ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা

আন্দোলন, পদত্যাগ ও কর্মবিরতি: সংকটে ডিআইইউ ইইই বিভাগ

শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।
আন্দোলনের সূচনা
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি তুলে আন্দোলন চালায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভাগের সুষ্ঠু পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এবং একাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও ইইই ব্যাকগ্রাউন্ডের চেয়ারম্যান প্রয়োজন।
তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল—
একজন শিক্ষক একসাথে দুই ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান থাকা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা
স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতমূলক পরিচালনা
রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা
আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেককে চেয়ারম্যান করার দাবি তোলে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ পদত্যাগপত্র দেন।পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দেন অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ। তিনি বলেন,
“আসসালামু আলাইকুম। আমিআজকে ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। গত প্রায় এক বছরে আমি আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি, আঘাত দিয়েছি, অনেক ভুল করেছি—সবকিছুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের কাছে ঋণী। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের জন্য দোয়া রইল। ইইই সামনে আরও এগিয়ে যাক—এই কামনাই রেখে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।”
শিক্ষকদের ভিন্নমত
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, “তারেক স্যারের মাধ্যমেই মব সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তারেক স্যারের নামেই স্লোগান দিচ্ছিল।”
প্রভাষক সারিকা মানজুম ইসলাম মনে করেন, “যে মানুষটি শিগগিরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তাকে সরানোর দাবি যৌক্তিক নয়।”
অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক বলেন, “এটি আসলে এক ধরনের প্রতিবিপ্লব। আমার সময়েও কিছু শিক্ষার্থী মব তৈরি করেছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটল।”
কর্মবিরতির ঘোষণা
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ইইই বিভাগের শিক্ষকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রভাষক হাসিবুল হাসান ভূঁইয়া আবিদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের আচরণ আমাদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা সবাই পদত্যাগ করব।”
প্রভাষক সারিকা মানজুম ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের দ্বারা অসম্মানিত হলে শিক্ষা দেওয়া আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। তাই আমরা কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।”
তবে সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক দাবি করেন, “কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। শিক্ষকরা শুধু ইভিনিং শিফটে ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। কর্মবিরতির জন্য জোরপূর্বক সই করানো হয়েছে।”
বিভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করছেন, তাদের মধ্যে কোনো দল নেই। তবে শিক্ষার্থীরা দুই দলে বিভক্ত। আবার অন্যদিকে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে।
অনিশ্চয়তায় ক্লাস কার্যক্রম
চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির ঘোষণার পরও ইইই বিভাগে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। শিক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ক্লাস কার্যক্রম চালু হবে কি না—এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত
এদিকে শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বোর্ড অফ ট্রাস্টি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানা গেছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিপ্লোমা পাস করার ৩ বছর পূর্বেই সহকারী কৃষি শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছে আবুল কালাম আজাদ

আন্দোলন, পদত্যাগ ও কর্মবিরতি: সংকটে ডিআইইউ ইইই বিভাগ

আপডেট সময় ১১:১১:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন।
আন্দোলনের সূচনা
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি তুলে আন্দোলন চালায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিভাগের সুষ্ঠু পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এবং একাডেমিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও ইইই ব্যাকগ্রাউন্ডের চেয়ারম্যান প্রয়োজন।
তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল—
একজন শিক্ষক একসাথে দুই ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান থাকা
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা
স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতমূলক পরিচালনা
রাজনৈতিক প্রভাব ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা
আন্দোলনের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেককে চেয়ারম্যান করার দাবি তোলে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ পদত্যাগপত্র দেন।পদত্যাগের পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দেন অধ্যাপক মো. আব্দুল বাসেদ। তিনি বলেন,
“আসসালামু আলাইকুম। আমিআজকে ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। গত প্রায় এক বছরে আমি আপনাদের অনেক কষ্ট দিয়েছি, আঘাত দিয়েছি, অনেক ভুল করেছি—সবকিছুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আপনাদের সর্বোচ্চ দিয়ে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের কাছে ঋণী। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনাদের জন্য দোয়া রইল। ইইই সামনে আরও এগিয়ে যাক—এই কামনাই রেখে বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।”
শিক্ষকদের ভিন্নমত
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করেন, “তারেক স্যারের মাধ্যমেই মব সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা তারেক স্যারের নামেই স্লোগান দিচ্ছিল।”
প্রভাষক সারিকা মানজুম ইসলাম মনে করেন, “যে মানুষটি শিগগিরই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তাকে সরানোর দাবি যৌক্তিক নয়।”
অপরদিকে সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক বলেন, “এটি আসলে এক ধরনের প্রতিবিপ্লব। আমার সময়েও কিছু শিক্ষার্থী মব তৈরি করেছিল। এবারও একই ঘটনা ঘটল।”
কর্মবিরতির ঘোষণা
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ইইই বিভাগের শিক্ষকরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রভাষক হাসিবুল হাসান ভূঁইয়া আবিদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের আচরণ আমাদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা সবাই পদত্যাগ করব।”
প্রভাষক সারিকা মানজুম ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের দ্বারা অসম্মানিত হলে শিক্ষা দেওয়া আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। তাই আমরা কর্মবিরতিতে যাচ্ছি।”
তবে সাবেক চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ তারেক দাবি করেন, “কেউ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। শিক্ষকরা শুধু ইভিনিং শিফটে ক্লাস না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। কর্মবিরতির জন্য জোরপূর্বক সই করানো হয়েছে।”
বিভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করছেন, তাদের মধ্যে কোনো দল নেই। তবে শিক্ষার্থীরা দুই দলে বিভক্ত। আবার অন্যদিকে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে আন্দোলনে নামিয়েছে।
অনিশ্চয়তায় ক্লাস কার্যক্রম
চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির ঘোষণার পরও ইইই বিভাগে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। শিক্ষকদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ক্লাস কার্যক্রম চালু হবে কি না—এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত
এদিকে শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বোর্ড অফ ট্রাস্টি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানা গেছে।