ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ, থানায় এজাহার চাঁদপুরে গণমানুষের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উদযাপিত কমিশনে দলীয় লোক বসিয়ে স্থানীয় নির্বাচন দখলের পরিকল্পনা করছে বিএনপি ইতালিতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার রেকর্ড করলেন মেলোনি গোমস্তাপুরে ডিএনসির অভিযানে ১.৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ১ বিরোধীদল সংসদে সুন্দর কথা বলে, আর বাহিরে ৭১’র রূপ ধারণ করে: এ্যানি স্ত্রীর মারধরের দাবি করে মদপান, ভিডিও ভাইরালের পর নৌ পুলিশের এসআই প্রত্যাহার চলে গেলে কেউ দেবে না, তাই বিভিন্ন স্থাপনায় নিজের নাম দিচ্ছি: ট্রাম্প মরণফাঁদে কুমিল্লা সদরের রঘুপুর সড়ক, দুর্দশায় ১৩ হাজার মানুষ লং মার্চের নামে বিরোধী দল জ্বালানি অপচয় করছে : মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী
সাংবাদিকদের হাতুড়িপেটা

পাঠদান বুঝতে পারে না শিক্ষার্থীরা, অভিযোগ করায় ৪১ জনকে বেত্রাঘাত

শিক্ষকের পাঠদান বুঝতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এজন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষককে পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের পেটান শিক্ষক। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এ ঘটনার খোঁজ নিতে গেলে শিক্ষকদের উস্কানিতে তাদের ওপর হামলা করে কিছু শিক্ষার্থী। তারা হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে গুরুতর আহত করে।

আহতরা হলেন রুপালী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম, একাত্তর টিভির ফটোগ্রাফার হাফিজুর রহমান, প্রাইম টিভির সাকের আহমেদ ও অভিভাবক ওমেদ আলী।

স্থানীয়রা জানান, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুন্না সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরা তার পাঠদান স্পষ্টভাবে বুঝতে না পেরে প্রধান শিক্ষকের কাছে তাকে পরিবর্তনের আবেদন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৪১ শিক্ষার্থীকে উপর্যপুরি বেত্রাঘাত করেন মুন্না। পরে আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন সাংবাদিকরা। এসময় অন্তত তিনজন শিক্ষক সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। শতাধিক ছাত্র লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের গাড়িচালক ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। এদের মধ্যে রাকিবকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নূরে আলম, ঘটনায় জড়িত শিক্ষক মুন্নাকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী এবং সাংবাদিকদের হামলায় উস্কানির অভিযোগে আরও তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক তানভীর হোসেন মুন্না পলাতক রয়েছেন। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ, থানায় এজাহার

সাংবাদিকদের হাতুড়িপেটা

পাঠদান বুঝতে পারে না শিক্ষার্থীরা, অভিযোগ করায় ৪১ জনকে বেত্রাঘাত

আপডেট সময় ০৭:১৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

শিক্ষকের পাঠদান বুঝতে পারে না শিক্ষার্থীরা। এজন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষককে পরিবর্তনের দাবি ওঠে। এজন্য ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের পেটান শিক্ষক। আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এ ঘটনার খোঁজ নিতে গেলে শিক্ষকদের উস্কানিতে তাদের ওপর হামলা করে কিছু শিক্ষার্থী। তারা হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে গুরুতর আহত করে।

আহতরা হলেন রুপালী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি রাকিবুল ইসলাম, একাত্তর টিভির ফটোগ্রাফার হাফিজুর রহমান, প্রাইম টিভির সাকের আহমেদ ও অভিভাবক ওমেদ আলী।

স্থানীয়রা জানান, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুন্না সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরা তার পাঠদান স্পষ্টভাবে বুঝতে না পেরে প্রধান শিক্ষকের কাছে তাকে পরিবর্তনের আবেদন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ৪১ শিক্ষার্থীকে উপর্যপুরি বেত্রাঘাত করেন মুন্না। পরে আহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার দাবি করেন।

খবর পেয়ে ছুটে আসেন সাংবাদিকরা। এসময় অন্তত তিনজন শিক্ষক সাধারণ শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। শতাধিক ছাত্র লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাংবাদিকদের গাড়িচালক ইকবাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। এদের মধ্যে রাকিবকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিক নূরে আলম, ঘটনায় জড়িত শিক্ষক মুন্নাকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী এবং সাংবাদিকদের হামলায় উস্কানির অভিযোগে আরও তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক তানভীর হোসেন মুন্না পলাতক রয়েছেন। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।