ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত

সাবেক মন্ত্রীর ভাইকে কাজ, আটকে গেল ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র

আওয়ামী লীগের সাবেক একজন মন্ত্রীর ভাই দেড় কোটির বেশি বই ছাপার কাজ পাচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র আটকে দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ (পারচেজ কমিটি)। গত মঙ্গলবার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই ছাপানোর তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন হয়। যেখানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের এক মন্ত্রীর ভাইসহ ১২ জন প্রেস মালিকের সঙ্গে সরাসরি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠতার তথ্য আসে। তথ্য গোপন করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেয় কমিটি। শুধু তাই নয়, পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ রাখা নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতে সংস্থাটির ভেতরে চরম অস্থিরতা চলছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্রমতে, এনসিটিবিতে পতিত আওয়ামীপ্রীতি নিয়ে তদন্তে নেমেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্য, অতীতের কর্মকাণ্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংস্থাটির শীর্ষ ব্যক্তি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বহাল রাখার চেষ্টাও আটকে গেছে, যা এখন তদন্তে গড়িয়েছে। এমন তৎপরতার পর সোচ্চার হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আগামী নভেম্বরে চেয়ারম্যানের চাকরি শেষ হবে, সেজন্য তাকে সরানো যাবে না—মন্ত্রণালয়ের এমন যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য কারিকুলাম প্রণয়ন, পাঠ্যবই ছাপানো মতো স্পর্শকাতর একটি দপ্তরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাখা নিয়ে বিতর্ক জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ১৯ আগস্ট ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০২ কপি বই ছাপানোর জন্য তিনটি প্রস্তাব পারচেজ কমিটিতে উত্থাপন হয়। যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। নানা অভিযোগ তুলে সেটি অনুমোদন দেয়নি কমিটি। কমিটির কাছে অভিযোগ ছিল, চলতি বছর ৩০ কোটির বেশি বইয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ যাচ্ছে আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের কাছে। বিশেষ করে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি রব্বানী জব্বারের মালিকানাধীন আনন্দ প্রিন্টার্স ও এপেক্স প্রিন্টার্সকে তিন শ্রেণিতে ১৬টি লটে ৭২ লাখ বইয়ের কাজ পাওয়ায় আপত্তি তোলা হয়। সাবেক একজন মন্ত্রীর ভাই এই সময়ে কীভাবে কাজ পায়, সেই প্রশ্ন তুলে বিষয়টি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জানতে চেয়েছেন কমিটির অন্য সদস্যরা। এ ছাড়া ২২৭টি লটের বিপরীতে ৯টি প্যাকেজ করায় আপত্তি তোলে টেকনিক্যাল কমিটি। একপর্যায়ে পুরো কেনাকাটা স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া সাবেক যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিনের এসআর প্রিন্টার্সসহ আরও ১২টির বেশি প্রিন্টার্সের মালিক, যারা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের পদপদবিতে ছিলেন তাদের নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব আপত্তি আমলে নিয়ে ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। চলতি সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ফাইল নোট আকারে সেগুলো পাঠাবে মন্ত্রিসভা বিভাগের ক্রয় ও অর্থনৈতিক অধিশাখা। পারচেজ কমিটির কাছে উত্থাপিত নথি বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৯৭টি, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৯৪টি এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য ৮৯টি—মোট ২৭০টি লটের জন্য ৯টি প্যাকেজ করা হয়েছে, যা পারচেজ কমিটির মতে অনেক বেশি। তারা বলছেন, এখানে সর্বোচ্চ ৫টি প্যাকেজ করা উচিত ছিল। কিন্তু এনসিটিবির একজন সদস্য নিজের পছন্দের ছোট প্রেসকে কাজ দিতে বিগত বছরের প্যাকেজ ভেঙে এবার ৯টি করেছেন।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম বদরুন নাহার আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘পারচেজ কমিটি বই কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন করেনি, এটা শুনেছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অফিসিয়ালি এখনো কিছু জানায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ক্রয় ও অর্থনৈতিক অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া আমাদের মাতৃভূমিকে জানান, বই কেনাকাটার বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আপত্তি ওঠায় উপদেষ্টা কমিটি সেই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি। উত্থাপিত আপত্তিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সূত্রমতে, পারচেজ কমিটি থেকে দুই ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। প্রথমটি দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে ফের প্রস্তাব পাঠানো। এ ক্ষেত্রে লট ঠিক রেখে প্যাকেজ কমানো অথবা রব্বানী জব্বারসহ বিতর্কিতদের লট বাদ রেখে বাকিগুলো অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসা। কেনাকাটার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর এনসিটিবি ও প্রিন্টার্সদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, পুরো দরপত্র বাতিল হলে সমঝোতার দরপত্র ও আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের রক্ষা করা যাবে না।

এনসিটিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বছরের শুরুতেই রব্বানী জব্বারকে বই ছাপার কাজ না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয় এনসিটিবি ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য গোপনে তার (রব্বানী) সঙ্গে বৈঠক করে দরপত্র দিতে বলেন। এর মধ্যে গত ১৫ জুন আমাদের মাতৃভূমিতে ‘আ.লীগের মন্ত্রীর ভাই পাচ্ছেন ১ কোটি বই ছাপার কাজ’ প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যানকে ডেকে পাঠান শিক্ষা উপদেষ্টা। ‘প্রেস বড়, তাকে কাজ না দিলে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অসম্ভব হবে’—এমন তথ্য দেন চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে তথ্য গোপন করে প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিকের তিনটি করে মোট ছয় লটের কাজ পেয়েছে আনন্দ ও এপ্রেক্স প্রিন্টার্স। গত ২১ আগস্ট তাকে কাজ পাওয়ার সম্মতিপত্র দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে চারটি লটের সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছেন, সেগুলো এখন মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পারচেজ কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরেই তিনি প্রায় ২০ লাখ বইয়ের কাজ পাচ্ছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ১৬ লটের রেসপনসেবল (যোগ্য) হয়েছে। প্রতিটি লটে সাড়ে ৪ লাখ বই ধরলে শুধু তিনটি শ্রেণিতে ৫০ লাখের বেশি বইয়ের কাজ পেয়েছেন রব্বানী জব্বার।

এনসিটিবির তথ্য বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রব্বানী জব্বার প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ বই ছাপার কাজ করেছেন। এর মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ১৯টি লটে ১ কোটি ৩০ হাজার বই, বাকিগুলো প্রাথমিকের। পতিত সরকারের একজন মন্ত্রীর ভাইয়ের এত সংখ্যক বই ছাপার কাজ পাওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এ কাজের সঙ্গে যুক্তরা। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এনসিটিবির একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করছেন এনসিটিবির শীর্ষ ব্যক্তিরা। সংস্থাটিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান নেই গত মার্চ থেকে। চেয়ারম্যানের চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরীর মূল দায়িত্ব সদস্য (কারিকুলাম)। ২০২৪ সালে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার আস্থাভাজন লোক হিসেবে এনসিটিবিতে নিয়ে আসেন দীপু মনির লোক মশিউরকে সরিয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করা এই কর্মকর্তার হাত ধরে আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের কাজ দেওয়া হচ্ছে। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে। তাদের বদলির ফাইল উঠলে বাধা দেন চেয়ারম্যান। এসব কর্মকর্তাকে সরালে দপ্তরটি অচল হয়ে যাবে, এমন অজুহাত দাঁড় করান রবিউল চৌধুরী। তার এসব কাজের সহায়তা করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতার আত্মীয় ড. রিয়াদ চৌধুরী। তার চাকরি জীবনে প্রায় পুরোটাই কেটেছে নায়েম, মাদ্রাসা বোর্ডসহ লোভনীয় দপ্তরগুলোতে।

রব্বানী জব্বারকে কাজ দেওয়ার প্রসঙ্গে রবিউল কবীর চৌধুরী আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী, দরপত্রদাতা সব শর্ত পূরণ করলে তাকেই কাজ দিতে হয়। এনসিটিবি সেভাবেই কাজ করছে এবং কারও কাজ বাতিল করার এখতিয়ার তাদের নেই।’

জানা গেছে, আওয়ামীপন্থি জালাল উদ্দিনের এস আর প্রিন্টার্স চলতি বছর বই ছাপার কাজ পাচ্ছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পরে আওয়ামী লীগ করা এই ব্যক্তি প্রতি বছর নিম্নমানের বই দিতেন। এ কাজে বাধা দিতে গেলেই এনসিটিবির কর্মকর্তাদের হুমকি দিতেন। নিম্নমানের বই আটকানোর কারণে ২০২৪ সালে পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি দেন একজনকে—এমন একটি অডিও পেয়েছে । সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ফোন ধরিস না কেন? তোকে পিটাবো। আমি পিস্তল নিয়ে ঘুরতেছি।’

এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ করার বিষয়টি স্বীকার করেন এস আর প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি এক সময় বাকশাল, পরে যুবলীগ (নানক-আজম কমিটি) করেছি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথাও দলের প্রভাব বিস্তার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছি কেউ বলতে পারবে না।’ তবে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে এনসিটিবির একজন সদস্যের পছন্দের দুটি প্রেস নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও কাজ পেয়েছে। প্রেস দুটি হলো মিরাজ ও রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস। সম্প্রতি টাইমস মিডিয়ার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার শ্রীবাস পাল তন্ময় শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি লেখেন, ‘ই-জিপিতে ভুলবশত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট আপলোড না দেওয়ায় তাদের কাজ বাতিল করা হয়েছে। অথচ মিরাজ ও রাব্বিল প্রিন্টিং নবম শ্রেণির বাংলা-ইংরেজি ভার্সন, দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরের মোট ১১টি লটের ই-জিপি দরপত্রে স্টাফের তালিকা, মেশিনারিজ, প্রশিক্ষিত কম্পিউটার অপারেটর এবং সিসিটিভির বিবরণ জমা দেয়নি। তবুও তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘চলতি বছর নতুন শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক যখন কাউকে ঋণ দেওয়ার সম্মতি বা ক্রেডিট লাইন দেয়, তখন আর সিআইবি রিপোর্টের প্রয়োজন হয় না। প্রেস মালিকদের অহেতুক হয়রানি করতেই এসব শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। অথচ গত বছর যেসব প্রেস নিম্নমানের বই দিয়েছিল, তাদের ধরার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে মিরাজ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন ও রাব্বিল প্রিন্টিংয়ের কর্ণধার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমরা ই-জিপিতে ডকুমেন্ট আপলোড করেছি সেই প্রমাণ রয়েছে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের রাজৈর এ অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা -২০২৬ এর পরীক্ষা শুরু

সাবেক মন্ত্রীর ভাইকে কাজ, আটকে গেল ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র

আপডেট সময় ০৯:৪৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫

আওয়ামী লীগের সাবেক একজন মন্ত্রীর ভাই দেড় কোটির বেশি বই ছাপার কাজ পাচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র আটকে দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ (পারচেজ কমিটি)। গত মঙ্গলবার ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই ছাপানোর তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন হয়। যেখানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের এক মন্ত্রীর ভাইসহ ১২ জন প্রেস মালিকের সঙ্গে সরাসরি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠতার তথ্য আসে। তথ্য গোপন করে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেয় কমিটি। শুধু তাই নয়, পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ রাখা নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। এতে সংস্থাটির ভেতরে চরম অস্থিরতা চলছে। ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের বই সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সূত্রমতে, এনসিটিবিতে পতিত আওয়ামীপ্রীতি নিয়ে তদন্তে নেমেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্য, অতীতের কর্মকাণ্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংস্থাটির শীর্ষ ব্যক্তি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বহাল রাখার চেষ্টাও আটকে গেছে, যা এখন তদন্তে গড়িয়েছে। এমন তৎপরতার পর সোচ্চার হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর। আগামী নভেম্বরে চেয়ারম্যানের চাকরি শেষ হবে, সেজন্য তাকে সরানো যাবে না—মন্ত্রণালয়ের এমন যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য কারিকুলাম প্রণয়ন, পাঠ্যবই ছাপানো মতো স্পর্শকাতর একটি দপ্তরে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাখা নিয়ে বিতর্ক জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ১৯ আগস্ট ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৩২ হাজার ৮০২ কপি বই ছাপানোর জন্য তিনটি প্রস্তাব পারচেজ কমিটিতে উত্থাপন হয়। যার মোট ব্যয় ধরা হয় ৬০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। নানা অভিযোগ তুলে সেটি অনুমোদন দেয়নি কমিটি। কমিটির কাছে অভিযোগ ছিল, চলতি বছর ৩০ কোটির বেশি বইয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কাজ যাচ্ছে আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের কাছে। বিশেষ করে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের ছোট ভাই জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলার আসামি রব্বানী জব্বারের মালিকানাধীন আনন্দ প্রিন্টার্স ও এপেক্স প্রিন্টার্সকে তিন শ্রেণিতে ১৬টি লটে ৭২ লাখ বইয়ের কাজ পাওয়ায় আপত্তি তোলা হয়। সাবেক একজন মন্ত্রীর ভাই এই সময়ে কীভাবে কাজ পায়, সেই প্রশ্ন তুলে বিষয়টি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে জানতে চেয়েছেন কমিটির অন্য সদস্যরা। এ ছাড়া ২২৭টি লটের বিপরীতে ৯টি প্যাকেজ করায় আপত্তি তোলে টেকনিক্যাল কমিটি। একপর্যায়ে পুরো কেনাকাটা স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া সাবেক যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিনের এসআর প্রিন্টার্সসহ আরও ১২টির বেশি প্রিন্টার্সের মালিক, যারা বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের পদপদবিতে ছিলেন তাদের নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এসব আপত্তি আমলে নিয়ে ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। চলতি সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ফাইল নোট আকারে সেগুলো পাঠাবে মন্ত্রিসভা বিভাগের ক্রয় ও অর্থনৈতিক অধিশাখা। পারচেজ কমিটির কাছে উত্থাপিত নথি বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ৯৭টি, সপ্তম শ্রেণির জন্য ৯৪টি এবং অষ্টম শ্রেণির জন্য ৮৯টি—মোট ২৭০টি লটের জন্য ৯টি প্যাকেজ করা হয়েছে, যা পারচেজ কমিটির মতে অনেক বেশি। তারা বলছেন, এখানে সর্বোচ্চ ৫টি প্যাকেজ করা উচিত ছিল। কিন্তু এনসিটিবির একজন সদস্য নিজের পছন্দের ছোট প্রেসকে কাজ দিতে বিগত বছরের প্যাকেজ ভেঙে এবার ৯টি করেছেন।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বেগম বদরুন নাহার আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘পারচেজ কমিটি বই কেনাকাটার প্রস্তাব অনুমোদন করেনি, এটা শুনেছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে অফিসিয়ালি এখনো কিছু জানায়নি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ক্রয় ও অর্থনৈতিক অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান ভূঁইয়া আমাদের মাতৃভূমিকে জানান, বই কেনাকাটার বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আপত্তি ওঠায় উপদেষ্টা কমিটি সেই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়নি। উত্থাপিত আপত্তিগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সূত্রমতে, পারচেজ কমিটি থেকে দুই ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। প্রথমটি দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র দেওয়া; দ্বিতীয়ত, আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি করে ফের প্রস্তাব পাঠানো। এ ক্ষেত্রে লট ঠিক রেখে প্যাকেজ কমানো অথবা রব্বানী জব্বারসহ বিতর্কিতদের লট বাদ রেখে বাকিগুলো অনুমোদনের জন্য নিয়ে আসা। কেনাকাটার প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর এনসিটিবি ও প্রিন্টার্সদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, পুরো দরপত্র বাতিল হলে সমঝোতার দরপত্র ও আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের রক্ষা করা যাবে না।

এনসিটিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বছরের শুরুতেই রব্বানী জব্বারকে বই ছাপার কাজ না দেওয়ার জন্য পরামর্শ দেয় এনসিটিবি ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই সুপারিশকে পাশ কাটিয়ে চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য গোপনে তার (রব্বানী) সঙ্গে বৈঠক করে দরপত্র দিতে বলেন। এর মধ্যে গত ১৫ জুন আমাদের মাতৃভূমিতে ‘আ.লীগের মন্ত্রীর ভাই পাচ্ছেন ১ কোটি বই ছাপার কাজ’ প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার পর চেয়ারম্যানকে ডেকে পাঠান শিক্ষা উপদেষ্টা। ‘প্রেস বড়, তাকে কাজ না দিলে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অসম্ভব হবে’—এমন তথ্য দেন চেয়ারম্যান। এরই মধ্যে তথ্য গোপন করে প্রাক প্রাথমিক ও প্রাথমিকের তিনটি করে মোট ছয় লটের কাজ পেয়েছে আনন্দ ও এপ্রেক্স প্রিন্টার্স। গত ২১ আগস্ট তাকে কাজ পাওয়ার সম্মতিপত্র দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে চারটি লটের সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছেন, সেগুলো এখন মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পারচেজ কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরেই তিনি প্রায় ২০ লাখ বইয়ের কাজ পাচ্ছেন। অন্যদিকে মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ১৬ লটের রেসপনসেবল (যোগ্য) হয়েছে। প্রতিটি লটে সাড়ে ৪ লাখ বই ধরলে শুধু তিনটি শ্রেণিতে ৫০ লাখের বেশি বইয়ের কাজ পেয়েছেন রব্বানী জব্বার।

এনসিটিবির তথ্য বলছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রব্বানী জব্বার প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ বই ছাপার কাজ করেছেন। এর মধ্যে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে ১৯টি লটে ১ কোটি ৩০ হাজার বই, বাকিগুলো প্রাথমিকের। পতিত সরকারের একজন মন্ত্রীর ভাইয়ের এত সংখ্যক বই ছাপার কাজ পাওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এ কাজের সঙ্গে যুক্তরা। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা।

এনসিটিবির একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করছেন এনসিটিবির শীর্ষ ব্যক্তিরা। সংস্থাটিতে নিয়মিত চেয়ারম্যান নেই গত মার্চ থেকে। চেয়ারম্যানের চলতি দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরীর মূল দায়িত্ব সদস্য (কারিকুলাম)। ২০২৪ সালে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার আস্থাভাজন লোক হিসেবে এনসিটিবিতে নিয়ে আসেন দীপু মনির লোক মশিউরকে সরিয়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করা এই কর্মকর্তার হাত ধরে আওয়ামীপন্থি প্রিন্টার্সদের কাজ দেওয়া হচ্ছে। বিগত সরকারের সুবিধাভোগী অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে। তাদের বদলির ফাইল উঠলে বাধা দেন চেয়ারম্যান। এসব কর্মকর্তাকে সরালে দপ্তরটি অচল হয়ে যাবে, এমন অজুহাত দাঁড় করান রবিউল চৌধুরী। তার এসব কাজের সহায়তা করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতার আত্মীয় ড. রিয়াদ চৌধুরী। তার চাকরি জীবনে প্রায় পুরোটাই কেটেছে নায়েম, মাদ্রাসা বোর্ডসহ লোভনীয় দপ্তরগুলোতে।

রব্বানী জব্বারকে কাজ দেওয়ার প্রসঙ্গে রবিউল কবীর চৌধুরী আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী, দরপত্রদাতা সব শর্ত পূরণ করলে তাকেই কাজ দিতে হয়। এনসিটিবি সেভাবেই কাজ করছে এবং কারও কাজ বাতিল করার এখতিয়ার তাদের নেই।’

জানা গেছে, আওয়ামীপন্থি জালাল উদ্দিনের এস আর প্রিন্টার্স চলতি বছর বই ছাপার কাজ পাচ্ছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পরে আওয়ামী লীগ করা এই ব্যক্তি প্রতি বছর নিম্নমানের বই দিতেন। এ কাজে বাধা দিতে গেলেই এনসিটিবির কর্মকর্তাদের হুমকি দিতেন। নিম্নমানের বই আটকানোর কারণে ২০২৪ সালে পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি দেন একজনকে—এমন একটি অডিও পেয়েছে । সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ফোন ধরিস না কেন? তোকে পিটাবো। আমি পিস্তল নিয়ে ঘুরতেছি।’

এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ করার বিষয়টি স্বীকার করেন এস আর প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমি এক সময় বাকশাল, পরে যুবলীগ (নানক-আজম কমিটি) করেছি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথাও দলের প্রভাব বিস্তার করে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছি কেউ বলতে পারবে না।’ তবে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

এদিকে এনসিটিবির একজন সদস্যের পছন্দের দুটি প্রেস নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও কাজ পেয়েছে। প্রেস দুটি হলো মিরাজ ও রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস। সম্প্রতি টাইমস মিডিয়ার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার শ্রীবাস পাল তন্ময় শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে এমন অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি লেখেন, ‘ই-জিপিতে ভুলবশত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট আপলোড না দেওয়ায় তাদের কাজ বাতিল করা হয়েছে। অথচ মিরাজ ও রাব্বিল প্রিন্টিং নবম শ্রেণির বাংলা-ইংরেজি ভার্সন, দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরের মোট ১১টি লটের ই-জিপি দরপত্রে স্টাফের তালিকা, মেশিনারিজ, প্রশিক্ষিত কম্পিউটার অপারেটর এবং সিসিটিভির বিবরণ জমা দেয়নি। তবুও তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘চলতি বছর নতুন শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক যখন কাউকে ঋণ দেওয়ার সম্মতি বা ক্রেডিট লাইন দেয়, তখন আর সিআইবি রিপোর্টের প্রয়োজন হয় না। প্রেস মালিকদের অহেতুক হয়রানি করতেই এসব শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। অথচ গত বছর যেসব প্রেস নিম্নমানের বই দিয়েছিল, তাদের ধরার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে মিরাজ প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন ও রাব্বিল প্রিন্টিংয়ের কর্ণধার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। আমরা ই-জিপিতে ডকুমেন্ট আপলোড করেছি সেই প্রমাণ রয়েছে।’