গত বছরের ০৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমূদয়কাঠী ইউনিয়নে চাঁদাবাজি, সালিশ বানিজ্য, প্রতিপক্ষের উপর হামলা, পাল্টা হামলা, জমি দখল, থানার নাম ভাংগিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়সহ মামলা বানিজ্যের মহোৎসব শুরু হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে এলাকাবাসী প্রতিবাদী হয়ে উঠলে সরাসরি চাঁদাবাজি ও সালিশ বানিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়ে। থানার দালালিও কিছুটা গোপনে চলে যায়। কিন্তু বৃদ্ধি পায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করার প্রবনতা। এসব মামলাকে রাজনৈতিক মামলা বলে চালিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা থাকলেও মামলায় আসামি করা হয় জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, সরকারি চাকরিজীবি, স্কুল শিক্ষক, ব্যাবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে। এসকল মিথ্যা মামলায় কেউ কেউ কারাগারেও রয়েছে। মিথ্যা মামলাবাজরা তার চাহিদা মতো টাকা পেয়ে কোনো কোনো আসামীকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে এভিডেভিড দেয়ার প্রমানও রয়েছে।
সম্প্রতি সমূদয়কাঠীর সেহাংগল গ্রামের রাইয়ান সাইদ ফয়সাল নামে এক যুবক মিথ্যা মামলার ফাঁদ পেতে নেছারাবাদ থানায় একটি তারিখ বিহীন অভিযোগ দাখিল করে। দাখিলকৃত অভিযোগে ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, শিক্ষক, সরকারি চাকরিজীবি, ছাত্র যুবক সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ১৪ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে বিবাদী করা হয়। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে ২০২৪ সালের ০২ আগস্ট আসামিরা তার বাড়িতে হামলা করে ২ লাখ টাকা নিয়ে যায় এবং আরো ৩ লাখ টাকা চাদা দাবী করে। যাহা এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। যে লোক নেশাগ্রস্ত,চোর, এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তার কাছে সরকারি চাকরিজীবিরাও চাঁদা চেয়েছে। সে নিজেকে বিএনপি ঘরনার দাবি করে নেতাদের নির্দেশে অভিযোগ করেছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। এ বিষয় ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের গোচরীভূত হলে তারা পরিস্কার জানিয়ে দেয় এ লোক তাদের দলের কেউ নয় এবং এ দরখাস্তের সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এ মিথ্যা দরখাস্তের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে এলাকার সাধারণ জনগন। বিএনপি নেতাদের নাম ভাংগিয়ে দরখাস্ত করায় বিএনপির একাংশের আয়োজনে সেহাংগল বাজারে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তাদের বক্তব্য সূত্রে উঠে এসেছে বিভিন্ন তথ্য। তাদের বক্তব্য সূত্রে জানা যায় কিছুদিন পূর্বে মুন্না নামে এক যুবক প্রতিপক্ষকে সায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে নগদ টাকা নিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য আদালতে একটি এভিডেভিড দাখিল করে। কিন্তু আদালত এভিডেভিড আমলে না নিয়ে মামলার আসামী সমূদয়কাঠীর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির বেপারিকে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এ ঘটনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে এলাকার একটি কুচক্রী মহল মামলা বানিজ্যের উদ্দেশ্যে রাইয়ান সাইদ ফয়সালকে টাকার লোভ দেখিয়ে থানায় একটি দরখাস্ত দায়ের করিয়েছে। তারা বলেন, দরখাস্তকারী ঐ যুবক একজন নেশাগ্রস্ত এবং ভবঘুরে। ফয়সালের মা এবং মামীর বক্তব্যেও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তারা উভয়ে বলেন, নেশাগ্রস্ত, চোর, এবং ভবঘুরে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার স্ত্রীও সন্তানসহ পিত্রালয়ে চলে গেছে। তারা আরও বলেন, কেউ হয়ত নেশার টাকার লোভ দেখিয়ে তার দ্বারা দরখাস্ত করিয়েছে। পুলিশ দরখাস্তের ভিত্তিতে এলাকায় গিয়ে জনসমক্ষে তদন্ত করে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো সাক্ষী পায়নি। এছাড়াও তদন্তের সময় অভিযোগকারীও উপস্থিত ছিল না বলে জানা গেছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, আমাদের এলাকায় বিএনপি নামধারী একদল ভবঘুরে রয়েছে। যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সকল নির্বাচনে কাজ করেছে। এখন তারা রাতারাতি বিএনপি বনে গেছে। এদের উপার্জনের স্থায়ী কোনো পেশা নাই। তাই তারা চাঁদাবাজি, সালিশ বানিজ্যে ও মিথ্যা মামলা বানিজ্যেকে জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করেছে। এরা সমাজের চিহ্নিত। এদের অতীত এবং বর্তমান অপকর্মের তথ্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান। এ ছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, বিগত দুটি ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে হেরে যাওয়া জনৈক ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং এনজিও পরিচালক এসকল মিথ্যা মামলা দায়েরের পিছনে অর্থ দিয়ে এবং সূক্ষ্ণ পরিকল্পনার মাধ্যমে কলকাঠি নাড়ছে। ঐ সূত্রগুলি আরও জানায়, আগামী ইউপি নির্বাচনে তার বিরোধী শক্তিকে মাঠে দূর্বল করার জন্য ঐ এনজিও পরিচালক মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তার সাথে রয়েছে এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সেহাংগল গ্রামের কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবিও পরিকল্পনায় রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসংগে সমূদয়কাঠীর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল ইসলাম সাইদ বলেন, বিগত ১/১১ এর সময় যে চক্রটি আমার বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল তারা এখন সক্রিয়। তারা তাদের হিংস্র থাবায় এ শান্ত জনপদকে অশান্ত করে তোলার মিশনে নেমেছে। তিনি এলাকার জনসাধারণকে ঐ চক্রটির কর্ম কান্ডের বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন এলাকার পরিস্থিতি এভাবে থাকবে না। ইনশাআল্লাহ নেতৃত্বের পরিবর্তন আসবে। খুব শীঘ্রই জনসমক্ষে কুচক্রী মহলের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 






















