নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালিয়ে একজন শ্রমিককে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন। সংগঠনটি অবিলম্বে ঘটনার বিচার ও নিহত শ্রমিকের পরিবারের জন্য আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড মানস নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজা এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, উত্তরা ইপিজেডের এভারগ্রিন লিমিটেডের শ্রমিকরা গত চারদিন ধরে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহাল, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, উৎপাদন টার্গেট কমানো, ওভারটাইম পরিশোধসহ ২০ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও কর্মবিরতি পালন করছিলেন। এতে ইপিজেডের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। গতকাল রাতে হঠাৎ মালিকপক্ষ মজুরি পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলে আজ শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গুলি চালালে হাবিব নামে এক শ্রমিক নিহত এবং আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হন।
শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা অভিযোগ করেন, এভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমন করার ঘটনা বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কার ঘটনাকেই মনে করিয়ে দেয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছিল শ্রমিকরাই। অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মালিকদের স্বার্থে শ্রমিকদের বুকেই গুলি চালাচ্ছে, যা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি।
তারা অবিলম্বে শ্রমিক হত্যার সঙ্গে যুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচার ও শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে একজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ প্রদানের আহ্বান জানান। এছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বন্ধ করারও জোর দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















