্তে প্যারাডাইমের ফের দাপট, গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুড়িতে আয়কর নথি জালিয়াতির অভিযোগে সহকারী কর কমিশনার মিতুর পদোন্নতি ৮ বছর স্থগিত গাইবান্ধায় ৭ লাখ টাকার প্রকল্পে পুকুরচুরি: চার মাসেই নদীতে বিলীন জেলা পরিষদের কাঠের সেতু ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নিখোঁজ ভুট্টু ৭ দিনেও মেলেনি সন্ধান সৈয়দপুরে ভ্যান হারানো কিশোর রেজওয়ানকে নতুন ভ্যান উপহার দিল উপজেলা প্রশাসন ভিসা-টিকিট ঠিক থাকলেও বিমানের কাউন্টারে ‘টাকার খেলা’ মনোহরগঞ্জে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদ্দিন দেশ অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যার মধ্যে আট অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা মিরপুর বিআরটিএতে রাজস্ব কর্মকর্তা রুহুল আমিনের ‘দালাল সাম্রাজ্য’

আদালতে হাজির হননি রায়হান হত্যা মামলার আসামি আকবর

  • সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:৫২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬১৮ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হননি।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আকবর উপস্থিত ছিলেন না।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম বলেন, জামিনপ্রাপ্ত আসামি আকবর আজ আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এদিন কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি বরখাস্ত এএসআই আশেক আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য কোনো আসামি হাজির ছিলেন না। আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে আদালতে অনুপস্থিত থাকার পর থেকেই নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তির পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গত ৪ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং ১০ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তবে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের পর চেম্বার জজ আদালত তার জামিন বাতিল করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে রায়হান উদ্দিনকে তুলে নিয়ে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি পরদিন ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রায়হানের পরিবার অভিযোগ করে, পুলিশের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরে তার স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে মহানগর পুলিশের গঠিত কমিটি ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর কনস্টেবল হারুনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও আসামি করা হয় প্রাক্তন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, বরখাস্তকৃত এসআই হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জের সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পূর্তে প্যারাডাইমের ফের দাপট, গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাচ্ছে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুড়িতে

আদালতে হাজির হননি রায়হান হত্যা মামলার আসামি আকবর

আপডেট সময় ০৭:৫২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সিলেটের বহুল আলোচিত রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া ধার্য তারিখে আদালতে হাজির হননি।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আকবর উপস্থিত ছিলেন না।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম বলেন, জামিনপ্রাপ্ত আসামি আকবর আজ আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এদিন কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি বরখাস্ত এএসআই আশেক আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অন্য কোনো আসামি হাজির ছিলেন না। আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে আদালতে অনুপস্থিত থাকার পর থেকেই নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আকবর হোসেন ভূঁইয়া জামিনে মুক্তির পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। গত ৪ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং ১০ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তবে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের পর চেম্বার জজ আদালত তার জামিন বাতিল করেন।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর গভীর রাতে রায়হান উদ্দিনকে তুলে নিয়ে সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি পরদিন ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রায়হানের পরিবার অভিযোগ করে, পুলিশের নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে এবং পরে তার স্ত্রী কোতোয়ালি থানায় পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তে মহানগর পুলিশের গঠিত কমিটি ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর কনস্টেবল হারুনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে আরও আসামি করা হয় প্রাক্তন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, বরখাস্তকৃত এসআই হাসান উদ্দিন এবং আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জের সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমানকে।