গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে নোয়াখালীর কৃষকরা। চলতি বছর অধিক লাভের আশায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করে লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গত ৮ই জুলাই থেকে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এ অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করে তাদের মাথায় হাত পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালে জেলার সদর, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচর উপজেলায় মালচিং (মাচা) পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ হয়। গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কম খরচে ভালো ফলন হয়। এর ফলে অধিক লাভের আশায় কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকেছেন। সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আবদুল কাদের (৪৮)। তিনি জানান, মালচিং পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় তিনি গত ৪ বছর ধরে অফ সিজন তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি বছর তিনি ৬০ শতক জমিতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ৮-১০ জুলাই টানা প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তার পুরো ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে সব গাছ মারা যায়। ফলে একটা তরমুজও বিক্রি করতে পারেননি। এতে করে তার ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, এনজিও থেকে লোন নিয়ে তরমুজ চাষ করেছি। জুলাই মাসের শেষের দিকে তরমুজ বিক্রি করে এনজিও ঋণ পরিশোধ করার আশা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে। পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের আরেক কৃষক মো. জাফর মিয়া ৩০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তার ক্ষেতের সবগুলো গাছ মরে যাওয়ায় তার দুই লাখ টাকার বেশি লোকসান হয়েছে বলে জানান। সুবর্ণচর উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নের চর নোঙ্গলিয়া গ্রামের কৃষক মফিজ মাঝি (৬৫) বলেন, চলতি বছর তরমুজ চাষ করে তার কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তরমুজ গাছ মরে গিয়ে এই অবস্থা হয়েছে। কৃষিবিভাগের কোনো লোক আসে না। কোনো পরামর্শও দেয় না। প্রণোদনা তো দূরের কথা। একই উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষি মো. শামছুদ্দিন বলেন, চলতি বছর তিনি ২০ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তিনি এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করার পর গাছ মরে গেছে। তিনি আরও কমপক্ষে দুইলাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারতেন। চাষিদের অভিযোগ অস্বীকার করে সুবর্ণচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা ও আমি নিজে বিভিন্ন ইউনিয়নে সরজমিন পরিদর্শন করে থাকি। এরপরও যদি কোনো কৃষকের অভিযোগ পাই তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মীরা রানী দাস দৈনিক দেশের কথা কে বলেন, জুলাই মাসের ৮ তারিখ থেকে প্রবল বর্ষণে ও জলাবদ্ধতায় তরমুজসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চলমান জলাবদ্ধতায় আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শরৎকালীন শাক সবজিসহ কৃষি ফসলের ৫১ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাদের প্রণোদনা দেয়ার জন্য অধিদপ্তরে চিঠি লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করা হবে।
বদিউজ্জামান (তুহিন) নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ 























