সংবাদ শিরোনাম ::
খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা ভাওরা হাই স্কুল এন্ড কলেজে মাদক বিরোধী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ডা. মাহফুজ রায়হান আক্কেলের বদলিতে উদ্বিগ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউপির দুর্নীতি মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানের ৫ বছর, সচিবের ৩ বছর জেল জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ফরিদপুর জেলা ইউনিট অনুমোদিত  চীনে প্রথম ‘বিনিয়োগ কার্যালয়’ খোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বাংলা‌দে‌শিদের জন্য দুই বছর পর ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করছে ভারত নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই : শিক্ষামন্ত্রী মির্জাপুরের অভিযান চালিয়ে ৫০০ পিস ই-য়াবাসহ তিন জন আ’টক মনোহরগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন

তারাকান্দার সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তার অফিস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন রহমত উল্লাহ লতিফ। সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি তারাকান্দা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি হাতীবান্ধা, কলমাকান্দা, গফরগাঁও ও কান্দিপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রারদের দুই বছর পর বদলির নিয়ম থাকলেও, তিনি মাত্র চার মাসের ব্যবধানে তারাকান্দায় যোগদান করেছেন, যা প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা, প্রতি লাখ টাকায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও বেশি হারে ঘুষ আদায় করা হয়। ওয়ারিশ সূত্রে ভূমি রেজিস্ট্রেশনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। এমনকি ছোটখাটো নামের পার্থক্য থাকলেও ১০ হাজার টাকার উৎকোচ ছাড়া দলিল নিবন্ধন করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার
সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সহকারী ফারহানা রেজিনকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় দলিল লেখক ও দলিল গ্রহীতারা জানান, ঘুষ না দিলে তাদের দলিল আটকে রাখা হয় কিংবা অকারণে হয়রানির শিকার হতে হয়।
সম্পদের জবাবদিহি নেই
স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফ ও তার স্ত্রী (ধোবাউড়া সাব-রেজিস্ট্রার) প্রচুর অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তাদের আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে।
তদন্ত দাবি
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল দখলের থাবায় বিপন্ন ভোলা-জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

তারাকান্দার সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তার অফিস কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
২০১৭ সালে ৩৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন রহমত উল্লাহ লতিফ। সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি তারাকান্দা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি হাতীবান্ধা, কলমাকান্দা, গফরগাঁও ও কান্দিপাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রারদের দুই বছর পর বদলির নিয়ম থাকলেও, তিনি মাত্র চার মাসের ব্যবধানে তারাকান্দায় যোগদান করেছেন, যা প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা, প্রতি লাখ টাকায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও বেশি হারে ঘুষ আদায় করা হয়। ওয়ারিশ সূত্রে ভূমি রেজিস্ট্রেশনে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। এমনকি ছোটখাটো নামের পার্থক্য থাকলেও ১০ হাজার টাকার উৎকোচ ছাড়া দলিল নিবন্ধন করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার
সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সহকারী ফারহানা রেজিনকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় দলিল লেখক ও দলিল গ্রহীতারা জানান, ঘুষ না দিলে তাদের দলিল আটকে রাখা হয় কিংবা অকারণে হয়রানির শিকার হতে হয়।
সম্পদের জবাবদিহি নেই
স্থানীয়দের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার রহমত উল্লাহ লতিফ ও তার স্ত্রী (ধোবাউড়া সাব-রেজিস্ট্রার) প্রচুর অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তাদের আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এসব অভিযোগ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে।
তদন্ত দাবি
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চ পর্যায়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে রহমত উল্লাহ লতিফের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।