ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু

দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিকের হাতে জিম্মি ডিএসসিসি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)এর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের রাতের ভোটে নির্বাচিত পলাতক সাবেক মেয়র তাপসের ঘনিষ্ঠ সহচর রফিকুল ইসলাম এখনো দাবড়ে বেড়াচ্ছেন ডিএসসিসি। তৃতীয় শ্রেণীর এই কর্মচারীর ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তার ক্ষমতার ভয়ে ঠিকাদাররা তটস্থ।
জানাগেছে, রফিকুল ইসলাম ডিএসসিসির সহ সচিব প্রশাসন -১ হিসেবে চলতি দায়িত্বে আছেন। তার মূল পদ হচ্ছে বাজার সুপারভাইজার। ১৪ গ্রেডের কর্মচারী ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসন -২ এ সহ সচিব এর দায়িত্ব পালনকারী আরেক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বাবর আলী কে কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অপসারণ করেছে। এখন প্রশাসন ১ ও ২ উভয় শাখার সহ সচিব এর দায়িত্ব পালন করছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সাবেক মেয়র তাপসের আত্মীয় রফিকুল ইসলাম। অথচ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা বিনা কাজে বসে আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এর উত্থান এর পিছনে রয়েছেন ডিএসসিসির আরেক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সচিব বাসিরুল হক ভূঁইয়া। বাসিরুল হক ভূঁইয়া ভান্ডার বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালে খিলগাঁও জোনের বাজার সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম কে তার পি এ হিসেবে নিয়ে আসেন। ভান্ডার বিভাগের সকল ক্রয় দরপত্র রফিক নিয়ন্ত্রণ করতেন। অনিয়ম দুর্নীতির বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি থাকার কারণে বাসিরুল হক ভূঁইয়া রফিকুল ইসলাম কে পিএ বানিয়ে নিয়ে আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে রফিক মেয়র তাপসের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো দরপত্র তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তিনি নিজে বেনামে ঠিকাদারি কাজ করছেন।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোল পালটানো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সচিব বাসিরুল হক ভূঁইয়া দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত রফিকুল ইসলাম কে সহ সচিব এর দায়িত্ব প্রদান করেন। সহ সচিব এর দায়িত্ব পেয়ে রফিক এখন কেবল দরপত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, ডিএসসিসির নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি সব নিয়ন্ত্রণ করছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা বিনা কাজে বসে আছেন। অথচ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক কে দিয়ে প্রশাসন চালাচ্ছেন। ক্ষমতার দম্ভে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক এখন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা করছেন না। অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।
তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক কে সহ সচিব পদ থেকে অপসারণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করার জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসির সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য রফিকুল ইসলাম ও বাসিরুল হক ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিকের হাতে জিম্মি ডিএসসিসি

আপডেট সময় ১০:২৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ মে ২০২৫

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)এর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের রাতের ভোটে নির্বাচিত পলাতক সাবেক মেয়র তাপসের ঘনিষ্ঠ সহচর রফিকুল ইসলাম এখনো দাবড়ে বেড়াচ্ছেন ডিএসসিসি। তৃতীয় শ্রেণীর এই কর্মচারীর ক্ষমতার দাপটের কাছে অসহায় প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। তার ক্ষমতার ভয়ে ঠিকাদাররা তটস্থ।
জানাগেছে, রফিকুল ইসলাম ডিএসসিসির সহ সচিব প্রশাসন -১ হিসেবে চলতি দায়িত্বে আছেন। তার মূল পদ হচ্ছে বাজার সুপারভাইজার। ১৪ গ্রেডের কর্মচারী ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসন -২ এ সহ সচিব এর দায়িত্ব পালনকারী আরেক তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বাবর আলী কে কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি অপসারণ করেছে। এখন প্রশাসন ১ ও ২ উভয় শাখার সহ সচিব এর দায়িত্ব পালন করছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সাবেক মেয়র তাপসের আত্মীয় রফিকুল ইসলাম। অথচ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা বিনা কাজে বসে আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম এর উত্থান এর পিছনে রয়েছেন ডিএসসিসির আরেক আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সচিব বাসিরুল হক ভূঁইয়া। বাসিরুল হক ভূঁইয়া ভান্ডার বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালে খিলগাঁও জোনের বাজার সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম কে তার পি এ হিসেবে নিয়ে আসেন। ভান্ডার বিভাগের সকল ক্রয় দরপত্র রফিক নিয়ন্ত্রণ করতেন। অনিয়ম দুর্নীতির বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাতি থাকার কারণে বাসিরুল হক ভূঁইয়া রফিকুল ইসলাম কে পিএ বানিয়ে নিয়ে আসেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে রফিক মেয়র তাপসের আত্মীয় পরিচয় দিতেন। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পুরো দরপত্র তিনি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তিনি নিজে বেনামে ঠিকাদারি কাজ করছেন।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোল পালটানো আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সচিব বাসিরুল হক ভূঁইয়া দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত রফিকুল ইসলাম কে সহ সচিব এর দায়িত্ব প্রদান করেন। সহ সচিব এর দায়িত্ব পেয়ে রফিক এখন কেবল দরপত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, ডিএসসিসির নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি সব নিয়ন্ত্রণ করছেন। হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তারা বিনা কাজে বসে আছেন। অথচ তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক কে দিয়ে প্রশাসন চালাচ্ছেন। ক্ষমতার দম্ভে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক এখন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা করছেন না। অফিসের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।
তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী রফিক কে সহ সচিব পদ থেকে অপসারণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যে তার সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করার জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসির সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
এবিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য রফিকুল ইসলাম ও বাসিরুল হক ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।