বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরে শহীদ মুখতার ইলাহী হলে সাইকেল ও মোটরসাইকেল চুরি রোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে হল প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে “সাইকেল ও মোটরসাইকেল কার্ড” ব্যবস্থা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) হল প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এখন থেকে কোনো শিক্ষার্থী যদি শহীদ মুখতার ইলাহী হলের গ্যারেজে সাইকেল বা মোটরসাইকেল রাখতে চান, তাহলে তাকে গ্যারেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। একইসঙ্গে খাতায় নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন করতে হবে। পরবর্তীতে গ্যারেজ থেকে সাইকেল বা মোটরসাইকেল বের করার সময় কার্ডটি জমা দিতে হবে। এ সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না।
দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরীরা জানান, পূর্বে অনেক সময় বহিরাগত ব্যক্তি বা চোরচক্র শিক্ষার্থীদের সাইকেল নিয়ে চলে যেত। প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন কার্ড পদ্ধতি চালু হওয়ায় এখন সহজেই প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা যাবে।
শহীদ মুখতার ইলাহী হলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আল আমিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুবিধা ও সাইকেল-মোটরসাইকেলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই প্রশাসন এই কার্ড ব্যবস্থা চালু করেছে। কার্ডটি সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদেরও কোনো ভোগান্তি হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এখন থেকে কার্ড ছাড়া কেউ গ্যারেজ থেকে সাইকেল বা মোটরসাইকেল নিতে পারবে না। এতে চুরি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, “অনেক সময় বন্ধু পরিচয়ে কেউ সাইকেল নিয়ে যেতে চায়, কিন্তু পরে দেখা যায় সেটি প্রকৃত মালিকের অনুমতি ছাড়া নেওয়া হয়েছে। কার্ড ব্যবস্থা থাকলে প্রকৃত মালিক ছাড়া অন্য কেউ সহজে সাইকেল নিতে পারবে না।”
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে সাইকেল হারিয়ে গেলে হল প্রশাসন দায় এড়িয়ে যেত। তবে এখন কার্ড পদ্ধতি চালু হওয়ায় প্রশাসনকেও জবাবদিহির মধ্যে আনা সম্ভব হবে। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “হলের সার্বিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের সাইকেল-বাইক চুরি রোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই কার্ড সিস্টেম চালু করা হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে তাদের যানবাহন রাখতে পারুক।”
মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি 






















