সংবাদ শিরোনাম ::
বনবিভাগের মালি বাউন্ডারি শহিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ভুয়া সনদে চাকরি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ মাসে ৩৬৫ শিশুর জনগ্রহণ, নরমাল ৩৪৭ এবং সিজার ১৮টি আর্জেন্টিনার ৬৮ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি আদ-দ্বীন গল্প-কাহিনী লিখেছে, তাদের জবাবে সন্তুষ্ট নই : স্বাস্থ্যমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক সংক্রান্ত সালিশের সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে নিহত ১, আহত প্রায় ১০ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সুদানে শহীদ ৬ সেনাসদস্যের স্ত্রীর হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী পুলিশের জন্য কেনা হচ্ছে ২১২ ডাবল কেবিন পিকআপ নাড়ুর নামে কুরিয়ারে এলো ১৪ কেজি গাঁজা

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ মাসে ৩৬৫ শিশুর জনগ্রহণ, নরমাল ৩৪৭ এবং সিজার ১৮টি

দিনাজপুরেরর ফুলবাড়ী ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত পাঁচ মাসে ৩৬৫জন শিশু গ্রহণ করে করেছে। এরমধ্যে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ৩৪৭জন এবং সিজারের মাধ্যমে ১৮জন জন্মগ্রহণ করেছে। বর্তমানে নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মা উভয়ই স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছেন।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের চেয়ে নরমাল ডেলিভারির (স্বাভাবিক প্রসব) মাধ্যমে সন্তান জন্মদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান জন্মদানে আগ্রহ বাড়ছে।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৩৪৭জন নরমাল ডেলিভারি এবং ১৮জন শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৮১জন নরমাল ডেলিভারি ও ৪জন সিজার, ফেব্রয়ারিতে ৬৯জন নরমাল ও ৪জন সিজার, মার্চে ৬৪জন নরমাল ও ৩জন সিজার, এপ্রিলে ৬১জন নরমাল ও ৪ জন সিজার এবং মে মাসে ৭২জন নরমাল ডেলিভারি ও ৩জন সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে।

       স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুর জন্মের পরেই একটি করে সনদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে শিশুদের সহজেই জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য কাজে লাগতে পারে।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানকারি মা মোমেনা আক্তার জানান, প্রথমে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বাস্থ্য সম্মত ও নিরাপদে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পেটের সন্তান জন্ম দিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিতে গেলে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক টাকাও লাগেনি। উপরোন্ত তারাই বাড়ীর নিজের মতো করে সেবা দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকত ও দক্ষতার কারণেই স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যেগুলো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান প্রসব করানো সম্ভব নয় এবং প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি থাকে শুধুমাত্র সেগুলোকেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ববর্তী ও প্রসব-পরবর্তী সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদানের কারণে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও বাড়ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এবং নরমাল ডেলিভারি নিরাপদে করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও যে সকল রোগীর কোনোভাবেই নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। তবে অবেদনবিদ (এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট) এর পদ শূন্য থাকায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট ডা. পারভেজ সপ্তাহে দুইদিন রবিবার ও মঙ্গলবার এখানে আসেন। তবে এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট স্থায়ীভাবে থাকলে সিজার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতো কয়েকগুণ বেশি। শুধুমাত্র এ্যানেসথেসিওলজিষ্টের শূন্যতার জন্য চাহিদানুযায়ী সিজার করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আইনিকে ফুলবাড়ী থেকে বদলী করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ত্যাগ করলে প্রসূতিদের সিজার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি রোগীর পরিবারের কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বনবিভাগের মালি বাউন্ডারি শহিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ মাসে ৩৬৫ শিশুর জনগ্রহণ, নরমাল ৩৪৭ এবং সিজার ১৮টি

আপডেট সময় ০৩:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দিনাজপুরেরর ফুলবাড়ী ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত পাঁচ মাসে ৩৬৫জন শিশু গ্রহণ করে করেছে। এরমধ্যে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ৩৪৭জন এবং সিজারের মাধ্যমে ১৮জন জন্মগ্রহণ করেছে। বর্তমানে নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মা উভয়ই স্বাভাবিক ও সুস্থ রয়েছেন।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারের চেয়ে নরমাল ডেলিভারির (স্বাভাবিক প্রসব) মাধ্যমে সন্তান জন্মদান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকের চেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সন্তান জন্মদানে আগ্রহ বাড়ছে।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৩৪৭জন নরমাল ডেলিভারি এবং ১৮জন শিশু সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে। এরমধ্যে জানুয়ারিতে ৮১জন নরমাল ডেলিভারি ও ৪জন সিজার, ফেব্রয়ারিতে ৬৯জন নরমাল ও ৪জন সিজার, মার্চে ৬৪জন নরমাল ও ৩জন সিজার, এপ্রিলে ৬১জন নরমাল ও ৪ জন সিজার এবং মে মাসে ৭২জন নরমাল ডেলিভারি ও ৩জন সিজারের মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেছে।

       স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুর জন্মের পরেই একটি করে সনদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে শিশুদের সহজেই জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য কাজে লাগতে পারে।

       উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্মদানকারি মা মোমেনা আক্তার জানান, প্রথমে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বাস্থ্য সম্মত ও নিরাপদে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পেটের সন্তান জন্ম দিয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিতে গেলে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় হতো। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক টাকাও লাগেনি। উপরোন্ত তারাই বাড়ীর নিজের মতো করে সেবা দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফদের আন্তরিকত ও দক্ষতার কারণেই স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যেগুলো কোনোভাবেই স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান প্রসব করানো সম্ভব নয় এবং প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি থাকে শুধুমাত্র সেগুলোকেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রসব-পূর্ববর্তী ও প্রসব-পরবর্তী সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদানের কারণে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও বাড়ছে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এবং নরমাল ডেলিভারি নিরাপদে করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ মিডওয়াইফসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও যে সকল রোগীর কোনোভাবেই নরমাল ডেলিভারি করা সম্ভব হয় না, সেগুলোকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। তবে অবেদনবিদ (এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট) এর পদ শূন্য থাকায় বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট ডা. পারভেজ সপ্তাহে দুইদিন রবিবার ও মঙ্গলবার এখানে আসেন। তবে এ্যানেসথেসিওলজিষ্ট স্থায়ীভাবে থাকলে সিজার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতো কয়েকগুণ বেশি। শুধুমাত্র এ্যানেসথেসিওলজিষ্টের শূন্যতার জন্য চাহিদানুযায়ী সিজার করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা আইনিকে ফুলবাড়ী থেকে বদলী করে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ত্যাগ করলে প্রসূতিদের সিজার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি রোগীর পরিবারের কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না।